সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি

গতকাল ২৮/১২/১৯ শনিবার সকাল দশটায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব এডভোকেট কে এম আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি জনাব শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব কাজী মুকুল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জনাব মোঃ শামসুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথী বৃন্দের নামের তালিকায় থাকা আলমগীর খান মেনু, খান আহমেদ ‍শুভ, শহিদুর রহমান বাবুল সিদ্দিকী, গোলাম কিবরিয়া বড় মনি কেউই অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি।

সভায় শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জালাল উদ্দিন শাহীন চাকলাদার। অত্যন্ত সুবক্তা এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে ইতিমধ্যে শাহীন চাকলাদার বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি বেশ কিছু জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন সাফল্যমণ্ডিত করে তুলেছেন।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সোলায়মান মিয়া, ইয়াছিন আলী সহ জেলা উপজেলা পর্যায়ের নের্তৃবৃন্দ।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব কাজী মুকুল এবং প্রধান অতিথি হিসেবে, বিচারপতি জনাব শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অত্যান্ত সুন্দর সাজানো গুছানো তথ্যপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বিচারপতি জনাব শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তার বক্তব্যে বলেন “জিয়েউর রহমানের নীল নকশা বাস্তবায়নই হচ্ছে পঁচাত্তরের ১৫ই আগষ্ট। ৭১ এর ঘাতক দালাল হিসেবে জিয়াউর রহমানের নামও এসে যায়।”

তিনি আরও বলেন “আমি প্রসিকিউটর হিসেবে সমস্ত কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। জামাআতের যে সমস্ত নেতাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে, তারা মোটেও এই সামান্য শাস্তিতেই কলঙ্ক ঝেড়ে ফেলতে পারেন না। তাদের বর্বরতা পশুর হিংস্রতাকে হার মানায়। গোলাম আযম সহ সাঈদিকে তিনি ফাঁসির রায়ের পক্ষপাতী ছিলেন বলে জানান। কিন্তু অন্যান্য বিচারকদের রায়ের সংখ্যা গরিষ্ঠতার কারনে তারা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।”

দেলোয়ার হোসেন সাঈদি একজন মহিলাকে যুদ্ধকালীন টানা নয় মাস নিজ বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষন করেছেন, তিনি মামলাকালীন তার তথ্য প্রমান পেয়েছেন।তিনি আর-ও অসংখ্য রেফারেন্স প্রদান করেন এবং যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার ও রায় বাস্তবায়নে আর-ও শক্তিশালী ট্রাইবুনাল গঠনের প্রস্তাব করেন।

এডভোকেট কে এম আব্দুস সালাম সভাপতি হিসেবে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি অত্যান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন আমি ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা। যে বা যারা যাই বলুক আমি বর্তমানের সার্টিফিকেট ধারী মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বলবো না। মুক্তিযোদ্ধা দুই ধরণের একটি হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা আর অপরটি হলো সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা।”

তিনি অত্যান্ত তথ্যপূর্ণ তার সাহসী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সর্বদলীয় মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক বিষয়ে বিশেষ তথ্য প্রদান করেন। তার স্পষ্টবাদি বক্তব্য সকলের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে। তিনি তার নামের সাথে মুক্তিযোদ্ধা ৭১ কেন ব্যবহার করেন তার সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। টাঙ্গাইলে একজন মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট ছিড়ে ফেলায় ডাক্তারের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জনাব কাজী মুকুল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এডভোকেট কে এম আব্দুস সালাম কে সভাপতি হিসেবে পূনরায় নির্বাচিত করা হয়। কাজী মুকুল তার মিষ্টি- মাধুর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি খুব দ্রুত পুন-নির্বাচিত সভাপতিকে পরিপূর্ণ কমিটি করে কেন্দ্রিয় কমিটিকে অবহিত করতে বলেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আসাদুজ্জামান মনি আরজু।

অনুষ্ঠান শেষে অনেকের মতামত নিলে তারা বলেন উপস্থাপনায় একজন শুদ্ধ-স্পষ্ট উচ্চারণের কাউকে রাখা উচিত ছিল। বক্তাদের বক্তব্যের আগে পিছে সঞ্চালকের অস্পষ্ট এবং দীর্ঘ কথা আমাদের ব্যথিত করেছে। তিনি একাধিকবার সংগঠনের নামটিও বলতে ভুল করেছেন।

পি.আর.এস এর চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন “এতো বড় একটি আয়োজন জুড়ে চোখে পরলো অব্যবস্থাপনা। আমন্ত্রণপত্রে অতিথীদের নাম এতোই ছোট করে দেয়া হয়েছে যে চশমা দিয়েও পড়তে পারিনি। তাদের পরিচিতি পড়তে পারবে এমন ক্ষমতা তো কারো নেই। উপস্থাপকের নাম ছিল অনেক বড় বড় অক্ষরে। যা দেখে প্রতীয়মান হয় যে, উপস্থাপক যেন সবকিছুতে নিজেকে শো অফ করার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। বারবার তিনি উপস্থাপনা করতে গিয়ে বক্তব্য প্রদান করলেন এবং ভুল উচ্চারণে সংগঠনের নামটিও বারবার ভুল বললেন। অতিথীদের যথাযোগ্য সম্মান আমরা দেখাতে পারিনি। আয়োজনে অনেক বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এভাবেই অযোগ্য ব্যক্তিদের হাতে চলে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, যা অত্যান্ত হতাশা ব্যঞ্জক। এডভোকেট কে এম আবদুস সালাম অত্যান্ত দক্ষ ব্যক্তি। তিনি চাইলেই এই কমিটি একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।”

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840