সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
কারা চরমোনাইর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়?

কারা চরমোনাইর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়?

চরমোনাই
চরমোনাই

কারো উন্নতিতে সবাই খুশি হতে পারেনা। কেউ খুশি হয়, কেউ বা দূর থেকে হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরিকল্পনা করে তাকে থামিয়ে দিতে। চরমোনাই পীর সাহেব একজন হক্কানী পীর তা নিয়ে দ্বন্ধ নেই। তা নিয়ে প্রশ্ন করার মত কেউ নেই কিন্তু ষড়যন্ত্র করছে পেছন থেকে। ষড়যন্ত্র কোন বস্তুবাদী দলের নেতারা করছে না বরং ষড়যন্ত্র করছে গুটি কয়েক ক্ষমতা লিপ্সু রাজনীতিবিদ আলেম।

তারা চরমোনাই পীর সাহেব এর পাশাপাশি থেকেও কাছাকাছি নেই। চরমোনাই পীর সাহেব এর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলাম, দেশ মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে বিরামহীন কাজ করছে। তা স্বত্ত্বেও কেন চরমোনাই মিশনের বিরোধীতা করে তা অনেকেরই বুঝে আসেনা। ইসলামী রাজনীতিতে চলছে হতাশা, দ্বন্ধ, বিভক্তি ও পরস্পর কাঁদা ছুড়াছুঁড়ির মহা উৎসব।

কওমী অঙ্গনের পরিচিত ইসলামী দল সমূহের কিছু অতি উৎসাহি কর্মীরাই দ্বন্ধের মূল হোতা। এই সব অতি উৎসাহি কর্মীদের মদদদাতা হলেন সেই সব দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতা। কিছু ইসলামী দলের নেতারা হেয় প্রতিপন্ন করে বলে, চরমোনাইর সবাই মূর্খ মুরিদ এদের দ্বারা জীবনেও ইসলামী হকুমত কায়েম হবে না। তারা জীবনেও ক্ষমতায় যেতে পারবেনা বলে গ্যারান্টি দিয়ে দেয়। চরমোনাইর যদি সবাই মূর্খ মুরিদই হয় তাহলে এদের নিয়ে পড়ে থাকলেন কেন?
আপনার মত ভদ্র শিক্ষিত সমাজের কেন এদের নিয়ে মাথা ব্যথা? ছেড়ে দিন তারা যদি ক্ষমতায় যেতে না পারে এদের বিরোধীতা করার তো মানেই হয়না।

যে সব শিক্ষিত ভদ্র মহোদয়গন চরমোনাই পীর সাহেব ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলকে দু’চোখে দেখতে পারেনা তারা কি আদৌ চরমোনাই মিশনের ভাল কাজের প্রসংশা করেছে? আদৌ করেনি। তারা সংশোধনের নিয়তে সমালোচনা করে না। তারা উলঙ্গ সমালোচনা করে চরমোনাই পন্থীদের ক্ষেপিয়ে তুলে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।

গত কিছু দিন আগে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম কিছু তরুণ আলেম যারা চরমোনাই মিশনের কঠোর সমালোচনা করে তাদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে আগত আলেমরা চরমোনাই মিশনের যেসব সমালোচনা করেছে তা শায়েখে চরমোনাই মনোযোগসহকারে শুনেছে এবং যথাযথ উত্তর দিয়েছেন।

সেই মতবিনিময় সভায় আগতরা হুজুরের পান্ডিত্যপূর্ণ উত্তর ও প্রজ্ঞার প্রসংশা করেছে। অনেকেই হুজুরের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন। তরুণ আলেমদের যখনই ঐক্যের সুর বেজে উঠেছিল তখনই অজানা সাইক্লোন এসে সব লন্ডভন্ড করে দিল। আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র যে করছে তা চরমোনাই পন্থীদের অজানা নয়। কে ষড়যন্ত্র করছে তা চরমোনাই পন্থীরা জানে।

