সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
চট্টগ্রামের মেয়র হবেন হাতপাখা প্রার্থী

চট্টগ্রামের মেয়র হবেন হাতপাখা প্রার্থী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

চসিক নির্বাচনে হাতপাখার অবস্থান বনাম রাজনৈতিক ভাবনা।

অতি সাম্প্রাতিক যে সব নির্বাচন হয়েছে তার চুলচেড়া বিশ্লেষণ করলে চসিক নির্বাচন কেমন হবে তা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়।বিশেষ করে গত ১ লা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেও এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারছি না।সিইসি বরাবরই বলে আসছে তারা সুষ্টু নির্বাচন করবে। এসব কথা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনের পূর্বেও বলেছিল কিন্তু বাস্তবতা হল সম্পূর্ণ বিপরীত। ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দুই প্রার্থীকে সাথে নিয়ে সিইসির সাথে বৈঠকে বসেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ন:মহাসচিব- মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং সিইসিকে ইজ্জত নিয়ে পদত্যাগ করতে বলেছিল। সিইসির লজ্জা থাকলে স্বপদে বহাল থাকত না।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছিল, সিইসি একটা রোবট আর ইভিএম হলো ইলেকট্রনিক বাটপারি মেশিন।ঢাকা দুই সিটি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর কথা সঠিক প্রমাণিত।

আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন। চলছে নির্বাচনি প্রচারণাও।কয়েকদিন পূর্বে সিইসি মেয়ের প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। সেই মতবিনিময় সভায় হাতপাখার প্রার্থী জ্বনাব জান্নাতুল ইসলাম চসিক নির্বাচন পেছানোর দাবি জানান। গতকাল সিইসির বিবৃতি চসিক নির্বাচন পেছানো হবেনা। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে করোনার ঝুঁকি অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক বেশি।

দেশব্যাপি সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ। তা স্বত্বেও নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম।

গত শুক্রবার ইসলামী যুব আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চসিক নির্বাচনে হাতপাখার পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। বিরামহীনভাবে চলছে প্রচারণা। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতিও। প্রার্থীদের এমন মুখরোচক প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে বলে মনে হয়না। এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের অন্তরে বিশ্বাস জমে গেছে যেভাবেই হোক নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জয় হবে। এর আগের নির্বাচনের ফলাফল এমনটাই বলছে। ভোটের প্রতি মানুষের নুন্যতম আস্থা ও বিশ্বাস নেই।

নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ তোষামোদ আর পক্ষপাতমূলক আচরণের ফল নৌকায় উঠবে এমনটাই ধারণা সাধারণ মানুষের। এটার নাম ইলেকশন নয় সিলেকশন বলা যায়। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে না পারলে এমন প্রহসনের নির্বাচনে দেশের হাজার কোটি টাকা অপচয়ের মানে হয় না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

নৌকা ধানের শীষের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে হাতপাখার প্রচারণাও। আজ ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সদরঘাট ও রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় গণসংযোগ করেছে হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম। সেই গণসংযোগে অংশ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্নমহাসচিব, রাষ্ট্রচিন্তক,বিশিষ্ট রাজনীতিক জনাব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং দলটির রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন।

হাতপাখার প্রার্থী স্মার্ট, ক্লীন, গ্রীন ও দুর্নীতিমুক্ত সিটি গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নির্বাচনে ফের লাভবান হবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

অনেকে ধরেই নিয়েছে নৌকার জয় নিশ্চিত। Might is right – জোর যার মল্লুক তার, এর ভিত্তিতেই ফলাফল হবে। ঢাকা দুই সিটিতে হাতপাখার অবস্থান ছিল তৃতীয়। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী জনাব ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া ভোটের অংকে তৃতীয় হয়েছিল। সেবার দলীয় প্রতীক ছিল না। এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন তাই দলীয় কর্মীরা উৎফুল্ল।

সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করাটা আকাশ কুসুম কল্পনা হলেও আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাতপাখা চমক দেখাবে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আগামী ২১ ও ২২ মার্চ দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম চসিক নির্বাচনের প্রচারণায় থাকবেন। এতে নেতা কর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। দিন দিন প্রচারণায় লোক সমাগম বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক হলে চসিক নির্বাচনে চমক দেখাবে হাতপাখা।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

মতামত কলামের সকল লেখার ভাবনা লেখকের নিজস্ব। সম্পাদক/কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840