সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
আখতার বানু শেফালির ২ টি সেরা কবিতা

আখতার বানু শেফালির ২ টি সেরা কবিতা

আখতার বানু শেফালি
আখতার বানু শেফালি

কেউ ফেরে না
আখতার বানু (শেফালী)
——————————————-
কুয়াশা মাখা এক শরতের ভোরে
আমি একা বসে আছি দোল চেয়ারে।
চারিদিকে পাখির কিচির মিচির,
টুপটাপ ঝরে পড়ে ভোরের শিশির।
হঠাৎ যেন দখিনের দুয়ার ঠেলে,
আমার দ্বারে তুমি এলে,
দেখতে আমায় কেমন আছি তোমায় বিনে।

আমি ভিষণ চমকে গিয়ে শুধাই তোমায়,
কোথায় ছিলে? কেন গেলে? কেমনে এলে?
ঠোটের পরে আঙুল চেপে বললে যেন চুপ চুপ ,চুপ,
বলেই যেন মিলিয়ে গেলে।

একা আমি বসে থাকি দোল চেয়ারে,
কতো স্মৃতি ভেসে উঠে চোখের পরে।

কোন এক চৈত্র দিনের নিঝুম দুপুর
কেউ পাশে নেই,
ঝিঁঝিঁরা বাজিয়ে চলে ঘুমের নূপুর।

পূবের ঘরের বারান্দাটার চৌকিটাতে
হাতের উপর মাথা রেখে শুয়ে আছি একলা আমি,
কোথায়ও কাছে উদাস সুরে
চলছে ডেকে বিরহী এক ঘুঘু পাখী।

সেই ডাকেতে আমার প্রান করছে হুহু,
হঠাৎ তুমি কোথা হতে বসলে
এসে আমার পাশে।
ধরফড়িয়ে উঠে বসে ব্যাকুল স্বরে শুধাই তোমায়,
কোথায় ছিলে? এতোদিনে আমার কথা পড়লো মনে?

ঠোটের পরে আঙুল চেপে বললে যেন
চুপ চুপ চুপ বলেই কোথায় মিলিয়ে গেলে।
জলে ভরা আঁখি, আমি বসে থাকি
দুরে কোথায়ও চোখ গেলো চোখ গেলো বলে
কেঁদে ফিরে পাখি।

বাইরে শ্রাবণ ধারা অবিরাম ঝর ঝর ঝরে
সেই শ্রাবণের ধারার সাথে,আমার চোখের
ধারা মিলে,বালিশ ভিজে কোন এক শ্রাবণ রাতে,
তোমার কথা স্মরণ করে,
হঠাৎ পাশে কার নিঃশ্বাসে চমকে উঠে
খুঁজে বেড়াই,কোথায় তুমি?কখন এলে?
বললে কোথায়ও যাইনি আমি,পাশেই আছি
বলেই কোথায় মিলিয়ে গেলে।

আমি উঠে আলো জ্বালাই, হাতড়ে বেড়াই,
কে যে বলে ভূুল সবি, কেউ আসে না,
যে যায় সে যায়,সে কভু আর ফেরে না।
বাইরে শ্রাবণ ধারা ঝর ঝর ঝরে,
একা আমি জেগে থাকি চোখ জলে ভরে।

সেদিন দুজনে।
আখতার বানু শেফালী।
——————————–
একটা সময়ের কথা মনে পড়ে,
মনে হয়, এইতো সেদিন,আসলে সেদিন নয়,
বহু কাল, বহু বর্ষ আগে,স্বাধীনতারও আগে।

সেদিন যেনো কি একটা দিবস ছিলো?
সারা শহরে আলোক সজ্জা হয়েছিলো
,তুমি দেখে এসে বলেছিলে, যাবে?
যাবে আলোক সজ্জা দেখতে?
সারা ময়মনসিংহ শহর ভাসছে আলোর বন্যায়,
আমি বলেছিলাম,চলো কেনো নয় যাবো?
আকাশে মেঘেদের ডমরু উপেক্ষা করে,
বেড়িয়েছিলাম আমরা দুজনে ,
অবোধ কিশোর কিশোরীর মতো।

তোমার পরনে ছিলো সাদা সার্ট,সাদা প্যান্ট,
আমি লাল শাড়ীতে লজ্জাবতী,লাল অর্ধাঙ্গীনি
আর সারা শহরময় বৃষ্টির পানিতে আলোর ছড়াছড়ি।
তারপর গাঙ্গীনার পাড়, পার না হতেই,শুরু ধূমল বৃষ্টি।

সেকি বৃষ্টি? মনেহয় আকাশ যেন গলে গলে পড়ছে,
ভিতু আমি বলি,ওগো তাড়াতাড়ি ঘরে চলো।
সাহসী তুমি রিক্সার হুড ফেলে দিলে,বললে অসম্ভব,
আজ সারা রাত আমরা বাইরে থাকবো,
আমাদের আজ কোনো ঘর নেই,আজ আমরা নীড়হারা,
বাঁধন হারা প্রাণ।

আজ আমরা সারা শহর ঘুরবো বৃষ্টিতে ভিজে,
দেখবো সারা শহরের আলোর বন্যা।
তারপর সার্কিট হাউজ ঘুরে ঈদ গাঁ মাঠের কাছে
আসতেই শুরু হলো আমার হ্যাঁচ্ছো!

তুমি বললে, তুমিতো রসাতলে যাচ্ছো,
চলো ফেরা যাক,এবার শুরু তোমারও হ্যাঁচ্ছো!
হুড খোলা রিক্সায় দুজনে ভিজে কাদা কাদা,
বাসায় এসে দেখি, আমার লাল শাড়ীর কাঁচা রংয়ে
তোমার সাদা প্যান্ট শার্টের বাম পাশ অর্ধেক লাল,
দেখে তুমি কপট রাগে বলো, এটা কি হলো?
আমি হেসে বলি ওগো রাগ করো নাকো,লক্ষীটি
এই জন্যই তো কবি বলিয়াছেন তুমি আমার অর্ধাঙ্গ।।

লেখিকা সম্পর্কে দুটি কথা: প্রবাস জীবনে বসে পরম মমতাবরে নিজ মাতৃভাষায় এক সাহিত্য অমৃত তিনি আমাদের জন্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা ক্রমশই সমৃদ্ধ করছে আমাদের বাংলা সাহিত্যকে। তার প্রতিটি লেখায় রয়েছে শিক্ষনীয় বেশ কিছু দিক। তার প্রতিটি লেখায় থাকে কোন না কোন মেসেজ। তিনি প্রবাস জীবনে বসে যতোটা এই দেশকে নিয়ে ভাবেন আমি দ্বিতীয়টি আর পাইনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840