সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
জন্মশতবার্ষিকীতে মেহেরুন্নেছা চৌধুরীর কবিতা

জন্মশতবার্ষিকীতে মেহেরুন্নেছা চৌধুরীর কবিতা

জন্মবার্ষিকী নিয়ে কবিতা
জন্মবার্ষিকী নিয়ে কবিতা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মেহেরুন্নেছা চৌধুরীর লেখা তিনটি কবিতা

আমি শেখ মুজিবর
মেহেরুন্নেছা চৌধুরী

আমি মুজিবর, আমি শেখ মুজিবর।
মা আমায় ডাকতো খোকা বলে।
জন্ম,বৃদ্ধি, পুষ্টি,শিক্ষা দীক্ষায়
মায়ের চঞ্চলা মায়াবী চক্ষুদৃষ্টির লৌহ শৃঙ্খলে বাঁধতো আমায় মায়ার বন্ধনে।
হাঁটি হাঁটি পা পা করে মায়ের দূর্ভেদ্য বন্ধন ছিড়ে
আষ্টেপৃষ্টে নিভৃতে জড়িয়ে ধরলাম,
দেশ মাতৃকার মায়াবী এই মৃত্তিকা।
এই মৃত্তিকা হাঁটতে চলতে খোঁড়ে খোঁড়ে খায়
আমার হৃদপিন্ডের তুলতুলে নরম কোষগুলো।
আমি ছোট, আমি ছাত্র, তাতে কি?
হত দরিদ্র মানুষগুলো যখন চলার সঙ্গী।
বৃদ্ধ বণিতার কম্পিত হাত যখন মাথায় রেখেছি,
একদিন দেখিও বন্ধু, এই বাংলার বুকে
কিছু একটা ঘটবেই, হ্যাঁ ঘটবেই।
সেদিনের শিশু আমি আজ মস্ত যুবক।
শিরায় শিরায় বয়েছে আমার লাল টকটকে রক্ত।
কন্ঠে আমার বজ্রধ্বনির অগ্নিকুণ্ড।
মুমুক্ষু মন আমার, সদা উদগ্রীব সদা চঞ্চল।
আত্নবিশ্বাস, দূর্জেয় দেশপ্রেমে বলিয়ান মনন।
সদা জাগ্রত, কিছু একটা ঘটবেই, হ্যাঁ ঘটবেই।
ঠিকইতো! ঘটেই গেল, ঘটেই গেল
মায়ের ভাষা রক্ষার ইতিহাস গড়ার আন্দোলর।
একে একে পরাশক্তির হিংস্র থাবা থেকে
দেশ মাতৃকা,স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন।
লক্ষ প্রাণের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হলাম,পেলাম পতাকা।
বুক ফুলিয়ে হাঁটবো এবার পতাকা হাতে। কিন্তু!
কিন্তু আরো যে কিছু ঘটতেই যাচ্ছে, হ্যাঁ ঘটবেই।
দেশীয় প্রিয়জনের হাতেই ছিটকি মেরে বেরিয়ে গেল
আমার বুকের তরতজা লাল রক্ত।
শুধু কি আমার? না গো না!
আমার পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের। এমনকি!
এমনকি আমার অবুঝ ছোট্ট রাসেলটার
হ্যাঁ, ছোট্ট রাসেলটাকে ও তারা সেদিন মুক্তি দেয়নি,
বাঁচতে দেয়নি, দেখতে দেয়নি মহান আল্লাহর অপার সৃষ্ট সৌন্দর্য্যকে।
একটি একটি করে বুলেটের তীর্যকতা
ঝাঁঝরা করে দেয় আমাদের হৃদপিন্ড,অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।
রাসেল তখন বলেছিল,”কেন মারছো সবাইকে?
আর মেরো না, আর মেরো না।”
রক্ত মাখা আহত গতরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে মা বলেছিল,
“মেরো না আমার ছোট্ট রাসেলটাকে, ওকে বাঁচতে দাও”।
মুহূর্তেই ঘরের মেঝে, দেয়াল, এমনকি সিঁড়িগুলোতে
প্রবাহিত রক্ত লাল রক্তের নকশা আঁকে।
তোমরা কি এখনও শোনতে পাচ্ছো না? বলো?
সত্যি কি, শোনতে পাচ্ছো না আমাদের হাহাকার, আহাজারি, হৃদপিন্ড থেকে নিঃশ্বাস বেরিয়ে যাওয়ার গরগর শব্দ?
তোমরা কি নাকে পাচ্ছো না সেই রক্তের ঘ্রান?
অবাক চোখে সেদিন চেয়ে থাকে ঘরের প্রতিটি ইট, কাঠ, পাথর।
আহ্! কি সুখ। ছিটকানো রক্ত বিন্দু
পৌঁছে যায় দেশ মাতৃকার আনাচেকানাচে।
গভীর শোকে নিস্তব্দ, নিস্তেজ সেদিন প্রিয় দেশমাতৃকা আমার।
ঘাসের উপর শিশির বিন্দু মতো টকটকে লাল বিন্দু ফোটাটা
ঝলঝল করে জ্বলছে আজ প্রিয় বন্ধু তোমাদের বুকে,
সন্তান হারা আমার বাংলা মায়ের বুকে।
তবুও তোমরা ভাল থেকো,শান্তিতে থেকো
আমার দেশমাতৃকাকে একটু দেখে রেখো।
আজ নিদান মুহূর্তে, এটুকু দায়িত্ব দিয়ে গেলাম তোমাদের হাতে।

