সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
চিন ও বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তার আবেদন বাংলাদেশের

চিন ও বিশ্বব্যাংকের কাছে সহায়তার আবেদন বাংলাদেশের

করোনা
করোনা

নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ শনাক্ত করতে পর্যাপ্ত কিট নেই রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। কিটস্বল্পতার কারণে মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। শুধুমাত্র রোগের লক্ষণ এর উপর ভিত্তি করেই করোনার রিপোর্ট দিচ্ছেন বলে অভিহীত করেছেন বেশ কিছু লোকজন।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের কাছে ১০ হাজার কিট, ১০ হাজার থার্মাল স্ক্যানার চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মাস্কও চাওয়া হয়েছে। গত সোমবার সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিট ও স্ক্যানার চাওয়া হয় চীনের কাছে। চিন দ্রুতই সাড়া দিবেন বলেন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন একাধীক সংশ্লিষ্ট।

ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কিট ও স্ক্যানারের সহযোগিতা চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাড়াও মিলেছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তির দেশটি থেকে। চীনেই প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়। যদিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে চীনে। এরই মধ্যে ইতালি, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিট, স্ক্যানারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। চীনে সবার আগে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় আর মহামারী আকার ধারণ করে তারপর তা ক্রমশই ছড়িয়ে পরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে। চীন এর ভয়াবহতা ও ব্যাপকতার কারনে তারাই সবার আগে গবেষণা শুরু করে এবং তাদের ব্যাপক জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির কারনে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি চেয়ে আবেদন করছে।

ইআরডির এশিয়া শাখার প্রধান (যুগ্ম সচিব) শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আমরা চীনের কাছে কিট ও স্ক্যানার চেয়েছি। মাস্কও চেয়েছি। তারা আমাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই কিট ও স্ক্যানার পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একাধিক ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশে মাস্ক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এরকম বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসে তখন আমাদের জন্য এই সমস্যাটি সমাধান সহজ হয়ে যাবে।

আইইডিসিআরের তথ্য মতে, তাদের হাতে এখন মাত্র এক হাজার ৭৩২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য কিট আছে। দ্রুত রোগী চিহ্নিত করতে কিট ও থার্মাল স্ক্যানার জরুরি বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা। সেই আলোকেই চীনের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তারা সবাইকেই কিট এর সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করছে না। বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কাউকে পেলে, যার সকল লক্ষণ দেখে ১০০% নিশ্চিত করোনা হয়েছে তাকেই আপাতত কিট ব্যবহার করে চুরান্ত পরীক্ষা নিরিক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যথেষ্ট থার্মাল স্ক্যানার নেই। আইইডিসিআর যেসব জরুরি নম্বর দিয়েছে, সেখানে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ ফোন করছে। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, চীন থেকে কিট ও থার্মাল স্ক্যানার মিললে কভিড-১৯ শনাক্তকরণে আইইডিসিআরের কাজ সহজ হবে। দ্রুততার সাথে রোগ নির্ণয় করতে এর কোন বিকল্প নেই।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা কামনা করেছে বাংলাদেশ। নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮৫০ কোটি টাকা।

গত সোমবার ইআরডি থেকে বিশ্বব্যাংকের কাছে এই সহায়তা চাওয়া হয়। ইআরডির বিশ্বব্যাংক শাখার প্রধান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব শাহাবুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সাধারণত অন্যান্য ঋণ পেতে আমাদের সময় লাগে আট থেকে ১০ মাস। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই টাকা পেতে এত সময় লাগবে না। তিন থেকে চার মাস লাগবে। তাদের একটি মিশন বাংলাদেশে আসবে। তার পরই দ্রুত একটি প্রকল্প নেওয়া হবে। কারণ বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করে থাকে। আমরা আশা করবো কাজটি খুব দ্রুতই হবে।’

ইআরডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক করোনাভাইরাস ঠেকাতে যে এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে, সেখান থেকে বাংলাদেশ সহযোগিতা চায়নি।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আইডিএ ১৮ প্যাকেজের আওতায় ১০ কোটি ডলার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আইডিএ ১৮ প্যাকেজের আওতায় অনুদান পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সে ক্ষেত্রে ঋণ হিসেবেই এই ৮৫০ কোটি টাকা নিতে হবে বাংলাদেশকে।

যদিও এই ১০ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়ার অনুরোধ করেছে ইআরডি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশ্ব ব্যাংক টাকা দিয়েছে, কিন্তু খরচ হয়নি; সেই টাকা আরেক দেশকে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেটা বাংলাদেশ চেয়েছে।

বাংলাদেশে এই ঋণ আসতে আসতে তিন থেকে চার মাস সময় লেগে যাবে, ততদিনে যদি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকে তখন দেশের পরিস্থিতি কি অবস্থায় দাঁড়াবে! এটা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেন বিজ্ঞজনেরা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840