সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
জীবনের গল্প ফারজানা আলম

জীবনের গল্প ফারজানা আলম

জীবনের গল্প
জীবনের গল্প

হঠাৎ একদিন ভালবাসা শব্দটার প্রতি ভাল লাগা শুরু হল,আর কেউ এসে মনের দরজায় কড়া নাড়লো আস্ত ভালবাসা হয়ে! কত ছিল বয়স? সবেমাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছি।
স্কুল ছিল রাস্তার পাশে সেখানে কেউ নিয়ম করে দাঁড়িয়ে থাকতো আমি স্কুল বারান্দায় হঠাৎ কখনো সখনো এলে এক নজর দেখবে বলে!আর স্কুল শেষে সে যখন বাড়ি পর্যন্ত পিছু নিত, বন্ধবীদের তাকে কেন্দ্র করা হাসাহাসি আর টিপ্পনিতে কেমন যেন ঘোর লাগা তৈরী হত!
আসলে যে বয়সটাতে নিজেকে জানাই দুর্বোধ্য সেখানে প্রেম ভালবাসার গভীরতা মাপতে চাওয়টাই বরং বোকামি। তবুও আমি মাপতে চাইতাম আড়চোখে তাকে দেখে কৌতূহল মেটাতাম!
আমার বান্ধবী তমার কাছে সে নিত্যদিন নিয়ম করে চিরকুট গুজে দেওয়া শুরু করলো, আর সাথে কখনও আঁচার, আইস্ক্রিম আবার কখনো পেয়ারা মাখানো! আমি রাগ হতাম তমার সাথে সে এসব নিয়ে আসতো বলে, তবে ভিতরে কেমন যেন একটা অজানা অনুভূতি ছুঁয়ে যেত!
জীবনের প্রথম অনুভূতিটার লাগাম টেনে ধরার পরিপক্বতা ছিলনা বলেই হয়ত আমি সেই তীব্র ভালবাসার স্রোতে আর নিজেকে ধরে না রেখে ভাসিয়ে দিলাম সেই স্রোতে নিজেকে আধো পরিচিত কারো সাথে !
আপু আর মা কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো। তবে একদিন হাতেনাতে ধরা পরে গেলাম যখন রাতে সবাই ঘুমিয়ে পরলে মার ফোন দিয়ে তার সাথে কথা বলছিলাম ! ফ্যামিলির নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে সীমা লঙ্গনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মতো আমাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হলো! তারা সবসময় আমাকে চোঁখে চোঁখে রাখতো, স্কুলে ভাইয়া দিয়ে আসতো আর মা গিয়ে নিয়ে আসতো! আমার খুব হাসফাস লাগতো একটু স্বাধীনতা আর অনেকটা তার জন্য! শুভর সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল!
আসলে আমারই সাহসে আর কুলায়নি এই অনুভূতিটাকে নিয়ে আগানোর! তবে তমা মাঝে মাঝে এসে যেচে পড়ে তার খবর দিত, সে কতটা কষ্ট পাচ্ছে! হাত কেটে আমার নাম লিখেছে! কেন আগের মত স্কুলের বারান্দায় দাড়াই না? কেন তার চিরকুটের কোন উত্তর দেই না? এমন যদি আমি করতে থাকি তাহলে নাকি সে পাগল হয়ে যাবে!
আমার ভিতরে কষ্ট হতো! খুব কষ্ট! অচেনা একজন আপনজন হওয়ার পর আবার কেউ না হয়ে যাওয়ার কষ্ট! কিন্তু কষ্টটা ঠিক কেমন আমি বুঝাতে পারি না!
এসএসসির পর আমাকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হল ঢাকাতে। সেখানে কলেজের হোস্টেলে ছিল কড়া নিয়ম! ফোন ইউজ করতে দেওয়া হতো না, বাইরে বের হওয়া যেত না! পরাধীনতার যে শিকল আমি পায়ে পরেছিলাম সেই বাধনটা আরও জোড়ালো হলো! অবশ্য একটা জিনিস ভাল হল,এতো কড়া নিয়ম আর পড়াশোনার চাপে শুভকে প্রায় আমি ভুলতে বসেছিলাম! ঘটনা ঘটলো যখন আমি ঈদের ছুটিতে বাসায় গেলাম!
ঈদের ছুটিতে বাসায় এলাম। এতোদিনে অবশ্য আমার ফ্যামিলির আমার প্রতি নজরদারি কিছুটা কমে গিয়েছিল, হয়ত তারা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল! তারমধ্যে একদিন তমা এসে মার কাছে বলে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গেল। অনেকদিন পর আমি শুভকে সেখানে দেখে চমকে আর খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! খুব রাগ হয়েছিল তমার উপর তবে চলে আসতে পারিনি! শুভ হুড়মুড়িয়ে দাঁড়ানো থেকে বসে আমার হাতদুটো ধরে কেঁদে দিল! তখন আমার মনে হল,দুনিয়াতে শুধু সেই আছে! আর কেউ নেই! কিচ্ছু নেই! আর বাড়ি ফিরে যাইনি! ছেলেখেলার মত করে সংসার পেতে বসলাম!
