সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম সিরাজের সহচর

অধ্যক্ষ তাহমিনা বেগম সিরাজের সহচর

doinik71.com
doinik71.com

আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মামলা নিয়ে কুৎসাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তাহমিনা বেগম নামের একজন শিক্ষিকা। নুসরাত জাহান রাফিকে নিয়ে এবার আপত্তিকর মন্তব্যের একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল তাহমিনা বেগম এমন মন্তব্য করেছেন বলে দুইজন ছাত্রী ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। সাথে সাথে অন্যরাও শেয়ার করতে থাকে।

এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঝড় বইছে। তাহমিনা রুমি নামে এক ছাত্রী তার ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, নুসরাত মেয়েটা ধোয়া তুলসী পাতা ছিল না এমন মন্তব্য করেছেন প্রিন্সিপাল। মেয়েটার সাথে যেটা করা হয়েছে এর জন্য সে নিজেই দায়ী। ম্যাডামের কাছে মানববন্ধনের অনুমতি নিতে গেলে তিনি এমন বাজে মন্তব্য করেন।

তবে বিষয়টি পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করেছেন ওই কলেজের প্রিন্সিপাল তাহমিনা বেগম। তিনি বলেন, শনিবার কয়েকজন মেয়ে আমার কাছে এসে মানববন্ধনের অনুমতি চেয়েছিলেন এই কথাটা সত্য তবে আমি নুসরাতকে নিয়ে কখনো কোন বাজে মন্তব্য করিনি বরং আমি এটা বলেছি যেহেতু বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন তাই এনিয়ে মানববন্ধনের কি দরকার! শুধু এটুকুই বলেছি। নুসরাতকে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়ে ফেইসবুকে যে মেয়েটি পোস্ট দিয়েছে তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমি তাকে চিনি না। তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি, তারপর দেখবো বিষয়টা।

কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, শনিবার ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত ঘটনা নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচারের দাবীতে তারা মানববন্ধন করতে অনুমতি চান অধ্যক্ষের কাছে। একজন নারী হয়ে কিভাবে তিনি এতো আপত্তিকর মন্তব্য করতে পারেন, সেটাও ভাববার বিষয়। অনুমতি তো দেননি ফেনী কলেজের ওই প্রিন্সিপাল বরং এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করে নুসরাতকে নিয়ে আপত্তিকর বাজে মন্তব্য করেন।

সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের ছাত্রী তাহমিনা রুমি ও স্নিগ্ধা জাহান রিতা এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে সেটি মুহুর্তের মধ্যেই সারাদেশের মানুষের মাছে ছড়িয়ে পরে। আন্দোলনে ফেঁসে উঠে প্রবাসী বাঙ্গালিরাও।

ফেসবুকে রিতা লিখেছেন, আজ নুসরাত রাফি হত্যার বিচার দাবিতে ফেনী সরকারি জিয়া মহিলা কলেজ এর ব্যানারে আমরা একটা মানববন্ধন করতে আমাদের কলেজ প্রিন্সিপাল তাহমিনা বেগম ম্যাডামের কাছে অনুমানিক সকাল নয় টায় অনুমতির জন্য গিয়েছিলাম। তারপর ম্যাডাম যা বললেন তা শুনার জন্য মোটেই কেউ প্রস্তুত ছিলাম না । ম্যাডাম বললেন, নুসরাতকে তার স্যার বলছিল পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেবে তাই নুসরাত নিজ ইচ্ছায় স্যারের কাছে গিয়েছিল, এসব মেয়েদের পরিণতির জন্য এরাই দায়ী। এদের কাজই নিজের দেহকে পুঁজি করে এসমস্ত কাজ করা। আমরা জেনেছি এতোদিন ধরে কলেজের পিওনকে দিয়ে নুসরাতকে ডাকা হয়েছিল প্রিন্সিপ্যাল সিরাজ সাহেবের অফিসে। 
আর এখন শুনছি রাফি নিজেই গিয়েছিল। আমরা কি এতোদিন ভুল জানতাম? আমাদের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছে মিডিয়া? এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছা হয়। কে দিবে এই উওর? কোথায় পাবো সে উত্তর? সে অনেক বাজেভাবে মন্তব্য করেন।

ম্যাডাম আরো বলেছিলেন, অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ঘটছে, কারণ বর্তমান মেয়েরা অনেক লোভী। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। এটার জন্য মানববন্ধন করতে আমি কখনোই অনুমতি দেব না। তিনি অনুমতি দেননি। শিক্ষার্থীরা শতো অনুনয় বিনয় করলেও তিনি কোন ভাবেই অনুমতি দেননি। যারা অনুমতি নিতে গিয়েছিল তাদেরকেও ইঙ্গিতপূর্ন ভাবে হেয় করে কথা বলেন তিনি।

এদিকে বিষয়টি জানতে প্রিন্সিপাল তাহমিনা বেগমকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে অসংখ্যবার ফোন কল করা হয়। পরে যখন তাকে ফোন করা হয় তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে তাহমিনা বেগমের সাথে সিরাজ-উদ-দৌলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের নিয়ে অনেক আপত্তিকর মন্তব্য-ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমানে ভাইরাল। তাহমিনা বেগম প্রসঙ্গক্রমে বিষয়টি একেবারে অস্বিকার করেছেন। তিনি এরকম কোন মন্তব্যই নাকি করেন নি। তবে কি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে? 
কে সত্যি বলছে?
ম্যাডামের বিরুদ্ধে কথা বলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কি লাভ হতে পারে?

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840