সংবাদ শিরোনাম:
ঢাকা-রংপুর-টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে ৮ জন নিহত

ঢাকা-রংপুর-টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে ৮ জন নিহত

সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা

১৬ ই আগষ্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ গেলো আর-ও ৮ জনের।

সখীপুরে মেধাবী কলেজ ছাত্র ইশতিয়াকের বাবার কাছে দীর্ঘদিনের বায়না ছিল মোটর সাইকেল কেনা। এই নিয়ে বাবা আপত্তি জানালে বাসায় অশান্তির সৃষ্টি হয়। বাবার আর্থিক সক্ষমতা না থাকার পর-ও মায়ের অনুরোধে বাবা বাধ্য হয়। সে জমি বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কিনে দেয়।

ইশতিয়াকের বাবা জমি বিক্রি করে তাকে ২০০ সিসি একটা মোটর সাইকেল কিনে দেন। ইশতিয়াক মটর সাইকেল পেয়ে যেন উড়তে থাকেন। ষোলোই আগষ্ট সকালে সখীপুর-গোড়াই সড়কে সে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সে মটর সাইকেল ড্রাইভ করতে থাকে। এমন অবস্থায় বীপরিত দিক থেকে একটি পিকআপ ভ্যান আসছিল।

পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ইশতিয়াক। হিলম্যাট না পরে ড্রাইভ করায় রাস্তার মাঝখানে ৮-১০ হাত জায়গা মাথা তার রাস্তায় লেগে মাথার মস্তক বেরিয়ে আসে। রাস্তা রক্তে ভেসে যায়। মটর সাইকেল পরে থাকে পাশে। ইশতিয়াকের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নরসিংদির শিবপুরে সিলেট থেকে ঢাকা গামী প্রাইভেটকার শ্যামলী পরিবহনের দ্রুতগতির বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চার জন নিহত হয়েছে এবং অর্ধশতাধিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন যাদের মধ্যে চার জনের অবস্থা গুরুতর।

ঢাকার মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঈদ উপলক্ষে প্রাইভেটকার নিয়ে সিলেটে বেড়াতে যায়। তারা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কারার চর নামক স্থানে বাসের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ হয়।

ঘটনাস্থলে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচরে যায় এবং ঘটনাস্থলে ঢাকাস্থ মিলেনিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া আক্তার, জান্নাত খাতুন, আকিব ইসলাম মারা যায়। বাসটি খাদে গিয়ে পরে। এতে বাসের যাত্রীরা-ও আহত হয়। তবে বাসের কোন যাত্রী মারা যায় নাই।

আহতদের দ্রুত স্থানীয় মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পর

ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিয়া শানু নামের একটি ছাত্রী মারা যায়। বাস যাত্রীদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আর-ও চার শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।

নবীনগর পূর্ব-৬ বিটঘর, কাইতলা উত্তর-দক্ষিণ, শিবপুর, বিদ্যাকুট এলাকার রাস্তার অবস্থা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। রাস্তাটি বলতে গেলে অচল ছিল। এলাকাবাসী রীতিমতো এটা নিয়ে দির্ঘদিন যাবত ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিল।

১৬ তারিখে সকাল ১০ টার দিকে সিএনজি নিয়ে আত্মীয় বাড়ি যাবার পথে বীপরিত দিক থেকে আসা মটর বাইকে লেগে ঘটনা স্থলেই মটর সাইকেল আরোহী নিহত হোন এবং সিএনজিতে থাকা মায়ের কোল থেকে বাচ্চা শিশুটি সিটকে রাস্তায় পরে যায়। সেখানেই বাচ্চাটি মারা যায়। বাকিরা আহত হয়। পরবর্তীতে আহতদের তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়।

এছাড়াও শ্যামলী পরিবহনের অপর একটি বাস অত্যান্ত ক্ষিপ্রগতিতে ঢাকা আসার সময় একটা মাইক্রোবাসকে পিষে দেয়। এতে ঘটনা স্থলেই মারা যায় মাইক্রোচালক। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরে।

রংপুর কাউন্টার থেকে জগদীশ পাল নামের ড্রাইভার বাসটি নিয়ে ভোর ৬টায় রওয়ানা হোন ঢাকার উদ্দেশে। মালিকপক্ষের দিক থেকে তাড়া ছিল দ্রুত ঢাকা পৌঁছানোর কারন রাতের মধ্যেই তাকে আবার বীপরিতে দিক থেকে ট্রিপ নিয়ে রংপুরে ফিরতে হবে। এমন অবস্থায় দ্রুত গতিতে টানতে গিয়ে বগুড়া থেকে রংপুর গামী একটি মাইক্রোবাসকে সে পিষে দেয়।

মাইক্রোবাস চালক মনিরের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সে মৃত্যুকালীন মা, বাবা. স্ত্রী ছাড়াও ২ সন্তান রেখে গেছে। পরিবারের সেই ছিল একমাত্র উপার্জন ক্ষম ব্যক্তি। কিছুদিন আগে মনির বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন। সে একটা অন্যের মাইক্রোবাস এ ড্রাইভার পদে চাকরি নিয়েছিল।

রংপুর ও ঢাকা বাস টার্মিনালে যোগাযোগ করলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাস মালিক ও বাস শ্রমিক সমিতির একাধিক সদস্য জানায়। সারাদেশে যে পরিমাণ দুর্ঘটনা হয় এর অর্ধেকের-ও বেশি দুর্ঘটনা ঘটে শ্যামলী পরিবহনের বাসে। শ্যামলী পরিবহনের মালিকের উদ্যতপূর্ণ আচরণ এবং সে একচ্ছত্র ভাবে বাংলাদেশের বাস মালিক সমিতি এবং বাস ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছেন।

শুধুমাত্র ঈদের পরই ১৬ ই আগষ্ট এর দুই টি বাস ছাড়াও আর-ও ৫ টি বাস শ্যামলী পরিবহনের দ্রুত গতির কারনে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বিষয়ে তাদের কোন হাত নেই।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840