সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
আমরা সবাই নিজের অজান্তেই জিম্মি

আমরা সবাই নিজের অজান্তেই জিম্মি

জিম্মিদশায় আমরা সবাই
জিম্মিদশায় আমরা সবাই

আপনি কি বাংলাদেশের নাগরিক? যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনিও কারো না কারো কাছে জিম্মি। যেমন ধরেন,আজ আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠলাম। বাসের হেলপার এক টানা বলেই যাচ্ছে চাঁদপুর বাঁশখালী ৫০ টাকা অথচ চট্টগ্রাম শাহ আমানত সেতু থেকে বাঁশখালী চাঁদপুর বাস স্টেশনের ভাড়া মাত্র ২৫ টাকা।

বৃহস্পতিবার হলে শহরের মানুষ গ্রামমুখী হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগায় পরিবরণ গুলো। এতগুলো লোক কেউ প্রতিবাদ করেনি। আমি প্রতিবাদ করতে গেলেই যাত্রীরাই আমাকে থামিয়ে দিয়েছে। এই থামিয়ে দেওয়ার কারণে আমরা জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষ যেন জিম্মি আজ। আপনি আদালতে যাবেন সেখানে আপনি অসাধু আইনজীবীদের কাছে জিম্মি। আপনি যাবেন থানায়, যাবেন সরকারি অফিস আদালত ও হাসপাতালে সেখানেও আপনি জিম্মি।

পরিবহণ শ্রমিকরা যখন যাত্রীদের কাছ থেকে ডাকাতের মত বেশি ভাড়া আদায় করে তখন আমরা তাদের গালি দিই আর ক্ষেপে যায়। ঠিক তখন তারা আমাদের অসহায়ত্বে অজানা গল্প শোনায়। কয়েকদিন আগে মিডিয়া পরিবহন নৈরাজ্য নিয়ে সরব হয়েছিল। সে সময় পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছিল। সে সময় সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান ও পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন যে প্রতিদিন পরিবহণ শ্রমিকদের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে চাঁদাবাজরা। এই চাঁদা যারা আদায় করে তারা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় এই কাজ করে যাচ্ছে। তার মানে আমরা সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি পরিবহণ শ্রমিকদের কাছে আর পরিবহণ শ্রমিকরা জিম্মি চাঁদাবাজদের হাতে। এভাবেই কারো না কারো কাছে আমরা জিম্মি হয়ে আছি।

আপনি সরকারি চাকরি করতে যাবেন তাহলে আপনার যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পাবেন তা ভাবা একেবারেই বোকামি। আপনি পরীক্ষা দিয়ে চাকরিতে ঠিকেছেন কিন্তু আপনি চাকরি পাবেন না যদি মোটা অংকের ঘুষ না দেন। না হয় ক্ষমতাসীন কোন এম পি মন্ত্রীর ফোন আসতে হবে তাহলেই আপনার চাকরি নিশ্চিত। অনেক চাকরিতে আগে থেকেই কাকে নিয়োগ দিবে তা সিলেক্ট করে রাখা হয়।

Job exam নেয় জাস্ট লোক দেখানো। আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন সেখানেও আপনি জিম্মিদশায় । প্রয়োজনহীন টেস্ট আর গর্ভবতী নারীদের অপ্রয়োজনে সিজার করিয়ে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। বাংলাদেশের সিংহভাগ ডাক্তারগন ঔষুধ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রাখে। আর ঔষুধ কোম্পানির এম আর / এস আর গুলো এম বি বি এস ডাক্তারদের পিছনে আটার মত লেগে থাকে। আর ডাক্তারগন ঔষুধ কোম্পানি থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে নিম্নমানের ঔষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেয়।এতে করে রোগীরা সুস্থ না হয়ে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। হয়তো অনেকে মারাও যায়। এ যুগের অধিকাংশ ডাক্তারই কসাই হয়ে গেছে। নিজেদের স্বার্থরক্ষায় অন্যদের জীবন কেড়ে নিতেও দ্বিধা করেনা।

আপনি আদালতে যাবেন কিছু অসাধু আইনজীবী আপনাকে সর্বহারা করবে।আপনার কষ্টার্জিত অর্থবিত্ত ঐ সব আইনজীবীরা ধীরে ধীরে কেড়ে নিবে। আপনি সাহায্য চাইতে থানায় যাবেন সেখানেও ফেনীর ওসি মোয়াজ্জমের মত কিছু হায়েনা দেখবেন যারা নুসরাত এর মত মেয়েকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিবে।

ঘুষখোর পুলিশরাই এদেশের দুর্নীতিতে শীর্ষে। সব পুলিশ যে দুর্নীতিগ্রস্থ তা নয়।কিছু পুলিশ অবশ্যই ভাল আছে যারা জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও দেশের তরে কাজ করে যায়।ট্রাপিক পুলিশদের কাছে সাহায্য চাইতে যাবেন ঘুষ ছাড়া কাজ হবেনা।সাম্প্রাতিক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার ও পদ থেকে বহিঃস্কার হয়েছেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি দুর্নীতির দায়ে পদ হারালেন। পদ হারালেন যুবলীগ সভাপতি, সেচ্চাসেবক লীগের সভাপতিও। ক্যাসিনো অভিযানে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের অনেকই যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা। জি কে শামীম, খালেদসহ অনেকেই ক্যাসিনোর মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়েছে।

দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়ার এমপি ও সংসদের হুইপ শামসুল ইসলাম,তার ছেলে শাওনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।এরাই সাধারণ জনগনকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে রেখেছে। সরকারকে ধন্যবাদ দুর্নীতিগ্রস্থদের বহিঃস্কার ও গ্রেপ্তার করার জন্য।

দুর্নীতিবাজরা যে দলেরই হোক সে অন্যায়কারী। দুর্নীতি জাতীয় উন্নতির অন্তরায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও আমরা জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাইনি। আমরা কারো না কারো কাছেই জিম্মি হয়ে আছি যুগ যুগ ধরে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ভারতের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে নিয়েছে অনেক কিছু কিন্তু দেয়নি কানাকড়িও। আমরা পাকিস্তানের জিম্মিদশা থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তি পেলেও এখনো আমরা জিম্মিদশায় আছি। জানিনা বাংলাদেশ কখন এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাবে কিনা । তবে আমার বিশ্বাস কোন একদিন আমরা সত্যিই এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাব ইনশাআল্লাহ।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840