সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ইসলামী রাজনীতি বনাম ইসলাম নিয়ে রাজনীতি

ইসলামী রাজনীতি বনাম ইসলাম নিয়ে রাজনীতি

ইসলামী রাজনীতি বনাম ইসলাম নিয়ে রাজনীতি
ইসলামী রাজনীতি বনাম ইসলাম নিয়ে রাজনীতি

ইসলাম একটি পূণাঙ্গ জীবন বিধানের নাম। এটি শুধু ধর্ম নয়, ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ নীতি, রাষ্ট্রনীতি, স্বরাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সব বিষয়ের সমন্বয়ে ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। Islam is Complete Code of life — ইসলাম হলো পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলামের নীতি আদর্শের ভিত্তিতে যে রাজনীতি তাই ইসলামী রাজনীতি।

মুসলমানদের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) ইসলামী রাজনীতির মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে একটি স্বর্ণযুগ উপহার দিয়েছিলেন। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েমের লক্ষ্যে যে রাজনীতি তাই হলো ইসলামী রাজনীতি। পৃথিবীর স্রষ্টা মহান আল্লাহ পৃথিবীর পরিচালনার জন্য যে গাইড লাইন দিয়েছেন তা বাস্তবয়ানের জন্য যে রাজনীতি তাকেই ইসলামী রাজনীতি বলে।

ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অনুসরণীয় পদ্ধতি হলো খেলাফত ব্যবস্থা। হযরত মুহাম্মদ (সা) এর পর তাঁর সাহাবী হযরত আবু বকর,হযরত উমর, হযরত হযরত উসমান, হযরত আলী ছিলেন ক্রমান্বয়ে ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা। তাদের শাসন আমল ছিল ইতিহাস বিখ্যাত। হযরত উমর (রা) এর খেলাফতকালে ইসলামী রাষ্ট্রের বিস্তৃতি লাভ করে সব চেয়ে বেশি। তাদের যুগ ছিল ইতিহাসের স্বর্ণালী যুগ।সর্বশেষ খেলাফত ব্যবস্থ বহাল ছিল বর্তমান তুরস্কে যা কামাল আতাতুর্ক এই খেলাফত ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটান।

যুগ যুগ ধরে বিশ্ব ব্যাপি ইসলামী রাজনীতি চলে আসছে। তাঁরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও দৃশ্যমান ইসলামী রাজনীতি চলছে বিট্রিশ আমল থেকে। স্বাধীনতা পরবর্তী ইসলামী রাজনীতিতে আলেম উলামা সক্রিয় হয়। বঙ্গবন্ধুর পর যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় তখন ইসলামী রাজনীতিতে এক সম্ভাবনাময়ী অধ্যয়ের সূচনা হয়েছিল। তখনকার বিখ্যাত ও যুগ সচেতন আলেম আল্লামা মাহমুদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর তওবার ডাক দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

সে সময় তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতিদন্ধি ছিলেন।সে সময় জামায়াতের সমর্থন ছিল মেজর জিয়াউর রহমানের পক্ষে। পক্ষান্তরে হাফিজ্জি হুজুরকে বলেছিল ভারত ও কংগ্রেসের দালাল। সে সময় যদি হাফিজ্জি হুজুরকে জামায়াত সমর্থন দিত তাহলে তিনি হয়তো প্রেসিডেন্ট হতেন।

জামায়াতের সব চেয়ে বড় ভুল রেজুড়বৃত্তি রাজনীতি যা তাদের ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিয়েছে। বাংলাদেশে বহু ইসলামী দল আছে যারা ইসলামী রাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সাথে জোট করে। এক মাত্র জোট মহাজোটের বাইরে থেকে ইসলাম, দেশ, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে রাজনীতি করছে পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃ্ত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

ইসলামী রাজনীতি সবাই পছন্দ না করলেও ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করেই রাজনীতি করে সবাই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ব বড়ই ফ্যাক্টর। এই ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যায়। আর ক্ষমতায় গিয়ে সেই ধর্মের বিরুদ্ধে আইন পাশ করে সংসদে।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এসব দল ধর্মীয় তথা ইসলামী রাজনীতিকে পছন্দ করেনা বরং বিরোধিতা করে। তারা ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করলেও ইসলামকে পূঁজি করেই ক্ষমতায় যায়। জাতীয় নির্বাচনের সময় সব রাজনৈতিক দল ইসলাম ধর্মের প্রতি সহনশীল, উদার হয়।

প্রত্যেক নেতা হয় যায় খোদাভীরু, ইসলাম প্রেমি ও নামাজি। পাঞ্জাবি, পায়জামা আর টুপি তখন নিত্য দিনের সঙ্গী। তখন শ্লোগান উঠে- লা ইলাহ ইল্লাল্লাহ – নৌকার মালিক তুই আল্লাহ। সেই নৌকার মাঝিরাই ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করতে সদা তৎপর।

ফতোয়া বিরোধী রায়, নাস্তিক্যবাদী শিক্ষা নীতি ও শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়ন, নাস্তিকদের প্রশ্রয়, লতিফ সিদ্দিকীর মত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী কর্তৃক হজ্জ নিয়ে কটুক্তি, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুদের মত বামপন্থীরা সারা বছর ইসলামী রাজনীতি ও ধর্ম কর্মের চরম বিরোধিতা করলেও ভোটের আগে ঠিকই হজ্জ পালন করে।

এটা নির্বাচনে জিতার লৌকিতা মাত্র। এটা ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্ম ব্যবসা। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সবাই ধর্ম ব্যবসায়ী। ধর্মীয় রাজনীতি তথা ইসলামী রাজনীতির বিরোধিতা করলেও ইসলামকে ব্যবহার করে ঠিকই ক্ষমতায় যায়।

নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে নেতাদের হজ্জ ও ওমরা পালনের হিড়িক পড়ে। সবাই ইসলামী রাজনীতি পছন্দ না করলেও ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করতে বেশ পছন্দ করে। এটা এক প্রকার ধর্ম ব্যবসা।

হযরত মহানবী (সা) রাজনীতি করেছেন তা নয় তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নায়কও ছিলেন। কেউ যদি ইসলামী রাজনীতিকে খারাপ জানে বা বিরোধিতা করে তখন বুঝতে হবে সে নবীকে খারাপ জানল। নবীজির কাছের চার সাহাবী হযরত আবু বকর, হযরত উমর, হযরত উসমান, হযরত আলীগণ ইসলামী রাজনীতি করেছেন এবং প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন।

ইসলামী রাজনীতি দোষের নয়, বরং ইসলামকে ব্যবহার করে নোংরা রাজনীতি করা দোষের। ধর্মীয় রাজনীতি দোষের নয় বরং ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা দোষের। বাংলাদেশে সবাই ইসলামকে ব্যবহার করে রাজনীতি করলেও সবাই ইসলামী রাজনীতি চাই না। এরাই ধর্ম ব্যবসায়ী ও ইসলামী রাজনীতি বন্ধের পাঁয়তারা করছে সুতরাং ইসলামী রাজনীতি আর ইসলাম নিয়ে রাজনীতি এক নয়।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840