স্বাক্ষী আজো ৭ই মার্চ
মেহেরুন্নেছা চৌধুরী

একাত্তর, একাত্তর, একাত্তর আর ৭ই মার্চ।
শিহরিত লোমকোষগুলো
হ্যাঁ, শিহরিত লোমকোসগুলো বারবার,
তোমারই কণ্ঠের বজ্রধ্বনিতে
ধুমরে মুচরে একাকার।
গগন থেকে ধরণীর বুকচিরে
কেঁপেছিল সেদিন উথালে পাতালে,
চাই, চাই, স্বাধীনতা চাই!
প্রিয় মাতৃকার মুক্তি চাই,
অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান চাই,
সরকারী দপ্তরে চাকরী চাই,
বাঁচার মতো বাঁচতে চাই!
মা বোনের ইজ্জত চাই!
চাই,চাই,চাই, নরপিশাচের শাস্তি চাই!
এই বাংলার মাঠি থেকে
পরাশক্তির বিতাড়ন চাই।
আর তাইতো সেদিনের রেসকোর্স ময়দান
আর, দিনপঞ্জিকার ৭ই মার্চ
আজো স্বাক্ষী হয়ে আছে!
জন সমুদ্র, জন উৎকণ্ঠা,আবেগে উদ্বেলিত
নারী পুরুষের একত্ব মিলনমেলা,
প্রতিবাদী মিছিলে মিছিলে
হাহাকারের উচ্চ ধ্বনি,
অশ্রুজলে সিক্ত বঙ্গবন্ধুর আঁখিদ্বয়,
শির উচু করে দাঁড়াবার মঞ্চ
আর, মঞ্চ কাঁপানো ধ্বনিত কণ্ঠস্বর
‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

স্বাধীনতার কাঙ্গাল
মেহেরুন্নেছা চৌধূরী

আমারই মনোবীণায় সুর হয়ে বাজে
তোমারই কণ্ঠস্বর
বঙ্গবন্ধু তোমারই মাহাত্ম্য
বাঙ্গালীর হৃদয়ে রয়েছে চির ভাস্বর।

থাকবে তুমি অনন্ত আদি
যতোদিন রবে বাঙ্গালী জাতি,
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর পতাকা?
এতো তোমারই কণ্ঠের উদার সাথী।

লাখো জনতা দিয়েছিল প্রাণ
এ মাটির বুকে লুটিয়ে তবে,
তুমি,দুর্বল চিত্তে প্রাণোবল সঞ্চার
উদ্বুদ্ধ করেছো সবে।

কেউ হয়েছিল বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম
কেউ বা বীর প্রতীক,
স্বদেশ প্রেমে বিচলিত মনে
কারো বা ছিল না ঠিক।

জন্মভূমি, গর্ভধারিণী
তাঁরা এ মাটির সন্তান,
ছেড়া বস্ত্র জড়িয়ে গতরে
বুলেটের মুখে দিয়েছিল তাজা প্রাণ।

তোমার ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন
বাংলার দামাল ছেলে,
যুদ্ধক্ষেত্র করেছিল আপন
প্রিয়জন পিছে ফেলে।

দগ্ধ বাড়ী-ঘর, দগ্ধ হৃদয়
অগ্নিঝরা মার্চের করুণ লেলিহান,
স্বাধীনতার কাঙ্গাল তুমি ও জনতা
তাই তো করেছো আত্ন বলিদান।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840