সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
একটি বন্দুকের আত্মকাহিনী

একটি বন্দুকের আত্মকাহিনী

দো নালা বন্ধুক
দো নালা বন্ধুক

(ছোটগল্প)
জাকির আলম

টাঙ্গাইল জেলার কৃতী সন্তান আব্দুল মোমেন তালুকদার। একটা সময় বন্দুক দিয়ে পাখি শিকার করা তাঁর প্রচণ্ড নেশা ছিল। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে তিনি পাখি শিকার করতে ভালোবাসতেন।এতে করে তিনি অনেক আনন্দ বোধ করতেন। এমতাবস্থায় দেশে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সারাদেশ তখন উত্তাল হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে এদেশের নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একাকার করতে থাকে। দেশ জুড়ে তখন ভয়ানক আতঙ্ক বিরাজ করে। চারিদিকে শুধু যুদ্ধের দামামা বাজতে থাকে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) জাতির উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ শুনে বীর বাঙালি যাঁর যা কিছু ছিল তাই নিয়ে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেউ তখন আর বসে থাকতে পারলো না। মুক্তিযোদ্ধারা মরণপণ যুদ্ধ করতে থাকে পাক বাহিনীর সাথে।

তারপর জনাব আব্দুল মোমেন তালুকদারের শিকারের দোলানা সেই BDDL বন্দুকটি একাত্তরের রনাঙ্গনে ব্যবহৃত হয়। কাদেরিয়া বাহিনীর জনৈক কমাণ্ডার বন্দুকটি মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহার করেন। এক সময় জনৈক কমাণ্ডার যুদ্ধ করার আগ্রহ নিয়ে জনাব আব্দুল মোমেন তালুকদারের কাছে BDDL বন্দুকটি চাইলে তিনি খুব হাসি মুখে বন্দুকটি বের করে দেন যুদ্ধ করার জন্য। তারপর সে বন্দুকটি ব্রাহ্মণ শাসন কালিদালপাড়া ধোপাজানী ব্রিজের কাছে সম্মুখ যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। এরপর একের পর এক সে বন্দুকটি সম্মুখ যুদ্ধে ব্যবহার হতে থাকে। এভাবে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ শেষে দীর্ঘ নয় মাস পর এদেশ স্বাধীন হয়। তারপর পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়।


দেশ স্বাধীন হওয়া মাত্র লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বন্দুকটি হাসি মুখে জনাব আব্দুল মোমেন তালুকদারকে ফিরিয়ে দেন। বন্দুকটি তখন থেকে গৃহবন্দি হয়ে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে বন্দুকটি এখন জন সম্মুখে আসতে চায়।

সে যেন প্রতিনিয়ত বলছে– ‘ আমি বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছি। আজ আমার কত আনন্দ ! আমার জন্য লাল সবুজের পতাকা আজ পত পত করে আকাশে উড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় আজ আমি অনেক খুশি। পাখিরা ইচ্ছে মতো ডানা মেলে উড়ে বেরাচ্ছে মনের আনন্দে। আমি আর গৃহবন্দি থাকতে চাই না। আমি চাই সারা বিশ্ব আজ আমাকে দেখুক। মনের আনন্দে আমাকে দেখে সবাই আনন্দ করুক। কত পাক বাহিনীকে হত্যা করেছি আমি ! তাদের কাউকে ক্ষমা করিনি আমি। ওদের ক্ষমা করতে নেই। ওরা ছিলো হিংস্র হায়েনার দল। ওদেরকে হত্যা করতে আমি খুব আনন্দ বোধ করছি। ওরা তো মানুষ ছিলো না ; ছিলো নরপশু।

আমি সেই অস্ত্র, যাকে ব্যবহার করে এদেশ আজ স্বাধীন। আমি বেঁচে থাকতে চাই নতুন প্রজন্মের কাছে। আমি চাই নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে। সবাই আমাকে দেখুক ; বড় কৌতূহল নিয়ে আমাকে জানুক। আমি সত্যের চেয়েও সত্য প্রজ্বলিত ইতিহাস। আমার বুকে এখনো শহিদের রক্ত বয়ে যায় দিগন্ত জুড়ে সবুজ মাঠে। আমি উন্মুক্ত হতে চাই সবার জন্য। মুক্তিযুদ্ধে আমার অবদান ছড়িয়ে দিতে চাই দিগ্বিদিক। আমি থাকতে চাই বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়ে অনন্তকাল।’

এরই ধারাবাহিকতায় বাবার স্মৃতিকে আগলে রাখতে চান কন্যা মাহমুদা শিরীন। তিনি বলেন- ‘বন্দুকটি এখন শুধু আমার বাবার স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয় না। এরসাথে রয়েছে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। তাই বন্দুকটি জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকলে আমি ভীষণ খুশি হবো।’

জাকির আলমের জন্ম ১৯৯৯ সালের ১জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার স্থলচর গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল আজিজ, মাতার নাম জাহানারা বেগম। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই তার লেখালেখির হাতেখড়ি হয় তার লেখা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ হয়। এপর্যন্ত তার একক এবং যৌথ ভাবে প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা চার। তার একক প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ যেখানে বসন্ত তোমার’। যৌথ ভাবে প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো – ‘কাব্যতীর্থ’, ‘প্রজ্বলিত একুশ’, ‘কবিদের শ্রেষ্ঠ কবিতা’। এছাড়া এবছর ২০২০ মহান একুশে বইমেলায় তার ‘তোমার জন্য রজনীগন্ধা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হবে। এযাবৎ পর্যন্ত তার কিছু সাহিত্য পুরস্কার রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – ‘আকাশ সাহিত্য পুরস্কার’, ‘ফারিজা প্রকাশনী সাহিত্য পুরস্কার’, ‘ শায়ক আব্দুল্লাহ প্রহর পুরস্কার’, ‘শ্রেষ্ঠ কবির পুরস্কার’, ‘ লাবিব ছোঁয়া পাঠাগার পুরস্কার’, ‘ছায়ানীড় পুরস্কার’ ইত্যাদি।

তিনি সরকারি সা’দত কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মানে অধ্যায়নরত আছেন। বর্তমান তিনি টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করছেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840