সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
চুপ কথার রাণী

চুপ কথার রাণী

জাহাঙ্গীর আলম সোহেল
জাহাঙ্গীর আলম সোহেল

জাহাঙ্গীর আলম সোহেল

মেয়টির রাজা নেই রাজ্য নেই
কোন সিংহাসন নেই, তবো সে রাণী।
আরে মেয়েটির নামইযে রাণী!
তাই মেয়েটি সবার কাছেই রাণী।

গরীবের ঘরে জন্ম রাণীর
তবোও ছিলোনা গরীব,
বাবা মায়ের আদর শ্রেষ্ঠ ধন
সবাই তাহা মানি।

শিশু রাণী কৈশরে এসে
কথায় সে মহারাণী,
তাহার কথায় কোকিল চুপ
এতো মিষ্টি বাণী।

হঠাৎ করেই রাণীর মাকে
গ্রাস করলো মরন ব্যাধি,
কথার রাণী চুপ হয়ে গেলো
আর দেয়না মিষ্টি হাসি।

মা মরা মেয়ে কাঁদে গোপনে
বাবা পারেনা সহিতে,
বাবা আবার বিয়ে করবে
মায়ের আদর দিতে।

রাণীর মুখে হাসি ফুটাতে
বাবা করিলো সাদি,
কথার রাণী নিজের ঘরে
এবার হলো দাসী।

কত আর বয়স হবে!
শিশুকাল পেরিয়ে কৈশরে সবে,
ছুটাছুটির বয়সে বাড়ির আঙ্গিনায়
আনমনে ঘুরেফিরে।

সৎ মায়ের অবহেলা
কত বকাবকি,
অভিযোগ করলেই লাগে
সংসারে অশান্তি।

সৎ মা চুলের ঝুটি ধরে
শাসিয়ে বলে চুপ,
বাবা চোখ রাঙিয়ে বলে
বাড় বেড়েছিস খুব।

কথার রাণী চুপ হয়ে গেলো
কথা বললেই দোষ,
কেউ নেয়না রাণীর খবর
কেউ রাখেনা খোঁজ।

রাণী কথা বলতে জানে কাঁদতে জানে
তবোও সে চুপ,
মনের কষ্ট মনেই বলে
থাকিসনা কেন চুপ।

খুধায় ভাত চাইতে গেলে
শুনতে হয় চুপ,
ভারী কাজে ব্যাথা পেলেও
থাকতে হয় চুপ।

কৈশোর পেড়িয়ে যৌবনে রাণী
কতো চাওয়া বুকের ভিতর,
স্বপ্ন আশাকে দমিয়ে রাখে
শাসিয়ে করে চুপ।

আশেপাশে কত মানুষ
কথা বলে কতো,
রাণী যেনো বোবা পাথর
নেই কোন অভিযোগ।

হঠাৎ করেই বিয়ে রাণীর
চমকে উঠে রাণী,
নীরবে মনকে সান্ত্বনা দেয়
হয়তো পাবে সে মুক্তি।

নতুন সংসার নতুন মানুষ
তাই থাকে চুপ,
সারাদিন ভয়ে কাটে
কখন ধরে কে দোষ।

স্বামীর আদর এতো নির্মম
ছিলোনাতো জানা,
সেসব কথা বলতে নেই
বললেই বেশরম বেহায়া।

সুখে নাকি উচ্ছাস থাকে
ফুটে মিষ্টি হাসি,
রাণীর সুখ ব্যাথায় ভরা
এ কেমন স্বামী।

দাঁত কিড়মিড়িয়ে থাকে চুপ
সুখের সন্ধান পেতে,
দম বুঝি বের হয়ে যাবে
স্বামীর পৃষ্ঠতলে।

অর্ধ বয়স্ক রাণীর স্বামী
রোগে দেহো ভরা,
কাজ কর্মে নেইতো স্বামী
মিছে পুরুষের বাহানা।

সয়না রাণীর সুখের ভার
চুপ রবে কতকাল,
স্বামীকে সে পারেনা বুঝাতে
মার খায় ঠুসঠাস।

যৌতুক পায়নি রাণীর স্বামী
বিয়েটাই যেনো ভুল,
রাণী সেবায় ভুলাতে পারেনা
স্বামীর বেজায় লোভ।

শশুড় শাশুড়ীর তেতো কথা
নীরবে কলিজা কাটে,
কারো কাছে বলতে নেই
গুরুজন তারা সবে।

রাণীর মন নীরবে কহে
আর কত থাকবি ভবে,
সুখের দেখা পাবিনা তুই
মর গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে।

চুপি চুপি চুপ কথা
বলে নিজের কাছে,
স্বামীর ব্যাথা ভাতের খুধা
মিটবে মাটির তলে।

গভীর রাতে স্বামীর কাছে
পারেনা নিজেকে ছুটাতে,
বাঘের থাবায় হরিণ কি আর
বাঁচার আশা রাখে।

দোচোখে রানীর তেক্ত জল
গাল বেয়ে নামে,
উরুর ভাজেও গড়ছে ঢল
নুনের জল কাটা ঘায়ে।

বিষাক্ত ছোবলে রক্তাক্ত রাণী
কুকিয়ে উঠে বসে,
নরম পা এগিয়ে যায়
শক্ত মাটি ভিজিয়ে।

ব্যাথায় কাতর রুগ্ন বদন
চলে ধিরে ধিরে,
ছেড়া আঁচল গাছের ঢালে
বাঁধে শক্ত করে।

কৈশরে এসে সেইযে চুপ
আজোও খুলেনি মুখ,
মরার আগেও চুপযে রাণী
ঝুলন্ত নিশ্চুপ বুক।


জাহাঙ্গীর আলম সোহেল একজন রেমিটেন্স আয়কারী যোদ্ধা। যিনি প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি তীব্র গতিতে তার ক্ষুরধার কলম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রতিটি লেখায় স্পর্শ পায় বিপ্লবের, হাত ছানি দেয় বিদ্রোহের। রূমান্টিক অনুগল্প লিখে পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে জাহাঙ্গীর আলম সোহেল। সে প্রতিনিয়ত প্রবাস জীবনের অক্লান্ত পরিশ্রমের আয় থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন হাজারো মানুষকে। আমার জানামতে বিশাল হৃদয়ের জাহাঙ্গীর আলম সোহেল। সর্বদা তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করে একাত্তর পরিবার।

খবরটি শেয়ার করুন..

One response to “চুপ কথার রাণী”

  1. জাহাঙ্গীর আলম সোহেল says:

    অনেক অনেক শ্রদ্ধাও ভালোবাসা দৈনিক৭১কে।
    সেই সাথে সাংবাদিক সম্পাদক শামীম ভাইয়ের প্রতি রইলো হাজার সালাম।




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840