সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চেয়ারম্যান এর নির্যাতনের বলি মেম্বার ও তার পরিবার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে চেয়ারম্যান এর নির্যাতনের বলি মেম্বার ও তার পরিবার

এমদাদুল হক সরকার চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার হালিম মেম্বার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এমদাদুল হক সরকার চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার হালিম মেম্বার

গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ১০ নং রসুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এমদাদুল হক সরকার।

এমদাদুল হক সরকারের নিজ ওয়ার্ডের পরপর দুইবার নির্বাচিত মেম্বার শাহাদাত হোসেন যাকে স্থানীয় লোকজন হালিম মেম্বার নামেই চিনেন।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এমদাদুল হক সরকার ঘোষণা করেন তিনি রসুল পুর ইউনিয়নের রাজা আর বাকি সব প্রজা। কার-ও ক্ষমতা থাকলে তাকে যেন ক্ষমতাচ্যুত করে।

এমন বক্তব্যর পর চেয়ারম্যান এর প্রতি তীব্র ক্ষোভ জন্মায় এলাকাবাসীর মধ্যে। বেপরোয়া হয়ে উঠে তার সকল কার্যক্রম।নির্বাচিত হবার কিছুদিনের মধ্যেই চাল নিয়ে চালবাজিতেও জড়িয়ে পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সেগুলো প্রকাশ করে।

ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি কার্ড আসলে সেটা বন্টনের সময় চেয়ারম্যান হালিম মেম্বারকে বঞ্চিত করে। এই বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে বললে তিনি হালিম মেম্বারকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন এবং যা করতে পারেন তা করতে বলেন।

হালিম মেম্বার তাদের অভিভাবক ইউএনও কে এই বিষয়ে অবগত করেন। ইউএনও অফিসার চেয়ারম্যানকে ডেকে এই বিষয়ে কথা বলায় সে প্রচন্ড রকমের ক্ষিপ্ত হোন।

ইউনিয়ন পরিষদের নানারকম উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে চেয়ারম্যানের অনুসারী ২-৩ জন সদস্যকে যুক্ত রাখলেও আর কোন সদস্যদের জড়িত করে না। দিনের পর দিন তার লাগামহীন দুর্নিতী বেড়েই চলেছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে জোড় করে হুমকী ধামকীর মাধ্যমে শুধু সকল সদস্যদের স্বাক্ষর নেন।

হালিম মেম্বারের বাড়িতে অতর্কিতভাবে চেয়ারম্যান এর পোষা ক্যাডার বাহিনী আক্রমণ চালায়। আক্রমণ চালিয়ে হালিম মেম্বারের স্ত্রী কে এলো পাথারি কুপায়। সে চৌদ্ধদিন হসপিটালে মুমুর্ষু অবস্থায় ছিল। তার মাথায় ২৬ টি সেলাই দিতে হয়।

হালিম মেম্বার ও তার ছেলে

ঐ একইদিন হালিম মেম্বারের ছেলেকেও তারা পিটায়, হাত ভেঙ্গে ফেলে।
চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে অপরাধীদের বিচার না করে পুলিশকে বলে হালিম মেম্বারকে গ্রেফতার করতে। পুলিশ অফিসার হাসান অস্বীকৃতি জানালে সেও চেয়ারম্যানের আক্রোশের শিকার হোন। বাইফোর্স তাকে বাধ্য করেন ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করতে।

পুলিশ অফিসার হালিম মেম্বারকে আশ্বস্ত করে বাড়িতে থাকাই ঐ মুহুর্তে অনিরাপদ কাজেই থানায় নিয়ে য়েতে চায়। বিকালে আবার বাড়ি পৌছে দিবে না হলে কোনো বড় ধরণের অঘটন ঘটে যেতে পারে। পুলিশের কথায় মেম্বার সাহেব থানায় যান।
পুলিশ সদস্যরা মেম্বার সাহেবকে নিয়ে থানায় পৌঁছানোর আগেই চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে থানায় হাজির হয়ে মামলা লিখিয়ে তাকে আদালতে চালান দিতে বাধ্য করেন। পুলিশ সদস্যরা বারবার চেয়ারম্যানকে মিথ্যা মামলা বা হয়রানি না করতে অনুরোধ করেন।

মেম্বার সাহেব একুশ দিন জেল হাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পান। এই সময়ে তার স্ত্রী কিছুটা সুস্থ্য হোন।

মেম্বার সাহেব বাড়িতে ফিরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে চেয়ারম্যানের আক্রোশের শিকার হোন। ইতিমধ্যে মেম্বার সাহেবের পরিবারের নারী সদস্যদের উলঙ্গ করে নির্যাতন করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন।

এমদাদুল হক সরকার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মিটিং এর কথা বলে হালিম মেম্বারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। হালিম মেম্বার বিপদের আঁচ করে তার পরিষদের অন্যান্য মেম্বারদের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা আশ্বস্ত করেন খারাপ কিছু হবে না। মেম্বার সাহেব ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দেখতে পান সেখানে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী আগেই উপস্থিত।

মটর সাইকেল যোগে ক্যাডার বাহিনীর আর-ও লোকজন আসে। এমতাবস্থায় একজন তাকে ফোনে ইঙ্গিত দেয় চেয়ারম্যানের লোকজন ইউপি কার্যালয়ের গেট আটকিয়ে তাকে মেরে ফেলার প্ল্যান করেছে। সে আঁচ করতে পারে ঘটনা সত্য।
সে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনেই তাকে আটকিয়ে ফেলে এবং মারধর এবং কোপানো শুরু করে।

বাজারের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। তার হাত ভেঙ্গে গেছে। এই বিষয়ে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে গেলে চেয়ারম্যান প্রচন্ড উত্তেজিত হোন এবং তাদেরকেও লাঞ্চিত করেন। মারমুখি ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়াতে সবাই চুপসে যান।

সে এবং তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাতে তার নিকটাত্নীয়দেরকেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে। পরিবারের সকল সদস্যরা রাতে বাড়িতে একত্র হয়ে রাত যাপন করছেন।

মেম্বার সাহেব দাবী করেন তার চাচাত ভাইদের পর্যন্ত মারার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে এমন ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে।

ঘাটাইল থানায় উক্ত ঘটনার শুরুর প্রথম দিন তার স্ত্রীকে কোপানো হলে মামলা দেয়া হয় কিন্তু পুলিশ আইনি কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। ক্ষমতাধর টাকার কুমির পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার এমদাদুল হক সরকার চেয়ারম্যান হয়ে যেন রসুলপুর তথা ঘাটাইলের একচ্ছত্র অপরাধের অধিপতি হয়েছেন।

আজ বিজ্ঞ সিনি: জুডি: ম্যাজি: ঘাটাইল আমলী আদালত, টাঙ্গাইল এই বিষয়ে মামলা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840