সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে আবার-ও আহত যাত্রী

চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে আবার-ও আহত যাত্রী

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

বাংলাদেশ রেলওয়ের গর্ব করার মত ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে যদি কোন পরিবহন থাকে সেটি হলো পরিবহন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। ১৬ আগষ্ট বিকেল ৫ টায় চট্টগ্রাম থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ছবিতে বেন্ডেজ লাগানো বাচ্চা মেয়েটিও তার মা বাবার সাথে হাজার হাজার যাত্রীর সাথে সহ যাত্রী হয়। মেয়েটি ও অন্যান্য ছেলেমেয়েদের মত প্রাণবন্ত ছিলো।

ঈদের আনন্দ মুখর পরিবেশ ছেড়ে। কর্মব্যস্ত জীবনে সকল মানুষ পদার্পন করতে ব্যস্ত। শনি ও রবিবারে আবার-ও কর্মজীবীরা আগের মতো কর্মব্যস্ত হয়ে পরবে আর শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল-কলেজ-প্রাইভেট-কোচিং।

এই মেয়েটিও তার বাবা মায়ের সাথে ফিরছিলেন ঢাকায় তেমনেই আনন্দমুখর পরিবেশে। পড়ালেখা করবে, অনেক বড় হবে তেমন-ই স্বপ্ন নিয়ে।

সন্ধ্যা ৭ পার হয়নি এমন সময় একটি পাথর জানালা দিয়ে এসে মেয়েটিকে চোখের ফলকে রক্তাক্ত করে দিল। ট্রেনটি তখনো কুমিল্লা অতিক্রম করেনি এবং ঘড়ির কাটাও তখন মেয়েটি কান্না আর যাত্রীদের চিৎকারে মনে হলো সত্যিই আমরা সবাই অসহায়।

ট্রেনে এমনিভাবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আজ নতুন কিছু নয়। নিয়মিতই চলে আসছে এটা। বিসিএস ক্যাডার-ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের মতো জোতির মেধাবী সন্তানরাও অসময়ে এই দৃর্বৃত্তদের পাথরের আঘাতে জীবন দিয়েছেন অবলীলায়। যখন কেউ মারা যায় প্রতিবাদে ফেটে পরে সারাদেশ। দু-চার জন গ্রেফতার। তারপর সব ঠান্ডা হয়ে যায়। আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আর-ও দুর্দান্ত প্রতাপে আগের চেয়েও ভয়ানকভাবে তারা মানুষকে আঘাত শুরু করে। প্রান যায়-আহত হয় হাজারো স্বপ্ন।

মেয়েটি যেখানে আঘাতপ্রাপ্ত হয় সেখান থেকে কমলাপুর পৌঁছাতে কম করে হলেও ঘন্টা চারেক সময় লাগে। মেয়েটি এপর্যন্ত ঘ বগিতে অচেতন অবস্থা পরে ছিল। যাত্রীদের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডেজ করা সম্ভব হলেও রক্তপাত হয়েছে প্রচুর।

আমাদের দেশের চলমান ট্রেন গুলোতে কোন সেফটি নেটের ব্যবস্থা নেই। নেই সরকারের এই বিষয়ে বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ। চলন্ত ট্রেন থেকেই সচেতন নাগরিক হিসেবে অনেকেই মেয়েটার ছবি দিয়ে ফেসবুকে প্রতিবাদে নেমে পরেন।

একজন বলেছেন “অন্যান্য ট্রেন গুলোতে হরহামেশা চিনতাই, চুরি ডাকাতির খবর পাই কিন্তু সোনার বাংলায় ও এমনটি শুরু হলো। আমি মাননীয় মন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন সাহেবের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে পোঁছবার সাথে-সাথেই মেয়েটির সু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।”

“শুধু কি চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব পালন শেষ হয়ে গেল?” এমন মন্তব্য-ও করেছে অসহায় অনেক জনগন।

আবু দস্তগীর সেলিম নামে একজন লিখ “প্রতিটি ট্রেনে রেলওয়ে অস্ত্রধারী সিকিউরিটি অফিসারদের গুলি করার অধিকার দিয়ে দিলেই তো হয়! এভাবে আর কতদিন? দুইপাশে যে কোন এক বগিতে বসে তারা অন্তত ২ জন বা ৪ জন ডিউটি করবে। দেখলেই সরাসরি গুলি করবে। গুলি তো অনেক দূর পযন্ত যায়। কিন্তু অনেক দূর থেকে পাথর নিক্ষেপ করা যায়না। তাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মরার চান্স ৯০% এর বেশী।

সরকারের ইচ্ছাতেই এটা সম্ভব। পাথর ছোডার ঘটনা নতুন নয়। আর যাত্রার পুরো দুরত্বে পাথর যে নিক্ষিপ্ত হয় তাও না। রেল কর্তৃপক্ষ কোন কোন এলাকা অতিক্রম করার সময় পাথর বেশী নিক্ষিপ্ত হয় সেটা ট্রেস করতে চাইলে এতদিনে হয়ে যেত। আর এই বদমাইশি যারা করে তারা কোন না কোন সিন্ডিকেটের অংশ। তাই এই বদমাইশি বন্ধ করতে হলে রিস্ক তো নিতেই হবে।

সাকিব খান নামে একজন লিখেন “কিছু এলাকা আছে যেখানে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে সেসব জায়গায় অভিযান চালাতে পারে কিন্তু বাংলাদেশে এত বড় বড় সমস্যা যে সেসব ট্যাকেল দিতে গিয়ে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা অতি নগন্য তাই চাপা পড়ে যায়।”

জনরোষে হয়তো কয়েকদিন বা কয়েকমুহুর্তের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কিন্তু এই সমস্যার আদৌ-ও কি কোন সমাধান হবে!
সারাদেশের সকল ট্রেনেই পাথর নিক্ষেপের মতো ঘটনা নিয়মিতই ঘটে চলেছে। কখনো কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টাকে গুরুত্বের সাথে দেখেনি। ট্রেনে চলাচলের মানুষগুলো কি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে না? কারা ট্রেনে এমন ঘটনা ঘটায়? তারা কি চায়? তাদের উদ্দেশ্য কি?

সরকারের খুব দ্রুতই এই বিষয়ে সিদ্দান্তে পৌঁছানো উচিত।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840