আহা, ভালবাসা! বাস্তবতা বিবর্জিত, সীমাহীন কি তীব্র অনুভূতি ! আমি খেয়াল করলাম আধা-পরিচিত মানুষকেও ভালবাসা যায় কিংবা কিছু না জেনেও ভালবাসা যায়! তবে যে ভালবাসাটুকুতে বাস্তবতায় মোড়ানো আবেগ থাকে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কেই ভালবাসা শব্দটা রয়ে যায়।
শুভ মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির সন্তান , লেখাপড়াও খুব বেশী দূর আগায়নি। আমি ওর বাড়িতে উঠলাম, জীবন রাতারাতি বদলে গেল! আমাকে শুভ বিয়ে করাতে আমার শশুড়,শাশুড়ি অবশ্য খুব একটা অখুশী হলো না! আসলে তারা চেষ্টা করলেও আমাদের মত ফ্যামিলিতে তাদের ছেলের জন্য যেতে পারতো না সেটা তারা জানতো।
তারা মনে মনে ভেবেছিল, আজ নাহয় কাল আমার বাবার বাড়ি থেকে আমাকে মেনে নিবেই তখন হয়ত তার বেকার ছেলেটার কিছু একটা গতি হবে!হয়ত আরো কিছুও পাওয়া যাবে! অনেকদিন যাওয়ার পরও যখন তারা দেখলে এই ঘটনার পর আমি আমার বাবার বাড়ির মানুষদের কাছে না থাকার মতন, অনেকটা তাদের কাছে মৃত সন্তানের মত তখন হিসেবের হেরফের হলো।
আমার শাশুড়ির আচরণ বদলাতে লাগলো! বাড়িতে ভাতটাও নিজের হাতে মেখে খেতামনা মা খাইয়ে দিত, আর এখানে পুরো সংসারের কাজের দায়িত্ব পড়লো আমার উপর! আমি দিশেহারা হয়ে যেতাম, কিভাবে কি করতে হবে কিচ্ছু বুঝতামনা! একটু আকটু যদি কাজের হেরফের হয়ে যেত আম্মা তার কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বলত সব তার কপালের দোষ এই জন্য তার ছেলে আমারে বউ করে নিয়ে আসছে! মাঝে মাঝে আরও বেশী রাগ লাগলে বলতো , “বউ সত্যি করে কও তো, তুমি তোমার বাবা মায়ের আসল মাইয়া তো?” আবার মাঝে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে আফসোস করতো এর শশুড়বাড়ি থেকে এইটা পাঠাইসে, ওর শশুড় শাশুড়ি এইটা দিয়া গেসে এইসব কথা বলতো আর দীর্ঘশ্বাস নিত!
মায়ের সাথে মাঝে মাঝে কথা হত, যদিও বাবার কড়া নিষেধ ছিল আমার সাথে কেউ যেন কোনরকম যোগাযোগের চেষ্টা না করে, তবে মা তাদের আড়াল করেই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতো ! আপুকে একবার ফোন দিয়েছিলাম আননোন নাম্বার বলে রিসিভ করেছিলো তবে আমার আওয়াজটা শুনতেই কেটে দিয়েছিল! তারপর অবশ্য আমি বুঝে গিয়েছিলাম, আমার বিশ্বাস ঘাতকতার শাস্তি? হয়তো কখনো সেটা শেষই হবেনা!
আর শুভর আমার প্রতি ভালবাসা? দায়িত্ব ছাড়া আদৌ ভালবাসার কি কোন মূল্য আছে? সে সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে হইহুল্লোড় করে ঘুরে বেড়ায়! সংসারের টানাটানি এসব যেন খুবই স্বাভাবিক আর সহজ বিষয় ! সে দিব্যি আসছে, খাচ্ছে আবার বেড়িয়ে যাচ্ছে! শুধু মাঝরাতে যখন সে আমাকে কাছে টানে তখন আমার খেয়াল হয়, এই মানুষটা আমার স্বামী!
