সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
ঘাটাইলে স্ত্রীর দেয়া মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় বরের দুধ দিয়ে গোসল (ভিডিও সহ)

ঘাটাইলে স্ত্রীর দেয়া মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় বরের দুধ দিয়ে গোসল (ভিডিও সহ)

বরের দুধ দিয়ে গোসল
মুন্নী

ঘাটাইল উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বাঘাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ২০০৯ সালের ২৯ শে মে বিয়ে করেন। তিনি ভালবেসে পাশের উপজেলা কালিহাতীর পাইকরা ইউনিয়নের মেয়ে তাসলিমা আক্তার মুন্নি কে বিয়ে করেছিলেন। ভালোবাসার বিয়ে, সুখকর দাম্পত্য জীবনের শুরু। রোমান্টিক সময় দারুনভাবেই কাটছিল তাদের।

শফিকুল ইসলাম নামের ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায় বিয়ের দিন শফিকুল ইসলাম সহ ১৩-১৪ জনের বর যাত্রী মেয়ের বাড়ি গিয়েছিল। মূলত বিয়ের আগে তাদের এক থেকে দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বর পক্ষের লোকজনের আপত্তি থাকার পরও শফিকুল ইসলাম নিজের পছন্দ মতই মুন্নিকে বিয়ে করেন। বিয়ে করে ওইদিন মেয়েকে তুলে না আনলেও। মেয়ে নিজে থেকে ছেলের বাড়িতে কিছুদিনের মধ্যেই চলে যান।

বিয়ের পর পড়ালেখা করতে আগ্রহ থাকায় মুন্নিকে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম নিজের টাকায় ঢাকাতে প্যারাম্যাডিকেলে পড়াশোনাও করান। শফিকুল ইসলাম ভেবেছিলেন মুন্নিকে পড়ালেখা করিয়ে ভাল একটা চাকরি পাইয়ে দিতে পারলে তখন তাদের সংসারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জোর দার হবে। সুন্দর সংসারের স্বপ্নে বিভোর শফিকুল স্ত্রীর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে যা যা করনীয় সবই করেন।

মুন্নী ঢাকাতে পড়াশুনা করা কালীন সময়ে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পরলে স্বামির সাথে মনোমালিন্য হওয়া শুরু হয়।

২০১১ সালে কমিউনিটি ক্লিনিকের CHCP পদে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অধীনে রসুলপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগদান করেন স্ত্রী মুন্নি। রসুলপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে যোগদান করার প্রেক্ষিতে বাড়ি থেকে বেশি সময় সে বাইরে থাকার সুযোগ পায়। বেশি বেশি বাইরের মানুষের সাথে তার পরিচিত হবার সুযোগ-ও ঘটে। এমন সময়ে সে পরপুরুষে আর-ও বেশি আকৃষ্ট হতে থাকেন।

চাকরি হওয়ার পর থেকেই আরও বেশি বদলে যায় মুন্নির জীবনযাত্রা ও চলন বলন। সে যেন শফিকুলের কাছে অচেনা হয়ে যায়। শফিকুলের সব অবদান এক নিমিষেই সে ভুলে যেতে থাকে। শফিকুলকে সে নূন্যতম সম্মান তো দূরের কথা হয়ে যায় বেপরোয়া।

দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে ঝগড়া বিবাদ। যা তাদের সংসারকে বিষিয়ে তুলে। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের বিষয়ে অভিযোগ আনেন শফিকুল। তার স্ত্রীর উদ্যত পূর্ন আচরণ সমাজে তাকে হেয় করছিল বলে অভিযোগ করেন। একাধিক পরকীয়ার জড়িয়ে পড়েন স্ত্রী মুন্নি এমনটাই ছিল তার অভিযোগ।

