সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলের পৌরউদ্যানের পাশে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলের পৌরউদ্যানের পাশে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র হত্যা
টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র হত্যা

টাঙ্গাইল শহরে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের গলিতে হত্যাকাণ্ড ঘটে। নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ক্লাব রোড সংললগ্ন টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের পাশেই অবস্থিত পুরোনো একটি স্কুল। স্কুলের পাশের গলিতে এই ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইল শহরের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান টাঙ্গাইল পৌরউদ্যান। পৌরউদ্যানে মুজিব শতবর্ষ পালনের জন্য রয়েছে প্যান্ডেল সাজানো। সারা বছর ব্যাপী অনুষ্ঠানে মুখরিত উদ্যানের পশ্চিম পাশেই এই হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে।শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সবসময় ২০-৩০ জন পুলিশ ডিউটি রত থাকলেও কেউ ঘটনাটির বিষয়ে সামান্যতম কিছুও আঁচ করতে পারেননি।

নিহত ইসরাক (২০) শহরের আশেকপুরের ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে। তিনি টাঙ্গাইল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি কলেজের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, বিকেলে শহরের কেন্দ্রস্থল পৌর উদ্যানের পাশে নজরুল সেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের গলিতে তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দূর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

নিহতর মা জানায় দুপুরে প্রতিবেশি সোহান তাকে ডেকে নিয়ে গেছে, তারপর ছেলের লাশ পেয়েছে। সোহানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত অর্থে সোহান উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত কি না তাও বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় লোকদের সাথে যোগাযোগ করে জানাযায় সোহান স্থানীয় প্রভাব শালী রাজমনি হোটেল মালিক মোতালেব মিয়ার ভাতিজা। টাঙ্গাইল শহিদ স্মৃৃতি পৌরউদ্যানের পাশেই হোটেল রাজমনির অবস্থান।

নজরুল সেনা স্কুলের আশপাশের দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা কেউ ঘটনাটি ঘটার সময় টের পাননি। পরবর্তীতে একজন ওই পথে চলার সময় দেখলে ডাকাডাকি করে তখন সবাই ওখানে ছুটে যায়। তারা কেউ ঘটনাটির বিষয়ে কিছুই আঁচ করতে পারেননি।

এলাকাবাসীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় ছেলেটি নানা বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো। আশেকপুর তার বাবার বাড়ি নয়।

আশেকপুরে গেলে সকলের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজমান দেখা যায়। একজন বলেন “বাচ্চাদের পড়তে পাঠিয়ে তো দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে। যদি লাশ হয়ে ‍ফিরে। বাচ্চাদের সাথে সাথে হাত ধরে তো আর সবার পক্ষে স্কুল-কলেজে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে কেমন হবে! প্রশাসনের উচিত দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুক্ষীন করা। জনগনকে নিশ্চয়তা দেয়া এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।

এলাকা জুড়ে ভীতীকর অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ সকলেই প্রত্যাশা করছেন পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার করবে এবং সঠিক রায় প্রদানের মাধ্য সুষ্ঠু বিচার কার্য সম্ভব হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840