সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
এইচ.এস.সি তে এবার প্রশ্ন নয় উত্তর পত্র জালিয়াতির প্রমান ও ১৮ জনের বিরুদ্ধে শাস্তি

এইচ.এস.সি তে এবার প্রশ্ন নয় উত্তর পত্র জালিয়াতির প্রমান ও ১৮ জনের বিরুদ্ধে শাস্তি

উত্তর পত্র জালিয়াতি
উত্তর পত্র জালিয়াতির

সকল বোর্ডে এইচ.এস.সি তে ৫১৮+ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পরীক্ষার উত্তর পত্র নিয়ে কঠিন জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৪ ই আগষ্ট তার জের ধরে তদন্ত কমিটির সুপারিশে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের ১৮ জন পরীক্ষার্থীর উত্তর পত্র বাতিল এবং আগামী তিন বছরের জন্য বোর্ডের সকল প্রকার পরীক্ষা থেকে নিষিদ্ধ করা হলো। সকল শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে আর-ও ৫০০+ জন শিক্ষার্থী অভিযুক্ত রয়েছেন যাদের বিষয়টি এখন-ও তদন্তাধীন।

নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. আবু সুফিয়ান গণিত বিষয়ের অত্যন্ত দক্ষ এবং স্মনামধন্য শিক্ষক। বরাবরের মতো এ বছর-ও তিনি এইচ.এস.সি বরিশাল বোর্ডের উচ্চতর গণিত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব পান।
তার দায়িত্বের ২০০ টি খাতা নিরীক্ষণের সময় তার চোখে বড় ধরণের অনৈতিকতার ছাপ ধরা পরে।

জানা যায়, এবার এইচএসসির উচ্চতর গণিতের খাতা নিরীক্ষা করতে গিয়ে ১৮টি খাতায় সমস্যা পান। ওইসব খাতায় উত্তর এমনভাবে লেখা হয়েছে যেখানে নম্বর কাটার কোনও উপায় নেই। শুধু তাই নয় ১৮টি খাতায় একটি দাঁড়ি, কমাও ভুল ছিল না। সব খাতায় একই লেখা। হাতের লেখাও হুবহু এক।

সুফিয়ান স্যার মিলিয়ে দেখেন শিক্ষাবোর্ড থেকে উচ্চতর গণিত বিষয়ের উত্তরপত্র যেভাবে তৈরি করা ঠিক সেভাবেই ওই ১৮টি খাতায় উত্তর লেখা হয়েছে। যেন একই হাতের কপি-পেস্ট।

বিষয়টি দেখে দুর্নিতীর আভাস পেলে তিনি প্রধান পরীক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রধান পরীক্ষক ঘটনা আঁচ করতে পেরে খাতাগুলো নিয়ে আসেন সরাসরি শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে।

শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করেন। এরপরই বেরিয়ে আসে জালিয়াতির মূল কাহিনী। পরীক্ষার খাতার ভেতরে কীভাবে বোর্ডের উত্তর পত্র কপি পেষ্ট হলো!

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীন এইচএসসি পরীক্ষার খাতায় ১৮ জনের উত্তরপত্র হুবহু মিল থাকায় শাস্তি দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের ২০১৯ সালের পরীক্ষা বাতিল করার পাশাপাশি আগামী তিন বছর পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, শৃঙ্খলা কমিটির ৩৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীর নিয়ম বহির্ভূতভাবে অংশগ্রহণ করা ও উত্তরপত্র জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের শাস্তিস্বরূপ ২০১৯ সালের পরীক্ষা বাতিল এবং তারা তিন বছর পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পাবে না।

নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা খুশি হয়েছেন।

শাস্তিপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের রোল গুলো হলো: ১০০৩২৭, ৬০০২১৩, ১০১০১৯৯, ১০১১১৫, ১০২৫৮০, ৬০১৬৭৭, ১০৯৭৬১, ১০৯৭৬৭, ৬০৪৭৬৯, ১০০৯১৯, ৬০০২৫২, ১০১০৮৭, ৯০০০২৫, ১০৪০৩৭, ১০৫৮৪২, ১০৯৭৯০, ৬০৪৭৩৫ এবং ১১২০১৪।

বছর দুয়েক আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পিওনের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে এমন একটি দুর্নিতীর চিত্র। যিনি ঢাকা শহরে বিশ তলা সুবিশাল ভবন গড়েছেন। আর স্বনামে-বেনামে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকার সম্পিত্তি।

মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ন্তভূক্ত শিক্ষার্থীদের খাতা করে দিতেন। আগে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে আসে। পরবর্তীতে এই কালপ্রিটরা খাতা বের করে কভার পেইজ রেখে ভেতরের সাদা খাতা বের করে ফেলে। অন্য সাদা খাতায় উত্তর পত্র ভালো শিক্ষার্থীদের দিয়ে করিয়ে সেখানে রেখে আবার নতুন করে সেলাই করতেন তিনি। এভাবে তিনি কয়েক বছরে কামিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।

তবে বরিশাল বোর্ড কর্তৃপক্ষ এখনো কে কে এই ক্যালেঙ্কারির সাথে জড়িত জঘন্য কালপ্রিটদের নাম উল্লেখ করেন নি। অন্যান্য বোর্ড এখনো তদন্ত শেষ করেন নি। এর মাঝেই ১৬ ই আগষ্ট একযোগে সারা দেশে বোর্ড চ্যালঞ্জ এর খাতার পুর্নমূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে অনেকের ফলাফলই আশানুরুপ পরিবর্তন হয়েছে।

এভাবে শিক্ষাবোর্ডের প্রণিত উত্তর পত্র সরাসরি দেখে দেখে খাতায় লিখে জমা দেয়া একটি জটিল ও দুরুহ প্রকৃয়া। এই প্রকৃয়াতে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত অনেক ব্যাক্তির যোগসাজেশ রয়েছে বলে শিক্ষাবিদগণ ধারনা করছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840