সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
টাঙ্গাইল শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান শ্যামবাবুর খাল এর কি হাল? : আখতার বানু শেফালি

টাঙ্গাইল শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান শ্যামবাবুর খাল এর কি হাল? : আখতার বানু শেফালি

টাঙ্গাইল
শ্যামবাবুর খাল, টাঙ্গাইল

আচ্ছা আজকের টাঙ্গাইল শহর যেমন আগে ও কী এমন ছিলো? তরুন প্রজন্মের কাছে আমার প্রশ্ন। এসো তবে দেখি কেমন ছিলো আমাদের প্রাণের টাঙ্গাইল শহর। কী হারিয়েছি আমরা?

এক সময় বর্ষাকালে টাঙ্গাইল শহরের বুক চিরে বয়ে যেতো একটি স্রোতোস্বিনী খাল। খালটি শ্যামবাবুর খাল নামে পরিচিত ছিলো।খালটি পার্কের দক্ষিন দিক দিয়ে লৌহ জং নদী থেকে বেড়িয়ে শহরের প্রান কেন্দ্র নিরালা মোড়ের এবং নিউ মার্কেটের পিছন দিয়ে দিয়ে ঢুকে ভিক্টোরিয়া রোডের এবং পুরানো বাস স্টান্ডের ডান দিক দিয়ে বেড়িয়ে বিশ্বাস বেতকার ডান পাশ দিয়ে বেড়িয়ে বিলে গিয়ে পড়তো বর্ষা কালে।

খালটিতে ভরা বর্ষা কালে পাল তোলা নৌকা চলাচল করতো। নিরালা মোড়ে যে ব্রীজটা ছিলো আমরা প্রায়ই বই খাতা কিনতে শহরে যাওয়া আসার পথে ব্রীজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে নৌকা চলাচল দেখতাম।

পালতোলা পানসী নৌকা ও ছোট ছোট ডিঙি নৌকাতো হর হামেশাই চলাচল করতো। খালটা অনেক গভীর ও মোটামুটি চওড়া ছিলো। এই খাল পাড় হওয়ার জন্যই নিরালা মোড় ও ভিক্টোরিয়া রোড থেকে কালিবাড়ী যাওয়ার রাস্তায় ও বিন্দু বাসিনী হাই স্কুলের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে মোট তিনটা ব্রীজ তৌরী করা হয়ে ছিলো।

মানুষ পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিপ হাতে মাছ ধরতো। অনেকে বিভিন্ন ধরণের জাল দিয়েও মাছ ধরতো। কি মনোহর যে ছিলো সেই সব দৃশ্য। একটুু চোখ বুঁজে ভাবুনতো, একটা ছোট ছিম ছাম শহর, তার বুক চিরে বয়ে যাচ্ছে স্রোতস্বিনী খাল।

ভরা বর্ষায় তাতে চলছে রঙ বেরংগের পাল তোলা বাহারী নৌকা। সেই নৌকার বাইরে দাঁড়িয়ে শিশুরা শহর দেখে খুশীতে হাত তালি দিচ্ছে নৌকার ছই এর ভেতর থেকে পর্দা সরিয়ে নাইওর যাওয়ার কালে বধূ বা বৃদ্ধাটি অবাক চোখে দেখছে শহর।

এখন ভাবা যায় কি!

এমনি ছিলো একদিন আমাদের স্বপ্নের শহর টাঙ্গাইল । বিদেশে জলযান গুলি শহরের ভিতর দিয়ে এমনি ভাবে চলাচল করে। তারা তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদকে সর্ব শক্তি দিয়ে আগলে রাখছে।

গ্রীস্মকালে ও খালের কোথায়ও অল্প পানি আবার কোথাও বেশী পানি থাকতো।যেখানে অল্প পানি থাকতো, সেখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের প্রায়ই দেখতাম কাঁদা মাটিতে মাখামাখি করে মাছ ধরতে।এই কথা এখন কেউ বিশ্বাস যোগ্য নাও মনে করতে পারে।

কিন্ত সত্য এই যে খালটি এই সাবালিয়ার খালের মতো টাঙ্গাইলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে।

ভূমি দস্যুরা লোভে পরে দেশের যে ক্ষতি করছে তা কী তারা কোন দিনও উপলব্ধি করতে পারবে?যে দেশে আাইন আছে কিন্ত আইনের প্রয়োগ নেই,দেশের মানুষের আইনের প্রতি কোন শ্রদ্ধা নেই। ভূমি দস্যুরা,ক্ষমতাসীনরা দিনের পর দিন দেশটাকে চিপে নিংড়ে ছোবড়া করে ফেলছে,এবং এখনো করতেছে সেই দেশ নিয়ে কি করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা?

আসুন আমরা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, নদীনালা খাল বিল রক্ষা করতে তৎপর হই, ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করি। দলমত নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে প্রতিহত করি।

কবি পরিচিতিঃ আখতার বানু শেফালি ১৯৫১ সালের ৮ই জুলাই টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নামঃ আশরাফ আলী খান মাতার নামঃ আছিয়া খাতুন। কবি টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী গার্লস হাই স্কুল ও কুমুদিনী কলেজে (রনদা প্রসাদ সাহার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত যা বর্তমানে সরকারি কুমুদিনী কলেজ) পড়াশোনা করেন।

কবি কিশোরী বয়সে টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত হিতকরী, ইত্তেফাকের কচিকাঁচার আসর ও পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত পাকিস্তানি খবরের কিশোর প্রাঙ্গনের নিয়মিত লেখিকা ছিলেন।বর্তমানে কবি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাস জীবন যাপন করেন। তার সময় কাটে, বাগান করে,বই পড়ে ও কবিতা লিখে। কবিতা লেখার পাশাপাশি কলাম লেখায় তিনি সিদ্ধহস্ত। তিনি প্রবাস জীবনে-ও লেখনীর সুবাধে যেন এখনো সময় কাটান টাঙ্গাইলেই।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840