সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?

ইফতারির প্লেট কেড়ে নেয়া হলো

Doinik71

কায়সার আহমেদ সাব্বির নামে একজন ব্যক্তি ফেসবুকে ইফতার নিয়ে জঘন্য ব্যবসায়ের বিষয়ে একটি পোষ্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে সিন্ডিকেট ব্যবসায় আর বাধ্যতামূলক ১৯০ টাকা দিয়ে ইফতার করার বিষয়ে গুরুত্পূর্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি সবাইকে শেরপুরের “পাক ঘর” নামক রেস্টুরেন্টটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। মানুষ যে পশুর চেয়েও নীচে নামতে পারে তা এই স্ট্যাটাসটি থেকে স্পষ্ট। তার বর্ননা হুবহু তোলে ধরা হলো… শেরপুর স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চাচ্ছি।হোটেলের নাম: পাকঘর।ঠিকানা: ঢাকা সিলেট বাইপাস,শেরপুর, মৌলভিবাজারমোবাইল নম্বর: ০১৭৬৩৬৩৫২৬৩গতকাল সিলেট থেকে আসার পথে আমাদের বাস(এনা) এই রেস্তোরাঁয় দাঁড়ায় ইফতারের জন্য। যথারীতি সবাই নামে কিন্তু ফুড আইটেম এবং দাম অনেকের পছন্দ হয়না।তাই তারা খুচরা করে ইফতারের আইটেম নেয়।হুট করে মালিক চলে আসে, এবং স্টাফদের গালিগালাজ করে। কেন আমাদেরকে স্টাফরা খাবার দিলো?আমি বললাম ইফতারি দিছে এতে কি হইছে?সে বললো, যদি এখানে খাই তাহলে তার ১৯০ টাকার প্যাকেজটাই খেতে হবে, অন্য কিছু খাওয়া যাবে না।এখানে বলতে হয়, তার ইফতারের আইটেম ১৯০ টাকা হিসেবে কিছুই ছিল না।কেউ হয়তো ২০ টাকার ছোলা, ২০ টাকার পিয়াজি, ২০ টাকার জিলাপি নিয়েছিল।আমি ২০ টাকার ছোলা এবং ২/৪ টা পিয়াজি এবং ২০ টাকার জিলাপি নিয়ে আজানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, সাথে আরো কয়েকজন ছিল।You Can’t Believe….!দোকানের মালিক আমাদের হাত থেকে ইফতারির প্লেটটা টান মেরে নিয়ে নিলো..!জাস্ট অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।আজান দিলো। অই হোটেলের পাশেই একটা ছোট্ট চা বিড়ির দোকান ছিল, আমরা কথা না বাড়িয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম, কিছু একটা দিয়ে রোজা ত ভাংতে হবে। কেউ বিস্কিট কিনলো কেউ বা একটা পানি কিংবা চানাচুর নিলো।আমাদের মালিক এখানেও হাজির, স্ট্রেইট গালি দিলো দোকানদারকে। ইফতারির সময় তার দোকান বন্ধ করার জন্য হুমকি দিয়ে গেল।আমাদের মধ্যে একজন চেতলো। মালিক বললোঃ ভাই খাইলে খান নইলে ঝামেলা বাধায়েন না, আর ঠাস ঠুস দুই চারটা ইংলিশ মেরে দিলো।আজান শেষ।কেউ একটা বিস্কিট, কেউ এক মুট চানাচুর, কেউ এক ঢোক পানি, কেউ বা সিগারেটের একটা টান দিয়ে রোজা ভাংলো, শুনতেই খারাপ লাগতেছে তাইনা?আমাদের ড্রাইভার, আর সুপারভাইজার ঠাসায়া খাইতেছে তখন। হোটলের লোক গুলা কেমন করে যেন আমাদের এই ১৫-২০ জনের দিকে তাকায়া ছিলওদের কাছে টাকা নাই?ওরা কি রোজা রাখে নাই?এরকম ভাব ছিল।একতাই বল, শুনছেন না? এবার ১০/১২ জন মিলে ড্রাইভার আর সুপারভাইজারকে ধরলাম।আপনি কি এখানে ফ্রি খান? শেরপুরে এত বড় বাজার থাকতে আপনি এখানে খান কেন? আপনাদের মধ্যে কন্টাক্ট কি?সুপারভাইজার এর অমায়িক উত্তর : আমরা চাইলে বাংলাদেশের সব হোটেলে ফ্রি খাইতে পারি, এখানের খাবার ভাল বলেই দাড়াই, এই যে দেখেন সবাই খাইতাছে।আমরা সবাই এবার আমাদের সোজা আংঙ্গুল টা ব্যাকা করে ফেললাম। সিলেটের স্থানীয় কয়েকজন ক্ষেপে গেল। ড্রাইভার আর আর সুপারভাইজার তখন আছে সরির উপরে।সিনেমার মেইন ভিলেন আর তার ভাই( হুজুর টাইপ) আসলো শেষে মাফ চাইতে। তখন তারা ফ্রি ইফতার করাতে চাইলো, আবার বিভিন্নভাবে তাদের হোটেলের রুলস বুঝানো শুরু করলো।আমাকে সাইডে নিয়ে গিয়ে বলে: ভাই আপনি খান, ইফতারি করেন, টাকা দিতে হবে না।আমি ডিরেক্ট মানা করে দিলাম। আমার সাথে আরো ১৫ জন ছিল তারা ইফতার করতে পারিনি, আমি কেনো করবো৷মাফ চাইলো অনেক বার, ইফতারির আগের ব্যবহার আর পরের ব্যবহার সম্পুর্ণ আলাদা। কারন তারা চাচ্ছিল এ যাত্রায় ঝামেলা মিটে যাক কোনভাবে।আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন…এই ঝামেলা কয়দিন পোহাবে সাধারণ মানুষ?যাদের পকেটে কম টাকা তারা কই খাবে?যাদের পকেটে টাকা আছে, তারাও কি টাকা অনুযায়ী খাবার পেলো?খাবার নিয়েও পলিটিক্স?ইফতারি নিয়েও সিন্ডিকেট?ইফতারের সময় আমরা মানুষ ডেকে ডেকে একটা পিয়াজি, একটা বেগুনি হাতে দেই, নে বাবা যতটুক আছে খা। আর এইসব লোভী ব্যবসায়ী হাত থেকে ইফতারির প্লেট নিয়ে যায়!!বাস কোম্পানী কিংবা সুপারভাইজার এর পছন্দের হোটেল গুলোর কাছে আমরা সাধারণ মানুষ বন্দী।আপনাদের জন্য পরামর্শঃ পাকঘর হোটেলটা এড়িয়ে চলুন।শেরপুর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধঃ এইসব ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। প্লিজ।আমার এই ৬৫ বছরের জীবনে এই প্রথম কেউ আমার হাত থেকে ইফতারির প্লেট টান দিয়ে নিয়ে গেলো। সহ্য করা কঠিন, খুব কঠিন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840