সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
আমেরিকায় বাংলাদেশের অস্ত্র রপ্তানী প্রকৃয়া শুরু

আমেরিকায় বাংলাদেশের অস্ত্র রপ্তানী প্রকৃয়া শুরু

অস্ত্র রপ্তানি আমেরিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ রাশিয়া
অস্ত্র রপ্তানি আমেরিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ রাশিয়া

বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের অন্য কোন দেশের অস্ত্র সংক্রান্ত কোন বিনিময় চুক্তি মানেই বাংলাদেশ আমদানি করবে কিন্তু এই প্রথম ভিন্ন সুরে কথা বলছে বাংলাদেশে। এবার আমদানি নয় রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ অস্ত্র বা গোলাবারুদ আমদানি করলেও রপ্তানির কথা কখনো শোনা যায়নি। তবে বিস্ময়কর মনে হলেও এবার দেখা দিয়েছে এ সম্ভাবনা। খোদ যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এসেছে বাংলাদেশের তৈরি অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনার প্রস্তাব! এতে বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির তৈরি অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা মজুদ পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞগণের আশাবাদ।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিকে তাদের উৎপাদিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র রপ্তানির বিষয়টি অনুসন্ধান করার জন্য গেল ৮ সেপ্টেম্বরের একটি বৈঠকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি অনুসন্ধান করে জানায়, এ ধরনের প্রক্রিয়া বিশ্বে প্রচলিত রয়েছে। এটা সব উন্নত দেশেই বিদ্যমান।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার-অর্ডন্যান্স বা আইও ইনক নামের একটি কম্পানি এ ধরনের অস্ত্র কিনে থাকে। তারা রুমানিয়া ও পোল্যান্ড থেকে পুরনো অস্ত্র আমদানি করে বলেও জানানো হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বাংলাদেশে তৈরি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মজুদ পুরনো আগ্নেয়াস্ত্র ধ্বংস না করে রপ্তানি করতে চাইলে তা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন যাবত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান অস্ত্র কেনাবেঁচার সাথে জড়িত।

বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সাবেক কমান্ড্যান্ট অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাশ বলেন, ‘মজুদ অস্ত্র ও ব্যবহার অনুপযোগী গোলাবারুদ রপ্তানির সুযোগ তৈরির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য শুভসূচনা এবং খুবই খুশির খবর। প্রতিটি দেশই তার সক্ষমতা বাড়াতে চায়। বাংলাদেশ এদিকে উন্নতি করছে বলেই এ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করা হলে একদিকে যেমন দেশের রপ্তানি ঝুড়িতে একটি নতুন পণ্য যোগ হবে, অন্যদিকে ডিফেন্স ডিপ্লোমেসিতে একটি ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। বিশ্বে সব দেশ সব কিছু তৈরি করে না। তাই বাংলাদেশ যদি যুদ্ধকালীন বা জরুরি প্রয়োজনের দিকটি মাথায় রেখে নিজেদের সক্ষমতায় তৈরি বাড়তি অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে তা অবশ্যই ইতিবাচক। এতে আমাদের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রির অবশ্যই প্রসার ঘটবে। সক্ষমতা পরিমাপ করা যাবে। অপচয় রোধ হবে। বাড়তি আয় হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার-অর্ডন্যান্স বা আইও ইনক নামের কম্পানিটি সম্পর্কে জানতে তাদের ওয়েবসাইট ঘুরে জানা যায়, এটি অস্ত্র কেনাবেচাকারী একটি প্রতিষ্ঠান এবং তারা অনলাইনেও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র বেচাকেনা করে থাকে। তাদের সাইটে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্রের ছবিও দেওয়া আছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে কেন তারা কিনবে আমাদের পুরোনো অস্ত্র?

মূলত এই কোম্পানীটি ফেলে দেয়া বা পুরোনো অর্থাৎ সরকার বা সামরিক বাহিনীর পুরোনো অস্ত্রগুলোকে রিপেয়ার করে চড়া মূল্যে বিক্রি করার মাধ্যমেই প্রোফিট করে। এভাবেই দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠানটি তার ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছে।

অনেকে বলছেন এই কোম্পানীর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্টের সরকারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যার ফলে অন্য দেশ কোন লেবেলের অস্ত্র বিক্রি করে ফেললো? কি পরিমাণ অস্ত্র তাদের নিকট রইলো? এসব বিষয়ে তারা সুষ্পষ্ট ধারণা নিতে পারে। তারা সবসময় সামরিকভাবে কোন দেশের শক্তি কোন লেবেলের তা জানার জন্যই এই কেনাবেঁচার কাজটি করে থাকে। একটি দেশের শক্তি পরিমাপ করা হয় ঐ দেশের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র কতোটা উন্নত ও কোন জেনারেশনের তার দ্বারা।

বৈশ্বিক উন্নয়নের এই ধারায় আমেরিকা সবসময় সবাইকে নতজানু করে রাখতে চায় যার ফলে তারা সবসময় সকলের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে এরুপ করে থাকে। তারা পুরোনো অস্ত্র অপেক্ষাকৃত কম দামে ক্রয় করে অন্যদের হাত শূন্য করবে এবং পরবর্তীতে ঐ দেশে নতুন জেনারেশানের বা আপগ্রেড প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রি করবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840