সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ছাত্রলীগ ও বুয়েট ভিসির অবস্থান

ছাত্রলীগ ও বুয়েট ভিসির অবস্থান

ছাত্রলীগ বহিষ্কার
ছাত্রলীগ বহিষ্কার

আবরার হত্যায় ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি খুব দ্রুত বিচক্ষণতার সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করে বুয়েট ছাত্রলীগের খুনিদের বহি:ষ্কার করেছেন।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন ছাত্রলীগ যদি এতো দ্রুত কোন তদন্ত শেষ করে সিদ্ধান্ত নিতেত পারে তাহলে অন্যরা পারে না কেন! ভিসির অবস্থান অপরিষ্কার কেন? অমিতের কি হলো? সে কেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে?

শোভন-রব্বানীর বিদায়ের পর লেখক ভট্রাচার্য (সাধারণ সম্পাক, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ) এবং আল নাহিয়ান জয় (সভাপতি, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ) দায়িত্ব গ্রহণ করে। উভয়েই ভারপ্রাপ্ত পদে আসীন আছেন।

আবরার খুনের ঘটনায় তারা তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করে জানায় কোন অবস্থাতেই দোষী ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংগঠিক আইন অনুযায়ী ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নিবে আর সরকার-প্রশাসন তার মত করে ব্যবস্থা নিবে।

আবরার হত্যার সাথে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ কর্তৃপক্ষ দেখাতে গড়িমসি করে এবং ভিসির ক্যাম্পাসে না আসায় এক ধরণের বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী খুনের পর ভিসি নিজেকে অসুস্থ্য দাবী করে ঘটনাস্থলে না আসায় অনেকেই ইঙ্গিতটাকে ঘটনার সাথে জড়িত বলেই ধরে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার রাতে সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে দেয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।’

বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ছাড়াও সহ সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, মুনতাসির আল জেমি (সদস্য), এহতেসামুল রাব্বি তানিম (সদস্য) ও মুজাহিদুর রহমান (সদস্য) রা হলেন বহিষ্কৃত।

সোমবার দিন ছাত্রলীগ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেয় তদন্ত কমিটি করে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে বুয়েট এর আরেকজন শিক্ষার্থী যিনি ছাত্রলীগে আছেন এবং উক্ত ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন সেই ইস্কন সদস্য অমিতকে বহিষ্কার করা হয়নি। কার চাপে বা কি কারনে অমিতের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আবরার শেরে বাংলা হলের ১০১১ নাম্বার রুমে থাকতেন সেখান থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর পিটিয়ে মেরে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এমনিতেই ছাত্রেলীগের ইমেজ সঙ্কট সেখানে নতুন করে আবার-ও অভিযোগ যা সুস্পষ্ট এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে প্রমানিত।

সোমবার রাতে খুন হওয়া আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে এ উনিশ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শোকাহত বাবা দ্রুত বিচারের দাবী করেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বুয়েটের ১৯ জন ছাত্রকে পুলিশ আটক করে জানিয়েছেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন অন্যান্য ঘটনার মতোই সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিবে। পুলিশ যাদেরকে গ্রেফতার করেছে সেসব নিশ্চিত হয়েই করেছেন। ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গেছেন পুলিশ।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসিমুখে গ্রেফতার হয়ে পুলিশি হেফাজতে যাচ্ছেন বিষয়টা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পরেন সাধারণ মানুষ। একজন খুনি সে হাসতে হাসতে মানুষ খুন করে আবার হাসিমুখেই সে গ্রেফতার হচ্ছে এসব কিসের ইঙ্গিত।

বিশ্বজিৎ কিংবা অন্যান্য খুনের মতোই কি এই ক্ষেত্রেও একই কায়দায় সব আড়াল হবে? দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাবিতেও ভর্তি পরীক্ষায় ১৩৪ তম হয়ে জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ চান্স পেয়েছিলেন আবরার। আবরার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায়-ও উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

আবরারকে হারিয়ে জাতি এক মেধাবীকে হারালো এই বিষয়ে কোন দ্বিমত না থাকলেও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় আছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840