সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
একজন দানবীর – আখতার বানু শেফালীর স্মৃতিচারণ

একজন দানবীর – আখতার বানু শেফালীর স্মৃতিচারণ

রনদা প্রসাদ সাহা
রনদা প্রসাদ সাহা

এমন একটা মানুষ যার নামের আগে দানবীর সংযুক্ত থাকে, যার কীর্তি গুলি তার চেয়েও বড় তার চেয়েও মহান তাকে কি ভাবে মানুষ মেরে ফেলতে পারে?

সে মানুষ নামে কোন জাতের পশু?

জানি তিনি নেই তারপরও অনেকদিন পর টাংগাইল জার্নালিস্ট ও সিটি জেন গ্রুপে রনদা প্রসাদ সাহার হত্যার এই খবরটা পড়ে আমার এই গুণি জনের সান্যিধ্যের কথা মনে পড়ে গেলো।

কুমুদিনী কলেজের হোষ্টেলে থাকার দরুন প্রায়ই এই গুনি জনের সান্যিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়ে ছিলো আমার। আমরা সবাই তাঁকে জেঠু মণি বলে ডাকতাম।

মানুষটার বাইরেটা আমার চোখে ছিলো একজন শিশুর মতো আর ভেতরটা কতোই না সমৃদ্ধ। স্বল্পভাষী এক আকাশ সমান হৃদয়ের অধিকারী এই মনিষী আমার স্মৃতিতে অনেকটা জায়গা জুড়ে আছেন। পনের দিন বা এক সপ্তাহ পরপর তিনি কলেজের কোনো কাজ বা উনার নাতনী কিছুদিন আমাদের কলেজে ইংলিশের টিচার ছিলেন তাকেও দেখতে আসতেন, উনি যে কাজেই আসুন হোষ্টেলের মেয়েদের খোঁজ খবর না নিয়ে যেতেন না।

সব মেয়েদের এক জায়গায় ডেকে সব সময় জিজ্ঞেস করতেন মেয়েদের কোনো বিষয়ে কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা। এ বিষয়ে ফোর্থ ইয়ারে পরা আমাদের জি,এস রাফেয়া আক্তার ডলি সব সময় প্রতিনিধিত্ব করতেন, যে বিষয়ে অসুবিধার কথা জানানো হতো পরদিনই তার প্রতিকার করতেন।

আর তখন আমাদের কলেজের বেতন হোষ্টেল চার্জ সব মিলিয়ে লাগতো মাত্র বিশ টাকা। ১৯৬৫ সালের আগে যারা কুমুদিনী কলেজে পড়া শোনা করেছে তাদের কোন ও টাকাই লাগে নাই, না কলেজের বেতন না হোষ্টেল চার্জ। এ বিষয়টা জানতে পারি কলেজের একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। বিতর্কের বিষয় “ছিলো বিগত স্মৃতি স্মরণ শুধুই দুঃখের কারণ”।

ফোর্থ ইয়ারেরর আপারা হেরেই যাচ্ছিলো থার্ড ইয়ারের আপাদের কাছে, কিন্ত এই পয়েন্টায় তারা জিতে গেলো। বিতর্কের এক পর্যায়ে তারা জানালো তারা যখন ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছিল তখন নাকি স্পেশাল পউরুটি ও মাখন আসতো তাদের সকালের নাস্তার জন্য। এখন বাৎসরিক ফিস্ট (বিশেষ খাওয়া দাওয়া) হয়, তাদের কলেজে ঢুকার প্রথম বছরে মাসিক ফিস্টের আয়োজন ছিলো। এসব স্মৃতি স্মরণ কি আমাদের জন্য দুঃখ বয়ে আনে না? এখন সকালে মুড়ির সাথেবাদাম ভাজা নাস্তা, ফিস্ট হয় বছরে একবার এসব বিগত স্মৃতি কি শুধুই দুঃখর কারণ নয়? তুমুল হাততালি পেয়ে জিতে গেলো ফোর্থ ইয়ার।

একবার আমাদের ভাতের চাল খারাপ পড়েছিল, সকাল দশটায় মেয়েরা ভাত খেতে গিয়ে ভাত তেমন উন্নত নয় বলে ডাইনিং টেবিলে খুব হৈচৈ করেছিলাে, বিকালেই জেঠু মণি এসে হাজির, সব মেয়েদের ডেকে বলে গেলেন উনি আজকেই এর ব্যবস্হা নিবেন। আমরা দেখি রাতের খাবার টেবিলের ভাত ফিন ফিনে পাতলা এক নম্বর চালের। এমন ছিলো তার যত্ন কুমুদিনীর মেয়েদের জন্য।

কুমুদিনী কলেজের সেই স্বর্নালী সময় গুলো কখনো ভোলার নয় যেমন ভোলার নয় জেঠু মনি কে। একবার উনি স্ব-পরিবারে হোষ্টেলে এসেছিলেন উনার একমাত্র ছেলেকে বিয়ে করানোর পর ছেলের বউ সহ, সঙ্গে নিয়ে এসে ছিলেন প্রচুর মিষ্টি আমাদের জন্য। সেদিনটা যে আমাদের কি আনন্দে কেটেছিলে গানে আর কথায়।

মাঝে মাঝে উনার ছেলের বউ আর ছেলের মজার খুনসুটিতে। ডাইনিং হলের পিছনের বিরাট কাঠাল গাছের ছায়ায় সেদিন হঠাৎ একটা ছোটো খাটো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে গেলো। হোষ্টেলে গান জানা মেয়ে (এইমূহুর্তে কেবল সুপ্তি চক্রবর্তী পরবর্তীতে তৎকালীন গায়ক ফারুক হেসেনের সাথে বিয়ে হয় নাম মনে পড়ছে) আরো অন্য গান জানা মেয়েরা গান গাইলো। ভবাণীদার নতুন বউও কয়েকটা গান গাইলো। এর মধ্যে “বধূ কোন আলো লাগলো চোখে” গানটার কথা মনে আছে। সেতো এমন একজন লোক,যে

“”সাথে করে এনে ছিলে মৃত্যুহীন প্রান

মরনে তাহাই তুমি করে গেলে দান।”

তাকে কি চাইলেই মেরে ফেলা যায়। আমার কাছে তো তিনি চির অমর। আমি কেনো, আমরা টাংগাইলের মেয়েরা আমাদের অভিভাবকরা যারা আমারা ঐ সময়ে কুমুদীনি কলেজে হোষ্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছি আমারা তো তার কাছে চিরঋণী।

টাংগাইলের মেয়েদের শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান বলে শেষ করা যাবে না। এমনি আমার মতো কতো মানুষ যে তার কাছে ঋণী। আরো কতো মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায় তিনি চির ভাস্বর হয়ে আছেন।আমার মতো ক্ষুদ্র একটা মানুষ কি তার সব কীর্তির কথা মহত্বের কথা জানি? কিন্ত একটা প্রশ্ন এই রকম একজন মহা মণিষীর হত্যাকান্ডের বিচার চার যুগ মানে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে কেনো হচ্ছে? কেনো আরো আগে হয় নাই?

আখতার বানু শেফালি।

ব্যাচ- ৬৬।

প্রাক্তন ছাত্রী, কুমুদিনী কলেজ।

টাঙ্গাইল।

ক্যালিফোর্নিয়া।

স্যান্টা রোসা থেকে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840