শফিকুল শত চেষ্টা করেও তাকে সে পথ থেকে ফেরাতে পারেন নি। পারিবারিক ভাবে সকলেই বিষয়টা জানেন বলে অভিযোগ করেন শফিকুল। তাকে ফেরাতে পারেনি স্বজনরাও। একাধিকবার মুন্নীর পরিবারের সাথে এই বিষয়ে বোঝা পরা হয়েছে। তারা মেয়েকে ভুল পথ থেকে ফেরাতেও চেষ্টা করেছেন কিন্তু মেয়ে কখনো কারো কথায় কর্নপাত করেননি তিনি দিনি দিন বেসামাল আর বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

২০১২ সালে বাবার বাড়ির কথা বলে মুন্নী চলে গেলে আর ফিরে আসেনি। অবশেষে ২০১৫ সালে স্বামী শফিক কে ডিভোর্স দেন স্ত্রী মুন্নি আক্তার নিজেই। তার বরের বিরুদ্ধে খরপোষ ও মোহরানার মামলা করেন।

তাদের দেড় লাখ টাকা মোহরানায় বিয়ে হয় এবং পঁচিশ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। আদালত মামলার প্রেক্ষিতে শফিকুল কে গ্রেফতার করে খরপোষ ও ইজ্জ্বতহানি বাবদ ১৮ হাজার এবং কাবিন এর বকেয়া ১২৫০০০ সহ মোট ১৪৩০০০ টাকা শফিকুলকে প্রদান করতে বলা হয়। শফিকুল যথাক্রমে ৩০০০০, ২৫০০০, ১৫০০০, ৫০০০ এভাবে সমুদয় টাকা পরিশোধ করে।

মামলাটি আদালতে চলমান থাকলেও মুন্নী বেশ কয়েকবার আদালতে হাজির হয়নি। সমুদয় টাকা পরিশোধ বিবেচনায় গতকাল ২০/১০/২০১৯ইং টাঙ্গাইল আদালতে মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার গ্রামের মুরুব্বিদের পরামর্শে শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম বাড়ি ফিরে দুধ দিয়ে গোসল করেন। তার দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিওটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এলাকা জুড়ে। তিনি দাবী করেন একটি এমন একটি মামলা থেকে সে মুক্তি পাওয়াতে তার এই অভিনব পদ্ধতির উদযাপন।

এলাকার অনেকের সাথে কথা বলে জানাযায় শফিকুল আসলে ভাল একটি ছেলে। কোন প্রকার ঝামেলায় সে যায় না। এমন একটি মেয়ে তার কপালে ঝুঁটেছিল যা কল্পনাও করা যায় না।

শফিকুলকে আমরা প্রশ্ন করি ভালোবাসার বিয়ে তারপর মেয়ে নিজে থেকে ডিভোর্স দিয়ে আপনার নামে মামলা করলো কেন? তিনি বলেন আমি তাকে চাপ প্রয়োগ করে তার বাবার বাড়ি থেকে অর্থ নিয়েছি এবং আমি জুয়া খেলি এসব বলে তিনি অভিযোগ করেন। আসলে আমি তখন বেকার ছিলাম। এটাই আমাদের সম্পর্কের ফাঁটলের মূল কারন।

শফিকুল আবার বিয়ে করে নিয়েছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই আছেন।

মুন্নীর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে প্রথমে তার নাম তাসলিমা খান মুন্নী বলে জানান। তাদের বিষয়ে জানতে চেয়ে বলা হয় একপক্ষ থেকে কথা শুনে সংবাদ করলে সংবাদটি মিথ্যাও হতে পারে, আমরা সত্য সংবাদটি প্রকাশ করতে চাই তাই আমরা আপনার কাছে কিছু বিষয় জানতে চাই। তিনি নিউজ করার বিষয়ে থ্রেট করে বলেন “মামলাটি শেষ হয়নি। বর্তমান দিনকাল ভালো না। দেখেন তো চারিদিকে সাংবাদিকদের কতো কি হয়। নিউজ করলে খবর আছে” বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

(ভিডিও দেখতে দয়া করে আমাদের ফেসবুক পেইজে যান)

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840