সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
আবরার থেকে ভিপি নুর বনাম লজ্জিত বাংলাদেশ

আবরার থেকে ভিপি নুর বনাম লজ্জিত বাংলাদেশ

আবরার থেকে ভিপি নুর বনাম লজ্জিত বাংলাদেশ
আবরার থেকে ভিপি নুর বনাম লজ্জিত বাংলাদেশ

আজ লজ্জাও লজ্জিত তাদের কর্মকান্ডে। স্বাধীন দেশে এতটা নৃশংসতা ও বর্বরতায় বাকরুদ্ধ বাংলাদেশ। মানবিকতা, মানবতা,সুশাসন যেন আজ খাঁচায় বন্দি।ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের জন্যে। কিন্তু আজ তারা সেই সব কথা ভুলে গিয়ে রাজনীতিকে করেছে কলঙ্কিত। চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুন খারাপিকে তারা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। একের পর এক নৃশংসতার জন্ম দিচ্ছে এক সময়ের সব চেয়ে জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বপ্নের ছাত্রলীগের ইতিহাস রচিত হচ্ছে ধর্ষণ, খুন, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মত কলঙ্কের মধ্য দিয়ে।বিশ্বজিৎ হত্যা থেকে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড প্রমাণ করেছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ছাত্রলীগের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে বহু আগেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে ছাত্ররা পড়ালেখায় মগ্ন থাকবে সেখানে আজ চলছে অস্ত্রের মহড়া।

দেশের পাবলিক ইউনিভার্সিটি গুলো আজ যেন মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছে।হল দখল আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুরু হয় অস্ত্রের মহড়া। অস্ত্রের ঝনঝনানিতে কেঁপে উঠে ক্যাম্পাস। ভয়ে তটস্থ হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিঘ্নিত হয় শিক্ষার সুষ্টু পরিবেশ। আবরার ফাহাদ হত্যার পরেও শোধরায়নি ছাত্রলীগ।বরং দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। জন্ম দিচ্ছে একের পর এক নৃশংসতার।

আবরার ফাহাদ হত্যার পর ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধের দাবী উঠে। অনেকেই দাবী করে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি নিষিদ্ধের। কেউ বা দাবি করেছিল ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়নি। শুধু মাত্র বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধে করেছে বুয়েট প্রশাসন। বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যু জাতিকে সব চেয়ে বেশি ব্যথিত করেছিল। আলোচিত হয়েছিল বিশ্বব্যাপি।

আন্তর্জাতিক গগণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করেছে আবরার হত্যার ঘটনা।অনেকেই মনে করেছিল ছাত্রলীগ কিছুটা সহনশীল হবে কিন্তু যেই সেই, কোন পরিবর্তন হয়নি। আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছিল দেশের পক্ষে কথা বলায়।ভারতের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির সমালোচনা করার কারণেই আবরার কে হত্যা করা হয়েছিল। নিজ দেশকে গালি দিলে সমাস্যা নেই কিন্তু ভারতকে গালি দিলে, তার যৌক্তিক সমালোচনা করলেই পিটিয়ে মারা হবে। কারণ ভারতের বিজেপির গোলামরা এদেশের রয়েছে।

মোদির সমালোচনা করলে তাদের সহ্য হয়না। মোদির দালালরা বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে আছে। মোদির সরকারের এন.আর.সির বিরোধীতা করার কারণে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলা করেছে ছাত্রলীগ। ভিপি নুর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলেনি বলেছিল মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে। এতেই ছাত্রলীগ ভিপি নুরের উপর হামলা করে।

পর দিন হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে গেলে সেখানেও হামলা করে।আজ রবিবার ডাকসুর প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে ভিপি নুর ও তার অনুসারীদের নৃশংসভাবে পিটিয়েছে। ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে দুইজনকে। সেই দুইজন আইসিইউতে রয়েছে। মিডিয়ার তথ্যমতে ২২ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া দুই ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কজনক। বাঁচবে কিনা এখনো চিকিৎসকরা নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইশা ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন।

ভিপি নুরকে দেখতে গিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুর্নীতির দায়ে বহিঃস্কৃত ও ডাকসুর জিএস রব্বানির নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে জানা যায়। রব্বানি মিডিয়াতে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছে, ভিপি নুর আহত নাকি নিহত ডাজ নট ম্যাটার।

এত সাহস কোথায় পেল রব্বানি? ছাত্রলীগ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে তাকে বহিঃস্কার করেছিল।আবারো সে নৃশংস হামলা করার সাহস কোথা থেকে পেল? তাদের পেছনে কি কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে? ডাকসু ভিপি নুর কে হত্যা করার মানসে আজ তারা হামলা চালিয়েছে। ছাত্রলীগ কি আওয়ামী লীগের কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে নাকি লেলিয়ে দিয়েছে বুঝে উঠতে পারছি না।

আবরার ফাহাদ হত্যার পর আবারো কোন মায়ের কোল খালি হোক তা বাংলাদেশের কোন মানুষ চায়না। ভিপি নুর হেরে গেলে হেরে যাবে বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ ছাত্রলীগের লাগাম টানুন অন্যথায় নৌকা তটে নয় ডুববে বঙ্গোপসাগরে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী, কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840