গত অগ্রহায়ণ (২৬-২৮ নভেম্বর) মাহফিলে মুফতি ফয়জুল করিম বলেছেন, চরমোনাই কচু পাতার পানি নয় দ্রুত পড়ে যাবে। তাই চরমোনাই মিশনের বিরোধীতাকারীদের কথার উত্তর না দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান করেছেন। চরমোনাই পন্থীদের প্রতি বস্তুবাদী মিডিয়া যতটা বৈষম্য করছে এর চেয়ে বেশি করছে ইসলামপন্থীরা। ইসলামপন্থীদের মধ্যে তারাই সবচেয়ে বেশি বিরোধীতা করে যারা জোট মহাজোটের সাথে যুক্ত। চরমোনাই মিশনের বিরোধীতা করার মধ্যে দুটি কারণ আমার কাছে ধরা পড়েছে।

১) বস্তুবাদী শক্তি তথা জোট মহাজোটে এজেন্ডা বাস্তবায়ন
২) হিংসা

১) বস্তুবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নঃ
যেসব ইসলামী দল জোট মহাজোটের সাথে আছেন তারা চরমোনাই পীর সাহেব এর কারণে শান্তিতে নেই। চরমোনাই পীর সাহেব ঘোষণা করেছে, নারী নেতৃত্ব হারাম তাই তিনি নারী নেতৃত্বাধীন কোন জোটের সাথে ঐক্য করেনা। এই ঘোষণার কারণে জোট মহাজোটে থাকা ইসলামী দল সমূহের সম্মানে আঘাত লাগে। তাই ঠুনকো বিষয়ে চরমোনাই পীর সাহেব ও তাঁর দলের কঠার সমালোচনা তথা উলঙ্গ সমালোচনায় মেতে উঠে। চরমোনাই পীর সাহেব ও তাঁর দল কোন ভাল কাজ করলেও তাতে সন্দেহ থাকে। এরাই চরমোনাই পীর সাহেব কে আওয়ামী লীগের দালাল বলে জনতাকে বিভ্রান্ত করে আসছে। কিন্তু জাতির কাছে আজ স্পষ্ট হয়েছে যারা চরমোনাই পীর সাহেব কে আওয়ামী লীগের দালাল বলেছে তাদেরকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নৌকা পেতে মরিয়া হতে দেখেছে এ জাতি সুতরাং চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে জোট মহাজোটের জন্যে চ্যালেন্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই কারণে জোটে থাকা ইসলামী দলের নেতাদের মাধ্যমে চরমোনাই মিশনের বিরোধীতা করানো হয়।যারা চরমোনাই মিশনের বিরোধীতা করে তাদের মুখ নিসৃতবাণী / কথা গুলো জোট কতৃক গিলানো বুলি বমি করে দেয় মাত্র সুতরাং চরমোনাই বিরোধীতাও বস্তুবাদী জোটের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ বলে মনে করছি।

২) হিংসা থেকে বিরোধীতাঃ
চরমোনাই মিশনের বিরোধীতার অন্যতম কারণ হল হিংসা। দিন দিন কেন চরমোনাই মিশনের অগ্রগতি বাড়ছে সেই চিন্তায় শুকিয়ে যাচ্ছে তারা। এরা হারবাল খেয়েও শারিরীক অবস্থার উন্নতি করতে পারছেনা। নিজেদের দলের পোস্টার লাগানো আর মিছিলে ব্যানার ধরার লোক পায়না অথচ চরমোনাই পীর সাহেবের ডাকে লাখ জনতা কেমন আসে সেই হিংসায় মরছে এরা। মুখের সুমধুর ঐক্যের শ্লোগান অন্তরে ষড়যন্ত্র রেখে ঐক্য আদৌ সম্ভব নয়। যদি চরমোনাইর উন্নতিতে হিংসা হয় এবং হিংসা থেকে বিরোধীতা করেন তাহলে জেনে রাখেন আপনাদের পতন অপেক্ষা করছে।ঐক্যের শ্লোগান হোক ইসলামের স্বার্থে।অন্তরে হিংসা রেখে ঐক্যের শ্লোগানে নিশ্চিত অনৈক্যের জন্ম দিবে।

চরমোনাই পন্থীদের প্রতি পরামর্শ থাকবে চরমোনাই মিশনের বিরোধীতাকারীদের প্রধান উদ্দেশ্যে হলো আপনাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া সুতরাং সমালোচনাকারীদের নিয়ে লেগে না থেকে কাজ চালিয়ে যান দেখবেন দিন শেষে তারা হেরে যাবে আর চরমোনাই পন্থীরা জিতে যাবে। পাছে লোকে কিছু বলে তাতে কি যায় আসে?

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী, কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840