শুভকে খুব বুঝিয়ে শুনিয়ে কলেজে ভর্তি হলাম। অবশ্য বোঝানের কাজটা খুব সহজ ছিল না। সবাই তাকে বুদ্ধি দিত, বেটা তুই মূর্খ মানুষ বউরে পড়াইয়া কি করবি? বউ বেশী পড়ালেখা করলে সিয়ানা হইয়া যাইবো, তখন আর তোরে মানতো না। তবে আমার রোজকার কান্নাকাটিতে তার একদিন মন গললো, সে আমাকে কাছেই একটা কলেজে ভর্তি করিয়ে দিল। এমনিতেই একবছর গ্যাপ পরে গেছে তাই আমি পড়াশোনা নিয়ে খুব সিরিয়াস হয়ে গেলাম।
আমি সব কাজ গুছিয়ে কলেজে যেতাম আবার ফিরে এসে সেই কাজ। তবে আফসোস হতো না, আমি খুব কৃতজ্ঞ ছিলাম শুভ আর আমার শাশুড়ির উপর আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য। যখন আমি ঘর থেকে কলেজের জন্য বের হতাম আমি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতাম,যখন ক্লাসে যেতাম বন্ধুদের হইহুল্লোড়ে আমি এখনও বেঁচে আছি সেটা অনুভব করতে পারতাম। আমার বাড়িতে ফিরতে ইচ্ছে হতো না মনে হতো বাড়িতে৷ গেলেই আবার সে বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে জীবনের হিসেব কষতে হবে।
ঈদের আগের রাতে কয়েকজন ফ্রেন্ডস ফোনে মেসেজ করে উইশ করলো।সবাই জানতো আমি বিবাহিত, তাই মেয়ে বান্ধুবীগুলো যেমন ছিলা আমার প্রতি সহানুভূতিশীল তেমনি ছেলেরা কখনো তাদের সীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা করতো না! খুব সহজ একটা বিষয়। তবে আমার জন্য ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাড়ালো ।ফোনটা ভেঙে ফেলল শুভ। আমার গায়ে এলোপাথাড়ি চড়, ঘুষি দিতে লাগলো তারপরেও যেন তার হচ্ছিলো না চুল ধরে আমাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে ইচ্ছামত লাথি দিতে থাকলো। অসহ্য রকমের যন্ত্রণা হয়েছিল শরীরে তবে এতোটাই অবাক হয়েছিলাম যে শরীরের যন্ত্রণা আমার কাছে ভিষন তুচ্ছ মনে হল। এটা ছিল প্রথমবার আমার গায়ে তার হাত তোলা, আর শেষ? আদৌ কি এসবের শেষ আছে!
আসলে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমার মনমরা ভাবটা কেটে গিয়েছিল, আমি নিজের মত করে শুভকে ছাড়াই হাসিখুশী থাকতে শুরু করেছিলাম। খুব বেশী পড়াশোনা না করা রক্ষনশীল মানুষটার কাছে এই বিষয়টা সহ্য হয়নি। সে সুযোগ খুজছিল। আর মনমত সেই সুযোগ সে পেয়েও গেল। ব্যাস এইটুকু কারনে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেল। আমি মনে প্রানে মেনে নিলাম এটাই আমার ভাগ্য। তবে সেই ভগ্যের সাথে আরেকটা কপাল জুড়লো আমার মেয়ে। তার মুখের দিকে তাকালে আমার বাঁচতে ইচ্ছে হয়, খুব করে বাঁচতে ইচ্ছে হয় আমার পরীর জন্য।
মেয়েটার প্রায় একবছর হতে চলল, মেয়েটা হওয়ার পর খুব আশায় ছিলাম এইবার হয়ত শুভ বদলে যাবে। কিন্ত সে বদলায়নি বরং তার প্রতি আমার ধারণা বদলে গেছে। একজন বিবেকহীন মানুষ কি কখনও অন্যের সুখ,দুঃখ বুঝতে পারে?
