সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
চরমোনাই ঠেকাও শ্লোগান বনাম চরমোনাই পন্থীদের করণীয়

চরমোনাই ঠেকাও শ্লোগান বনাম চরমোনাই পন্থীদের করণীয়

চরমোনাই
চরমোনাই

চরমোনাই বরিশাল জেলার একটি ইউনিয়নের নাম কিন্তু চরমোনাই এখন আর ইউনিয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরমোনাই নামটি পরিচিত হয়ে উঠেছে। চরমোনাই বলতে এখন বেশ কিছু মিশন কে বুঝায় তা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মিশন। চরমোনাই কেন্দ্রিক রাজনৈতিক মিশন হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,ইসলামী যুব আন্দোলন, ইশা ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ, মুক্তিযুদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম।

অরাজনৈতিক মিশন গুলো হলো- জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষাবোর্ড। বলতে গেলে এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে চরমোনাই পন্থীরা নেই।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির পর তাদের অবস্থান। দেশব্যাপি তাদের সংগঠন মজবুত। দেশের বাইরে প্রায় ৬০ দেশে ( আমিরের ভাষ্যমতে) তাদের সাংগঠনিক কাজ চলছে। তাদের এমন উন্নতিতে বস্তুবাদী, বামপন্থীদের যেমন ঘুম নেই তেমনি স্বজাতিরও অন্তরজ্বালার অন্ত নেই। মুনাফিকরা কষছে নতুন ছক কিভাবে চরমোনাই কে ঠেকানো যায়। এত কিছুর পরও চরমোনাই ওয়ালাদের দমানো যাচ্ছে না দেখে কূটকৌশল অবলম্ববন করছে অনেকেই। পর্দার আড়ালে কলকাটি নাড়ছে বিজ্ঞ ষড়যন্ত্রকারীরা।

রাজনৈতিক ময়দানে ঠেকাতে না পেরে চরমোনাই তরিকায় ভুল, তারা লাফালাফি করে এসব সস্তা বুলি উড়িয়ে মার্কেট পাওয়ার ধান্ধা করছে। ছলে বলে কৌশলে চরমোনাই ঠেকাও মিশনে নেমেছে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু ষড়যন্ত্রকারী। আগামী কাল ২৬ নভেম্বর থেকে চরমোনাই মাহফিল শুরু। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আল্লাহর পাগলরা চরমোনাই পানে ছুটছে। প্রতি বছর ভারতের দেওবন্দ মাদরাসার বিজ্ঞ আলেমরা চরমোনাই আসে এবং বয়ান করে যায়। তারা সবাই এক বাক্যে ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই হক তরিকা তাতে কোন বেদাত নেই।তা স্বর্থেও যারা চরমোনাই তরিকার বিরোধিতা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

মানুষ দুই কারণে চরমোনাইর বিরোধীতা করো
১) হিংসা
২) মূর্খতা
ইসলামের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে সর্ব প্রথম আন্দোলন সংগ্রাম করে চরমোনাই পন্থীরা। তা স্বর্থেও তাদের ঠেকানোর শ্লোগান কেন চারদিকে? তার প্রধান কারণ হলো হিংসা। তাদের দলে পোষ্টার লাগানো জন্য আর মিছিলের ব্যানার ধরার জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যায়না অন্যদিকে চরমোনাই মিশনে জ্যামিতিক হারে লোক বাড়ছে তা সহ্য হচ্ছে না। চরমোনাইর বিরোধীতা করে চরমোনাই কে ঠেকানো সম্ভব নয়। জাস্ট ব্যর্থ চেষ্টা। আল্লাহ যদি চরমোনাই পন্থীদের উন্নতি দেয় তাহলে আপনি ঠেকাতে যাওয়া মানে আল্লাহর সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সুতরাং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন হিংসা করে চরমোনাই পন্থীদের দমাচ্ছেন নাকি বাড়াচ্ছেন?

চরমোনাই মাহফিলে বেদাতি কাজ হয় বলে প্রচার করে আপনি চরমোনাইর বহু ফায়দা করেছেন। হাজার হাজার লোক কৌতুহলী হয়ে চরমোনাই মাহফিলে বেদাত তালাশ করতে গিয়ে চরমোনাই পন্থী হয়ে যাচ্ছে। করতে চাইছেন ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে লাভ এটাই বিধাতার খেলা। সৌদি আরবে মুফতি ফয়জুল করিম আই এস এর এজেন্ড বলে ষড়যন্ত্র করে গ্রেপ্তার করিয়েছিল ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু বিপরীতে সৌদি সরকার চরমোনাই পন্থীদের আকাশচুম্বী সম্মান দিলেন।
সৌদি সরকার মুফতি ফয়জুল করিমের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। এর পর থেকে সৌদির ধর্মসচিব, সৌদি রাষ্ট্রদূত চরমোনাই মাহফিলে আসা শুরু করে।করতে যাবেন ক্ষতি হয়ে যাবে লাভ। এটাই বিধাতার খেলা।

চরমোনাই পন্থীদের করণীয়
১) হিংসকুদের কথায় কান না দেওয়া।
২) বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকলে দলের হাইকমান্ড জাতির কাছে সঠিক বার্তা তুলে ধরবে।
৩) যে কোন মুরব্বি আলেমের কথায় কর্মীরা নিরব থাকবে।
৪) দেওবন্দসহ দেশের প্রখ্যাত আলেমদের একত্রিত করে চরমোনাই তরিকা ও মিশনের ভুল থাকলে তা জাতির কাছে স্পষ্ট করা।(এটা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমেও হতে পারে)।
৫) গণমুখী রাজনীতিতে গুরুত্বারোপ।
৬) প্রত্যেক মিশনের নেতা কর্মীদের প্রতি কঠিন নির্দেশনা দেওয়া অনলাইন ও অফলাইনে কওমী ঘরোয়ানার কোন আলেমের কথার উত্তর বা প্রতি উত্তর নিয়ে লেখালেখি না করার।
৭) রাজনৈতিক দূরত্ব বৃদ্ধি না করে কওমী ঘরানার সংগঠনের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা।
৮) দলের সিনিয়র নেতা ব্যথিত নিম্মস্তরের কেউ মিডিয়ায় কথা না বলা।
৯) দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে দেশব্যাপি কাজে গতি বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষিত কর্মী সৃষ্টি করা।
১০) দেশের স্বার্থে গণমুখী রাজনীতির চর্চা এবং প্রত্যেক সেক্টরের লোক যেমন: সাংবাদিক, সাবেক সচিব, আমলা, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ সাবেক সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগা বৃদ্ধি করা।
১১) প্রতিটি জাতীয় দিবস, মাওলানা ভাষাণী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকসহ জাতীয় নেতাদের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বড় পরিসরে দোয়া মাহফিল / আলোচনা সভা করে তাদের অবদান কে জাতির সামনে তুলে ধরা।
১২) দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিন মাস পর পর জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় করা।
১৩) জাতীয় শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, দেশের সিনিয়র নাগরিকদের সাথে উন্মুক্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা।
১৪) বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
১৫) বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় সরকারের সাথে যোগাযোগ সৃষ্টির প্রয়াস চালানো।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী – কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840