সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ছাত্র রাজনীতি বনাম ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্র রাজনীতি বনাম ইশা ছাত্র আন্দোলন

ইসলামি শাসনতন্ত্র
ইসলামি শাসনতন্ত্র

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নতুন করে হিসেব কষতে শুরু করেছে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিভাবক শ্রেণি। ছাত্র রাজনীতির নাম শুনলেই চোখের সামনে অবলীলাক্রমে ভেসে উঠে হল দখল, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রের মহড়া।

মনের পর্দায় ভেসে উঠে ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসি কর্মকান্ড। ভেসে উঠে ক্যাম্পাসে বসে মদ,গাজা ও ইয়াবা খাওয়ার মত বিশ্রী দৃশ্য। আজ বৃহস্পতিবার রাবি থেকে গাজাসহ ছাত্রলীগের তিন নেতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশেষ করে অভিভাবক শ্রেণি থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি করা হচ্ছে। কেউ শুধু ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইছে কেউ বা আবার সকল প্রকার ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। এই নিয়ে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বিভিন্ন মত প্রকাশ করছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছাত্র রাজনীতির বন্ধের পক্ষে নয়। বিএনপি থেকেও ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জোর বিরোধীতা আসছে।

অপর দিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এক অনুষ্টানে বক্তব্য প্রদান কালে বলেন,ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয় চাই সন্ত্রাসি কর্মকান্ড বন্ধ ও নীতি আদর্শের রাজনীতির চর্চা। জে এস ডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রউফ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে কঠিন বিরোধিতা করেন। শুধু তাই না, তিনি বুয়েটের ছাত্র রাজনীতি বন্ধেরও বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন।

স্বাধীনতার চার যুগ পরে এসে কেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধেে দাবি উঠছে তা নিয়ে চলছে বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও গবেষণা। চুলছেড়া বিশ্লেষণের সময় এসেছে কেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে বার বার। নব্বইয়ের দশকের পর ছাত্র লীগ, ছাত্র দল,ইসলামী ছাত্র শিবিরের রাজনীতি নিয়েও চলছে না যোগ- বিযোগ ও বিশ্লেষণ।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্র দল ও শিবির যেমন বেপরোয়া হয়ে উঠে ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রলীগ হয়ে উঠে এর চেয়ে চরম বেপরোয়া। ২০১৯ সালে এসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবচেয়ে বেশি বর্বর হয়ে উঠেছে যা ইতিহাসে ঘৃণাভরে লেখা থাকবে।

ছাত্রলীগ এক সময় ছাত্র সমাজ আর দেশের স্বার্থ রক্ষায় জীবন বাজি রেখেছিল। আজ কেন তারা ছাত্র সমাজের বিপক্ষে বা বিপরীত মেরুতে এসে দাঁড়িয়েছে তা জানা প্রয়োজন। এক টানা তিন বার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সেই শক্তিকে পুঁজি করে ছাত্রলীগ হয়ে উঠেছে চরম বেপরোয়া।

এমন কোন অন্যায় নেই যা ছাত্রলীগ কতৃক সংগঠিত হচ্ছেনা, ছাত্রলীগ কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতা খুন, মটর সাইকেল চুরির সময় হাতে নাতে ধরা এবং জনতার উত্তম মাধ্যম, ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণে যুবলীগ নেত্রী অন্তঃসস্তা, জাবি থেকে ৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবির কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি বহিস্কার, পল্টন থানা ছাত্রলীগের ২০০ ছাগল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার সাথে জড়িত সবাই ছাত্রলীগ নেতা। উপরে উল্লেখিত সব অপকর্ম গুলো অতি সাম্প্রতিক ছাত্রলীগ কতৃক সংগঠিত হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শিবির ক্ষমতায থাকাকালীন যে অপরাধ করেছে তাও জাতির অজানা নয়।

বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন ছাত্রলীগকে কোন প্রতিষ্টানে রাজনীতি করতে দেয়নি সুষ্টুভাবে যেমনটা এখন ছাত্রলীগ করছে। ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের আধিপত্যের কারণে ইশা ছাত্র আন্দোলন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করতে পারেনি। শিবিরের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন প্রতিষ্টানে ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করেছে।

আওয়ামী লীগের দালাল বলে ছাত্রদল আর শিবির একত্রিত হয়ে হামলার ইতিহাস আছে। ছাত্রদল, ছাত্রলীগ আর ছাত্র শিবির, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের মাতৃ সংগঠন রাজনীতি করে ক্ষমতার জন্যে আর ইশা ছাত্র আন্দোলন ও তাদের মাতৃসংগঠন রাজনীতি করে ইবাদত হিসেবে।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইশা ছাত্র আন্দোলন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ২৮ বছরে তাদের জাতীয় পর্যায়ে কোন ভুল হয়নি। কোন। নেতা কর্মী ও সন্ত্রাসি বা দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজে জড়িত ছিলনা। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে সুশৃঙ্খলভাবে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে, স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় নীতির পরিবর্তন চাই শ্লোগানে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চার এ যুগেও আদর্শের রাজনীতির চর্চা করে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী শামনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ।সংগঠনট ত্রিধারার ছাত্রদের নিয়ে কাজ করছে।

কওমী মাদরাসা ও আলিয়া মাদরাসার পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছে কলেজ ইউনিভার্সিটিতে। বাংলাদেশে ইশা ছাত্র আন্দোলন যারা ত্রিধারার ছাত্রদের মাঝে করছে। ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করলেও কওমী মাদরাসা ও আলিয়া মাদরাসায় তাদের কোন কাজ নেই।

ছাত্রশিবির কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও আলিয়াতে ( পূর্বে ছিল এখন তেমন নেই) কাজ থাকলেও কওমী অঙ্গনে তাদের কোন কাজ নেই। অন্যান্য ছাত্র সংগঠন যেমন-ছাত্র জমিয়ত, ছাত্র মজলিস, ছাত্র খেলাফত বিশেষ কওমী মাদরাসা কেন্দ্রীক বা বিশেষ অঞ্চল কাজ করে যাচ্ছে কিন্তু দেশব্যাপি ত্রিধারার ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি করছে একমাত্র ইশা ছাত্র আন্দোলন। বর্বর ছাত্র রাজনীতির যুগেও তারা আদর্শের উপর অটল ও অবিচল।

লেখকঃনুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840