সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
অবশেষে ভারতের সাথে প্রথম ও ঐতিহাসিক জয়

অবশেষে ভারতের সাথে প্রথম ও ঐতিহাসিক জয়

বাংলাদেশ ভারত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট
বাংলাদেশ ভারত টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট

অবশেষে প্রথমবারের মত ভারতকে টি২০ তে হারাল বাংলাদেশ। হারাল বললেও ভুল হবে ভারতেকে বাংলাদেশ উড়িয়ে দিয়েছে গতকাল। মুশফিকুর রহিমের প্রতিশোধের ম্যাচে অপরাজিত ৬০ রান করে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের বড় জয়টাই এনে দেয়। এর মাধ্যমেই তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়েও গেল বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহিম মাত্র ৪৩ বলে অপরাজিত ৬০, সৌম্য সরকারের ৩৫ বলে করা ৩৯ ও নাঈম শেখের ২৬ রানের সঙ্গে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯.৩ ওভারে ১৫৪ রান করে জিতে বাংলাদেশ। ম্যাচ নিজেদের করেনে ব্যাক টু ব্যাক টারটা বাউণ্ডারি হাঁকিয়ে যা মুশফিক করেন ১৯ তম ওভারে।

টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দিল্লীর অরুণ জেটলি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত আগে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে খুব কাজে লাগাতে পারেনি। শিখর ধাওয়ানের ৪১ ও ঋষভ পন্থের ২৭ এর উপর ভর করে ৬ উইকেট খরচায় ২০ ওভারে ১৪৮ রান তুলতে সক্ষম হয় ভারত।

শফিউল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব দুর্দান্ত বোলিং করেন। ২ উইকেট করে নেয় এই দুই বোলার। আফিফ হোসেন ধ্রুবও (৩-০-১১-১) ভারতের রানের চাকা দুর্বল করে রাখেন। আফিফ হোসেন এর উপর ভরসা যেন বেড়েই চলেছে রোজ।

সাকিব আল হাসান এর উপর নিষেধাজ্ঞা। তামিম ইকবালের বিশ্রাম। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেইএর ইনজুড়ি তিনিটি বিষয়েই কথা বলছিলেন বারবার ক্রিকেট বোদ্ধারা। তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ছাড়া কি করবে বাংলাদেশ? কেমন হবে তাদের ভারত সিরিজ? সে সব কল্পনাকে নিরসন করে প্রথম ম্যাচেই জিতল বাংলাদেশ। ভারতের বিরুদ্ধে টানা ৮টি টি২০ ম্যাচে হারের পর নবম ম্যাচে এসে জিতল বাংলাদেশ। এ যেন এক অধরা স্বপ্ন হলো ধরাশায়ী।

লিটন কুমার দাস দায়িত্বজ্ঞানহীন একটি সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান প্রথম ওভারেই যা তাকে পুনরায় সমালোচকদের রোষানলে ফেলে। কোথায় দলকে জেতানোর জন্য খেলে যাবেন, তা না করে দ্রুতই আউট হয়ে গেলেন বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ ওইকেট কিপার কাম ওপেনিং ব্যাটসম্যান। তবে অভিষিক্ত নাঈম শেখ ঠিকই দ্যুতি ছড়িয়ে যান। তার ব্যাটেই ভর করে প্রথম ধুমধারাক্কা ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৪৫ রান করে ফেলে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে গিয়ে ৬২ রান করে বাংলাদেশ। যা দলের জন্য চাপ মনে হচ্ছিল।

সৌম্য সরকার আর মুশফিকুর রহিম উইকেট আকড়ে ধরেন। এরাই ম্যাচ জেতানোর আশা জাগান। দুইজনই চমৎকার ব্যাটিং করতে থাকেন। তৃতীয় উইকেটে দুইজন মিলে ৫০ রানের জুটিও গড়ে ফেলেন। জয়ের আশা ভালভাবেই জাগিয়ে সমানতালে রানও করতে থাকেন তারা। ভারত চাপে পরে যায়। বারবার বোলার পরিবর্তন। কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা। ডট বল বাড়াতে থাকে ভারত।

জেতার জন্য দরকার ১৯ বলে দরকার ৩৫ রান। তখন খলিল আহমেদের স্লোয়ার বল বুঝতে না পেরে বোল্ড করে হয়ে যান সৌম্য। ৬০ রানের জুটি ভেঙ্গে যায়। চাপে পরে বাংলাদেশ। দলের সংগ্রহ ১১৪। ভারত ডট বল দেয়ার একটা ফায়দা তুলে নেয়। আশারবানী ওইকেটে আসে মাহমুদুল্লাহ্।

মুশফিকের সঙ্গে এবার যোগ হন মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদ। হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় সবার। ম্যাচ কি হাত থেকে আবার-ও বেড়িয়ে গেল! ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাঙ্গালুরুতে শেষ ওভারের প্রথম ৩ বলে ৯ রান করেও পরবর্তী ৩ বলে গিয়ে ৩ ওইকেট দিয়ে ১ রানে হারা ম্যাচের স্মৃতিও জেগে ওঠে।

তখনও নিশ্চিত জেতা ম্যাচের সেই ওইকেটে ছিলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। জয়ের কাছেও নিয়ে যান তারা। আবার ডুবিয়েও দেন তাদেরই হাতে। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার আর সেই সুযোগ দেননি মুশফিক। সেবার শেষ ওভারের ২য় ও ৩য় বলে চার হাঁকিয়ে পরের বলে সিঙ্গেল না নিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হোন তিনি আর এবার ১৯ তম ওভারের শেষ চারটি বলে পর পর বাউন্ডারিতে ১৬ তুলে শেষ ওভারে আনুষ্ঠানিকতায় জড়ান শুধু। মধুর প্রতিশোধ নিয়ে নেয় মুশফিক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840