সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
টাঙ্গাইল পতিতাপল্লীতে আগুণ: কোথায় যাবেন পতিতারা?

টাঙ্গাইল পতিতাপল্লীতে আগুণ: কোথায় যাবেন পতিতারা?

পতিতাপল্লীতে আগুণ
পতিতাপল্লীতে আগুণ

আগুণের ভয়াবহতা এবার রাজধানী ছেড়ে রাজধানীর বাহিরে টাঙ্গাইল জেলায়। গতকাল বেলা বারোটা চল্লিশ মিনিটে টাঙ্গাইলের পতিতাপল্লীতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে আমরা জানতে পারি প্রায় ৪০টি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এর তিনটি ইউনিট এক যোগে কাজ করে আগুণ নিয়ন্ত্রনে আনতে সমর্থ হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ফলে আগুণের ভয়াবহতা বেশি দূর যেতে পারেনি। ৪০ টি ঘরের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোন মানুষ মারা যায়নি।

আজ বেলা বারোটা চল্লিশের দিকে হঠাৎ এক যৌন কর্মীর গ্যাসের চুলা থেকে আগুণের সূত্রপাত হয়। অত্যান্ত জীর্ণশীর্ন ঘণবসতি হবার কারনে আগুন খুব শীঘ্রই ছড়িয়ে পরে। চারিদিকে চিৎকারে সবাই ছুটাছুটি শুরু করে। মুহুর্তেই চারিদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

বিভিন্ন এনজিও ও নারী যৌন কর্মীদের দাবী কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আতঙ্কগ্রস্থ অনেকেই দৌঁড়ে পালাতে গিয়ে হাল্কা ব্যথা পেয়েছে। তবে কেউ মারা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলেন আমরা সংবাদ পাওয়া মাত্র তরিত গতিতে উপস্থিত হই। মাত্র ১ ঘন্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হই। এখানে ঘর গুলো খুব ছোট ছোট আর একটার সাথে আরেকটা লাগোয়া। পানি দিতে একটু সমস্যা হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ সামান্য বেড়েছে।

যদি এরকম ঘিঞ্জিময় পরিবেশ না থাকতো তবে এতো দ্রুত এই পরিমাণ ক্ষতি হতে পারতো না। আমরা চেষ্টা করেছি যথাসাধ্য ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে। খুব দ্রুত আগুণ আমরা নির্বাপন করতে সমর্থ হয়েছি।

এক নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে জানা যায় প্রিয়াংকা নামক এক যৌনকর্মীর গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই আগুণের সূত্রপাত। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই দ্রুত আগুণ চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। মুহুর্তের আগুনের লেলিহান শিখা একের পর এক ঘরে পুড়িয়ে দিতে থাকে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস কালক্ষেপন করেনি। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়াতে তারা প্রানে বেঁচেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সবাই তাদের এই বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়াতে বলেন। তাদের ঘর-খাবার কিছুই অবশিষ্ট নেই। অপরদিকে হঠাৎ এমন আগুণ লেগে যাওয়াতে তাদের কাজে বড় ধরণের ব্যঘাত ঘটেছে।

ঘটনার আকস্মিকতায় অনেক সাংবাদিক রিপোর্ট করতে যাওয়ায় কয়েকদিন খদ্দেররা ওই এলাকায় ঢুকবে না বলে কয়েকজন জানায়।

তারা বলেন আমাদের এখানে এসে যদি তারা আবার সাংবোদিকদের ক্যামেরায় ধরা পরেন। তাই আসবে না। আর আগুণ লাগার আতঙ্ক তো আছেই। কয়েকদিন আমাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।

ছোট্ট পরিসরের এই এলাকায় প্রায় ৪ হাজার নারী যৌনকর্মী বসবাস করেন। এখানে তার রূম গুলো খুব ছোট ছোট। বেশিরভাগ রুমে একটি খাট ফেলার পর আর সামান্য জায়গায়ই অবশিষ্ট থাকে। এখানে যারা ঘরের মালিক তারা সাধারণত অন্য এলাকায় থাকেন। তারা শুধু মাস শেষে এসে ভাড়ার টাকা নিয়ে যান। সাধারণ এলাকার চাইতে এখানে ঘর ভাড়া অনেক বেশি। তারা যৌন ব্যবসা করেন বলে তাদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়।

কয়েক বছর আগে টাঙ্গাইলের এই যৌন পল্লী উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে। এর ভয়াবহ বিভীষিকা সারা শহরে ছড়িয়ে পরে। পরবর্তীতে বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি উদ্যোগে তাদের জন্য পুনরায় ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়।

তারা অপেক্ষায় আছে সরকার বা কোন দাতা সংস্থা আবার-ও তাদের পাশে দাঁড়াবে। আবার তারা বাঁচার চেষ্টা করবে। তাদের মাথাগুজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই। কি করবে এখন! টাঙ্গাইল পতিতাপল্লীর নারী নেত্রিরা সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান।

আজ সকালে খবর নিয়ে জানা যায় গতকাল কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা তাদের জন্য কোন খাবারের ব্যবস্থা করেনি। তারা আশেপাশের অন্য যৌন কর্মীদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার এবং প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের পাশে থাকার, তাদের সহযোগিতা করার। পুড়ে যাওয়া চল্লিশ ঘরের যৌন কর্মীরা তাদের প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় দুদিন যাবত বেঁচে আছেন। তারা স্থানীয় সরকারকে দ্রুত তাদের ঘর তৈরি করে দেয়ার দাবী জানান।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840