সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
অপরাধের দায়ভার বনাম সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি: নুর আহমদ সিদ্দিকী

অপরাধের দায়ভার বনাম সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি: নুর আহমদ সিদ্দিকী

চরমোনাই পীর মুফতি ফয়জুল করিম
চরমোনাই পীর মুফতি ফয়জুল করিম

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন হইয়া দাঁড়িয়েছে পরিবারের কেউ একজন অপরাধ করিলে তাহার দায়ভার পুরো পরিবারের উপর চাপিয়া দিতেও আমরা দ্বিধাবোধ করিতেছি না।

বাবা অপরাধ করিলে সন্তানদের অপরাধি ভাবিয়া বিভিন্ন শাস্তির আওতায় আনা আইয়ামে জাহেলিয়াতের সংস্কৃতি চর্চার নামান্তর। সন্তান চুরি করিলে পুরো পরিবারের সদস্যরা অপরাধি কেন হইবে?

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ রহিয়াছে যাহাদের দুটি পা হওয়া স্বর্থেও তাদের আচণে প্রমাণিত হইতেছে তাহারা চতুষ্পদ জন্তু জানোয়ারের চাইতে নিকৃষ্ট অবস্থানে চলিয়া গিয়াছে। তাহাদের কাজ হইল সকাল সন্ধ্যা অন্যের কুৎসা রটিয়ে মনোতৃপ্তি ওছিল করিয়া সুখে থাকিবার ব্যর্থ চেষ্টা।

তাহারা ভুলিয়া গিয়াছে অন্যের গিবত করিয়া, অন্যকে গালমন্দ করিয়া অতীতে যেমন কেহ ভাল থাকিতে পারে নাই তাহারাও পারিবেনা। অন্যের প্রতি হিংসা একজন মানুষকে জন্তুর মত বানাইয়া দেয়। হিংসা করিয়া নিজের অন্তর জ্বলিয়া যাইবে কিন্তু অপরের সামান্যতমও ক্ষতি হইবে না।

উন্নতি দাতা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। সেখানে কাহারো উন্নতিতে আপনি অসন্তুষ্ট হইয়া হিংসা করিলে আল্লাহর সিন্ধান্তের বিরোধিতা হইবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা) বলিয়াছেন – হিংসা নেক আমল সমূহেকে সেভাবেই জ্বালাইয়া ধ্বংস করিয়া দেয় যেভাবে আগুন শুকনো কাঠ কে জ্বালিয়া ছাই করিয়া দেয়।

হে বন্ধু, আপনি হিংসা করিয়া উন্নতি ঠেকাইতে পারিবেন না যদি স্বয়ং বিধাতা উন্নতি প্রদান করিয়া থাকেন।

আমরা এমন এক হিংসুটে জাতিতে রূপ নিতেছি যাহারা শত্রুকে গায়েল করিতে মিথ্যাকে আকড়াইয়া ধরিতেও কুন্ঠবোধ করিতেছিনা। সত্যকে মিথ্যা আর ডাহা মিথ্যাকে যাহারা সত্য বলিয়া প্রচার করিতেছেন তাহাদের না আছে প্রভু ভয় না আছে শিষ্টাচার।

তাহারা মানুষ হইয়া জন্মিলেও তিল পরিমাণ মনুষ্যত্ববোধ তাহাদের হৃদয়ে স্থান করিয়া নিতে পারে নাই। তাহাদের হাঁটাতে হিংসা,বসাতে হিংসা,ঘুমাতে হিংসা। সদা মনের মধ্যে লুকাইয়া থাকে অপরের ক্ষতি সাধন করিবার বাসনা। তাহাদের যদি কেহ মানুষ বলিয়া ডাকিয়া থাকে তা হইলে সেজন মানুষ জাতিকে অপমাণ করিয়াছেন।

আমরা সবাই খুঁজিয়া ফিরিয়াছি অন্যের যত দোষ

নিজের লুঙ্গি খুলিয়া গিয়াছে নাহি আজই হুশ

হুজুগের ঠেলায় চলিতেছে সমাজ সবখানে হৈ চৈ

কখন তাদের চেতনা ফিরিবে সেই অাশায় জাগিয়া রই।

আমি কাহারো উলঙ্গ সমালোচনা করিবার পক্ষে নহি।আমি তাহাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার সহিত বলিতেছি, হে বন্ধু হিংসা নামক ব্যধি থেকে নিজেকে বাঁচাইতে না পারিলে পরকালে নাজাত পাইবেন কি করিয়া?

অনেকে মিথ্যা প্রচার করিতেছে চরমোনাই পীর সাহেব ভন্ড। আমি তাহার ভন্ডবী কিছু দেখিতে পাই নাই। যাহারা পীর সাহেব চরমোনাইর বিরোধিতা করিতে গিইয়া তাহাকে ভন্ড বলিতে দ্বিধা করেনা তাহাদের বিবেকের দরবারে আমার প্রশ্ন হইল আসলেই কি সেজন ভন্ড?

