সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ছাত্র রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা : নুর আহমদ সিদ্দিকী

ছাত্র রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা : নুর আহমদ সিদ্দিকী

ছাত্র রাজনীতি
ছাত্র রাজনীতি

একজন সচেতন অভিভাবক ছাত্র রাজনীতির নাম শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে উঠে।চিন্তিত হয় তার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যত নিয়ে। ছাত্র রাজনীতির প্রতি মানুষের এই বিতৃষ্ণা এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। ছাত্র সংগঠন গুলোর প্রতিহিংসা আর নোংরামীকে রাজনৈতিক সংস্কৃতি করে নেওয়ার কারণেই ছাত্র রাজনীতির প্রতি অভিভাবক শ্রেণির বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়েছে।

১৯৪৭ সাল থেকে নব্বইয়ের দশকের পূর্ব পর্যন্ত ছাত্র সংগঠন গুলো সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ ও ছাত্র সংগঠন গুলোর উল্লেখযোগ্য ভুমিকা ছিল।

আজকের ছাত্রলীগ যেভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে নব্বইয়ের দশকের পূর্বে তারা এমন ছিলনা। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে আওয়ামী লীগ আর ছাত্রলীগ নিবিড়ভাবে জড়িত। ছাত্রলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। তাদের রয়েছে ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। একটা সময় ছাত্রলীগ ছিল অসহায় ও নিপীড়ত মানুষ বন্ধু। কিন্তু ২০১৯ সালে এসে কেন প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক তাদের নিষিদ্ধের দাবি উঠবে। এর অন্যতম কারণ হল নব্বইয়ের দশকের পর থেকে তারা নৃশংস রাজনীতির চর্চা করছে যা আদৌ কাম্য নয়।

ছাত্র সংগঠন গুলোর প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চার জন্যে ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকরাই দায়ী। এসব ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকরা তাদের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র সংগঠন গুলোকে ব্যবহার করে আসছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররা হল দখল আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যে অস্ত্রের মহাড়া শুরু করে তাতে সাধারণ ছাত্র সমাজ সর্বদা ভয়ের মধ্যে থাকে। সাধারণ ছাত্র সমাজ আজ এসব ছাত্র সংগঠন গুলোর অস্ত্রের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। যে সব ছাত্র সংগঠন সাধারণ ছাত্র সমাজ কে অস্ত্রের মাধ্যমে জিম্মি করে রেখেছে তারা অস্ত্র কোথায় পেয়েছে?

উত্তরে নিশ্চয় বলতে হবে তাদের মূল সংগঠনের ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিক কর্তৃক তাদের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য আর খুন খারাবির জন্য শুধু ছাত্র সংগঠন গুলো দায়ী হবে কেন?

দায়ী তো মূল সংগঠনের ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকগন যারা তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদের হাতে কলম খাতার পরিবর্তে মারণস্ত্র তুলে দিয়েছে।

সাম্প্রাতিক বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার মধ্য দিয়ে কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠছে।ইতোমধ্যে বুয়েটে ছাত্র ও শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।

ঢাবি, জাবি, রাবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে।এই দাবি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অভিভাকরা জোর দাবি তুলছে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি বন্ধের। কেউ কেউ শুধু ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলছে। কেউ বা আবার সকল প্রকাল ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করছে।

শুধু ছাত্রলীগ নয় যারাই ক্ষমতায় গেছে তাদের ছাত্র সংগঠন গুলো হল দখল আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলেজ ইউনিভার্সিটি গুলোতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল আর ইসলামী ছাত্র শিবির ক্ষমতায় থাকাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম নৈরাজ্য করেনি। ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল শিবিরের মধ্যে আমি কোন পার্থক্য খুঁজে পায়না। ক্ষমতা পেলে হয়ে উঠে একেক জন চতুষ্পদী জানোয়ারের চেয়ে হিংস্র।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় চাই প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির পরিশুদ্ধি। পেশী শক্তির ব্যবহার রোধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহাড়া বন্ধে কার্যকরী পদেক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ছাত্রদের হাতে কারা অস্ত্র তুলে দিয়েছে এবং ছাত্রদের প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চায় কারা ইন্ধন দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওয়াতায় আনতে হবে।

তাদের কে যারা অস্ত্র সরবরাহ করছে তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করতে হবে সুতরাং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয় বরং সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে জড়িত ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীদের দল থেকে বহিস্কার ও শাস্তি প্রদান করলেই খুন খারাবি আর হানাহানি কমে যাবে।

কলেজ ইউনিভার্সিটিতে রাজনৈতিক সহাবস্থান জরুরি। মুক্ত চিন্তার অভয়ারণ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন মতাদর্শের কেউ মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখেনা যা সংবিধান পরিপন্থী। ছাত্র সংগঠন গুলোর নিজ নিজ মতাদর্শ প্রচার সংবিধান কতৃক স্বীকৃত। তা স্বর্থেও ভিন্ন মতের উপর পেশী শক্তির প্রয়োগ কোন বিবেবকবান মানুষ মেনে নিতে পারেনা।

যারা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলছে আমি তাদের সাথে একমত নই। আজ যারা দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের সিংহভাগ ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্র লীগ থেকে উঠে এসেছে। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানসহ অধিকাংশ নেতা কর্মী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে উঠেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর বর্তমান আমির, নায়েবে আমির এবং যুগ্নমহাসচিবগন ইশা ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছে।

ছাত্র রাজনীতি করার পর যারা জাতীয় রাজনীতিতে আসে তাদের মধ্যে আর ছাত্র রাজনীতি না করা রাজনীতিকের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান লক্ষণীয়। ছাত্র রাজনীতি যদি হয় শান্তিপূর্ণ তাহলে দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

ছাত্র সংগঠন গুলোক মূল সংগঠনের ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকরা বিপদের দিকে ঠেলে দেয় সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা চিহ্নিত সন্ত্রাসিদের খুঁজে বের করে শাস্তির সম্মুখীন করতে পারলেই ছাত্র রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরবে।

পরমতসহিষ্ণুতা আর রাজনৈতিক সহবস্থান নিশ্চিত করতে পারলে ছাত্র রাজনীতিতে প্রতিংশার চর্চা কমে যাবে। একটি সুখী সমৃদ্ধ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের জন্য ছাত্র রাজনীতি অতিব প্রয়োজন সুতরাং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ না করে সবার কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলার লক্ষ্যে ছাত্র সংগন গুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শুদ্ধি অভিযান চালোনা সহ বিভিন্ন কার্যকরী পদেক্ষেপ গ্রহণ করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্টু পরিবেশ ফিরে আসবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840