নাহ, সেও বুঝতে পারেনা, যে আমাদের মা মেয়ের তাকে কেন্দ্র করেই জীবন। ৩ মাস হয়ে গেল মা তার ভাগের জমি বিক্রি করে শুভকে কয়েকলাখ টাকা দিয়ে গেছে যেন সে কিছু করার চেষ্টা করে। দিব্যি সে টাকা সে বসে বসে ভেঙে ভেঙে খাচ্ছে! অথচ এই টাকার জন্য কি অত্যাচারই না করেছে সে আমাকে। আসলে মেয়েটা হওয়ার পর বাবার মন আমার জন্য একটু নরম হয়েছে।
নাহ, তারা আমাকে আয়োজন করে তুলেনি, তবে আমিই মাঝে মাঝে সেধে সেধে যাই। প্রথম দিন খুব ভয় পেয়েছিলাম বাবা না জানি তাড়িয়ে দেয় কিন্তু সে কিছু বলেনি। এরপরেই শুভর চাপে মার কাছে টাকার কথা তুলেছিলাম। মা যখন বাবার কাছে বলল, তখন বাবা বলল,এই বাসায় আসে যায় কিছু বলি না দেইখা তুমি মনে কইরো না আমি ওরে মেনে নিছি, আমার কাছ থেকে এক কানাকড়িও নীলা পাবে না। তবে শুভর অত্যাচার বারতে থাকলে মা তার দেশের বাড়ির কিছুটা জমি বিক্রি করে শুভকে খুশী করলো। তবে আমি জানি শুভ বেশীদিন খুশী থাকবেনা। তার টাকার অসুখটা আবার শুরু হবে।
মা সকালে ফোন দিয়েছে আপা আসবে তার ডাক্তার জামাইকে নিয়ে বাসায় ছোটখাটো আয়োজন চলছে, তুইও আয়। আমি বললাম, মা শুধু শুধু আমি এসে কি করবো আপা তো আর আমার সাথে কথা বলেনা। আপার বিয়ে নিয়ে আমার খুব সখ ছিল। কতকিছু দুবোন মিলে প্লান করতাম, এইখানে সাজব , এমন জামা কিনবো এইটা করবো অইটা করবো ।
মাঝেমাঝে আমার নিজের উপর খুব হাসি পায়। সব হাসির আড়ালে খুশী থাকেনা কিছু কিছু হাসি হয় দুর্ভাগ্যের। মা যেদিন বলল, রূপার বিয়ে ঠিক হইসে, ছেলে ডাক্তার। আমি চেয়েছিলাম মা আরও কিছু বলুক,এই উপলক্ষে তোর বাবা তোকে নিতে আসবে, তোর শশুরবাড়িতেও দাওয়াত করবে। নাহ মা আর কিছু বলেনি। বিয়ের দিন সকালে অবশ্য ফোন দিয়ে বলেছিল, তুই তোর মেয়েটাকে নিয়ে আয়, বাড়িভর্তি মেহমান এদের সামনে তোর বাবা তোকে কিছু বলবেনা। নিঃসন্দেহে অভাব ,প্রয়োজন আমার আাত্নসম্মানকে কমিয়ে দিয়েছে, তবে যতটুকু ছিটেফোঁটা রয়ে গেছে সেইটুকুর অস্তিত্ব আমি সেদিন টের পেয়েছিলাম। ইচ্ছে হয়নি আর যেতে,আমাদের মত মানুষের জন্য সুখ সম্মান ,সখের আরেক নাম যে বিলাসিতা।
আমাকে অবাক করে দিয়ে আপা এতোদিন পর আমার সাথে কথা বলল। আমাকে টেনে নিয়ে গেল দুলাভাই আর ওর শশুড় বাড়ির মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ।
তাদের সামনে গিয়ে মনে হল, আপা যদি কথা না বলতো সেটাই ভালো হত, আমার আর আমার মেয়ের বেশভূষা যেমনি আমাদের দৈন্যতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, তারচেয়েও বেশী জানিয়ে দিল মাঝপথে থেমে যাওয়া আমার জ্ঞানের স্বল্পতা। আমি খুব তাড়াতাড়ি এইসেই বাহানা দিয়ে বাড়িতে চলে এলাম। আমি নিজেকে বুঝাই টাকা পয়সা, স্টেটাসই কি সব? এর বাইরেও সুখী হওয়া যায় যদি সেখানে ভালবাসা থাকে। নিজের ভুলবাল সান্ত্বনায় নিজেই হেসে দেই।
আজকাল শুভ মাঝরাত পর্যন্ত একটা মেয়ের সাথে চ্যাট করে। এই নিয়ে অবশ্য কয়েকদফা আমাকে মার খেতে হয়েছে। এখন আমি আর কিছু বলি না। সব দেখেও না দেখার ভান করি। সব জানি তবু্ও কিছু বুঝতে চাই না। জটিল দুনিয়াতে সুখী হওয়ার জন্য কিছুটা অভিনয় প্রয়োজন, নিজের সাথে নিজের অভিনয়। আমি মাঝে মাঝে মনে মনে আাওড়াই আমি সুখী, আমি সুখী। আমি খুব সুখী।দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী । তারপর বলতে বলতে হেসে দেই। সুখী হওয়ার কি চমৎকার কৌশল। কিংবা নিজেকে বোকা বানানোর।
আমার মনে হয়, কেউ কেউ সংসার করে সংসার করা ছাড়া বিকল্প কিছু থাকে না বলে। আবার কেউ সেই সম্পর্ক টেনে নিয়ে যায় সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তা আর সাহস থাকেনা বলে!!
#জীবনের গল্প
#ফারজানা আলম
( সব গল্প, গল্প হয়না! কিছু গল্পের আড়ালে থাকে জীবন! খুব কাছ থেকে দেখা প্রিয় কারো জীবন! আবার সেই জীবন জুড়ে থাকে দগদগে বাস্তবতার ক্ষত! সেই ক্ষত তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় আবেগে জীবন চালানো মানুষগুলো এই বাস্তব দুনিয়ায় খুব অচল! ঠিক অচল পয়সার মত মূল্যহীন)

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840