নাকি হিংসা করিয়া এমন আজগুবি কথা প্রচার করিয়া জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াইতেছেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাহার বিরোধিতা করিয়া আপনি কতটা লাভবান হইয়াছেন সেটা বুঝিতে না পারিলেও পীর সাহেব চরমোনাই সত্যি অনেক লাভবান হইতেছেন।

আপনার গিবতের কারণে তাহার পাপ সমূহ দূর হইতেছে।আপনার মিথ্যা প্রচারের কারণ অনেকে সত্যটা জানিবার জন্য তাহার নিকট যাইতে আরম্ভ করিতেছে। মানুষ যখন তাহার সান্নিধ্যে যাইয়া তাহার কোন ভন্ডামি পায়না তখন তাহারাও পীর সাহেব চরমোনাই ভক্ত হইয়া যাইতেছে। চিন্তা করিয়া দেখুন তো আপনি তাহার ক্ষতি করিয়াছেন নাকি লাভ করিয়াছেন?

হযরত মুহাম্মদ (সা) যখন সত্যের পয়গাম নিয়ে পৃথিবীতে মহান আল্লাহর দ্বীন প্রচার করিতেছে অনেকে সত্যকে ঠেকাইতে মুহাম্মদ কে পাগল বলিয়া সাব্যস্ত করিয়াছিল। সাধারণ মানুষ ভাবিল মুহাম্মদ কেমন পাগল তাহা একটু দেখিতে হইবে।

যাহারা মুহাম্মদ (সা) কে দেখিতে যাইত তাহারা মুহাম্মদের ( সা) মুখ নিসৃতবাণী তথা পবিত্র কোরআনের বাণী শুনিয়া কালমা পড়িয়া মুসলমান হইতে শুরু করিয়াছিল।তখন কাফেরগণ অধিকতর চিন্তিত হইয়া বলিতে লাগিল যাহা কে সত্য প্রচার থেকে বিরত রাখিতে পাগল আখ্যা দিয়াছি তাহার কাছে মানুষ দেখিতে যাইয়া দলে দলে মুসলমান হইতেছে। তাহাকে কতল করিয়া দিতে হইবে।এভাবেই যুগে যুগে সত্যকে ঠেকাইতে কিছু মানুষ নামের চতুষ্পদী জানোয়ারের আবির্ভাব ঘটিয়া থাকে যাহারা ছলে বলে কৌশলে সত্যকে দমিয়া রাখিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হইয়া যায়।

মনে রাখিতে হইবে সত্য সমাগত মিথ্যা পরাজিত।যুগে যুগে সত্যের জয় সূচিত হইয়াছে আর মিথ্যা হইয়াছে পরাজিত।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর হইয়াও কেন রাজনীতি করিতেছেন সে জন্যে অনকের সহ্য হইতেছে না।তিনি যদি পীর মুরিদি লইয়া পরিয়া থাকিতেন তখন তিনি ভাল হইতেন।

রাজনীতি কি খারাপ?

যদি আপনি রাজনীতিকে খারাপ ভাবিয়া থাকেন তাহলে আপনি নবী ও খোলাফায়েরাশেদীনের চরম বিরুধিতা করিতেছেন। মুহাম্মদ (সা) রাজনীতি করিয়াছিল। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানও ছিলেন । শুধু তাই না তাহার অনুসারিদের মধ্যে চার জন বিখ্যাত সাহাবী রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যদি পীর সাহেব চরমোনাই কে খারাপ মনে করিয়া থাকেন তাহইলে সেটা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা না করিয়া কেন মিথ্যা অপবাদ আর বিষোদগার করিতেছেন? তাহার ভাই ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, নির্বাচনের সময় তিনি সরকার হইতে ৯০ কোটি টাকা লইয়া নির্বাচন করিয়াছিল এসব স্বস্তা বুলি উড়াইয়া তাহার যত টুকু ক্ষতি করিতে পারেননি এর চাইতে বেশি লাভ করিয়াছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন মিথ্যাচার করিয়া সুন্দর পরিবেশ কে যাহারা বিষিয়ে তুলিতেছেন তাহাদের মানুষ ভাবিতে আমার দ্বিধা হইতেছে। যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনাও রাজনীতির অংশ।

তাই বলিয়া ডাহা মিথ্যাকে সত্য বলিয়া প্রচার করিবার নাম রাজনীতি নহে। তাহা হইল নোংরামী আর মিথ্যাচার।এটা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হইতে পারেনা।যাহারা সত্যকে দমিয়া রাখিতে চরমোনাই পীর সাহেব কে নিয়ে বিভিন্ন কুৎসা রটিতেছেন তাহাদের কেউ মানুষ বলিলেও আমি তাহাদের মানুষ বলিতে পারিতেছিনা বলে দুঃখিত হইলাম।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840