সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
তিলক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গ (পর্ব ১) মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি: মমিনুল হাসান চৌধুরী

তিলক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গ (পর্ব ১) মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি: মমিনুল হাসান চৌধুরী

সিলেটে স্কুলের জমি দখল
সিলেটে স্কুলের জমি দখল

এই স্কুলটি আমাদের গ্রামের সরকারী প্রাইমার স্কুল। যে স্কুলে আমার শিক্ষা জীবনের প্রথম থেকে পঞ্চম সিঁড়ি। বড় দুঃখের বিষয় এই স্কুলের এস এ রেকর্ডে মোট ভূমির পরিমাণ ৬২শতক। বর্তমান পরচায় ৫৪ শতক ভূমি। বাকি ৮ শতক জায়গার দলিল জালিয়াতি অত:পর ব্যক্তি ভোগ দখল।

দুই পরিবার অনেক পূর্বে স্কুল সরকারী অনুমোদনকালে কিছু জমি স্কুলের নামে দান করা হয়। একটি পরিবার সেই ভূমি কিভাবে যেনো তার দখলে নিয়ে যায়।

ভূমি দাতা এক পরিবারের সন্তান সেই স্কুলের কাগজপত্র বের করলে দেখা যায় স্কুলের ৬২শতক ভূমির মধ্যে বর্তমান ফর্সায় ৫৪শতক ভূমি। বাকি ৮শতক ভূমি স্কুলের নামের পূর্বের দলিল বাতিল করে নতুন দলিলে ব্যক্তির নামে বেদখল।

স্কুলের ভূমি জালিয়াতির বিষয়টি ভূমি দাতা পরিবারের একজন উপজেলা নির্বাহি অফিসার, উপজেলা ভূমি অফিসার,উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে দরখাস্তের মাধ্যমে জানালে, উপজেলার ভূমি অফিসার ইউনিয়নের তফসিল-দারকে স্কুলের মোট ভূমির প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যে জরুরি নির্দেশ দেন।

সেদিন ২৪/৭/২০১৯তারিখ দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা। আমাদের ইউনিয়নের ভুমি তফসিলদার সর- জমিনে প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে এলেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি,ও (একাংশের ভূমি দাতা) দরখাস্তকারী দু’জনকে ডাকলে, স্কুলের সভাপতি গোপনে ফোন করে ভূমি দখলদারের সাঙ্গপাঙ্গদের ডেকে আনেন। কিছু সময়ের ভেতরে দেখলাম ভূমি দখলকারীরা স্কুলের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত।

দরখাস্তকারী আমাকে পেয়ে সেখানে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। উপস্থিত হয়ে দেখলাম দরখাস্তকারীকে ওরা পিছন ঘিরে রেখেছে। উপস্থিতি দেখে বুঝলাম কেউ তাদের গোপনে এখানে ডেকে এনেছে। কার্যালয়ে বসতে না বসতেই দেখলাম ওরা তফসীলদারকে খুব রাগান্বিত স্বরে প্রশ্ন করছে, বলছে আমাদের না জানিয়ে কেনো এখানে এলেন? আপনাদের সাহসত কম নয়।

উত্তেজিত হয়ে সভাপতি আর এক উগ্র মাইণ্ডের মুরুব্বি ভূমি তফসিলদারের কাছে জানতে চাইলেন’ ভূমি উদ্ধারের দরখাস্ত কে করেছে? তফসিলদার দরখাস্তকারীর নাম বললে, তাদের আরেকজন ভূমি তফসিলদারকে উত্তেজিত স্বরে আদেশ দেন দরখাস্তটা পড়ে শুনাতে।

তফসীলদার দরখাস্ত পড়ে শুনাতে লাগলেন। পড়ে শেষ করতে না করতেই ভূমি জালিয়াতির পক্ষের সেই মুরব্বি উক্ত দরখাস্তকারীকে খুব নোংরা ভাষায় গালাগাল করতে লাগলেন। খুব কটাক্ষ করে প্রশ্ন করা যখন শুরু করলেন। আমি মাঝখানে বসা।

ওদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলো ওরা দরখাস্তকারীকে মারধর করার পাঁয়তারায় আছে। আমি এবং প্রধান শিক্ষিকা শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুরোধ করলে তাদের উত্তেজনা আরো বাড়ে স্কুলের সভাপতিসহ ভূমি খেকোর কয়েকজন আমাদেরকেও লক্ষ্য করে আঙুল তোলে খুব রাগান্বিত স্বরে বললো আমরা যেনো কোনো কথা না বলি।

চোখের সামনে তাদের এহেন কর্মকাণ্ড দেখে আমি, তফসীলদার, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা, শিক্ষক তো অবাক। নির্বাক হয়ে বসে আছি আমরা। তাদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে কার্যালয়ের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে দাঁড়িয়ে গেলাম। ততক্ষণে স্কুলের সভাপতি দরখাস্তকারীকে কি যেনো বলেই ওপাশের চেয়ার থেকে টাস টাস করে দরখাস্তকারীর গালে থাপ্পড় শুরু করলেন।

সাথে সাথে ভূমি খেকোর সাঙ্গপাঙ্গরা সবাই এসে স্কুলের ভূমি দাতা (দরখাস্তকারী) কে প্রধান কার্যালয়ের ফ্লোরে ফেলে তফসিলদার, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষকের সামনে বেদর লাথি ঘুসি কিল এমনকি চেয়ার তোলে মারতে শুরু করলে, আমরা তিনজন দরখাস্তকারীকে রক্ষা করতে এগুই। কিন্তু ওরা আমাদেরও উপরও আক্রমণ শুরু করে।

স্কুলের ভেতর যেনো এক নজিরহীন গণপিটুনি,চরমসীমার মানবতা লঙ্ঘন।স্কুলের প্রধান কার্যালয়ের ভেতর থেকে বেরুতে গেলে ওরা কার্যালয়ের দরজায় ব্যারিকেড দেয়। আমি যখন এই অবস্থা আর সহ্য করতে পার- ছিলাম না বেরুতে চেষ্টা করছি, টের পেলাম ভেতর থেকে কেউ একজন আমাকে সাহায্য করছে। আমি বেরিয়ে আশেপাশের মানুষ ডেকে ঝরো করতে চিৎকার করলাম। ভয়ে কেউ এগিয়ে এলোনা।

ওরা দরখাস্তকারীকে মারতে মারতে স্কুলের বারান্দায় নিয়ে আসে। তাৎক্ষণিক আমি ফোনটা হাতে নিয়ে ভিডিও করার চেষ্টা করলে স্কুলের সভাপতি তার সাঙ্গপাঙ্গরা এসে ফোন কেড়ে নেবার চেষ্টা করে। হাত থেকে ফোনটি নীচে পড়ে গেলে আমি ঝাপটা দিয়ে ফোনটা হাতের মুটিতে নেই।

ততক্ষণে দরখাস্তকারী প্রাণ বাঁচাতে নীচ থেকে উঠে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলে তার সধবা বোন ভাগনি তাকে রক্ষায় দৌড়ে আসে। সেখানেও ওরা আক্রমণ চালাতে শুনি। ঘরের ভেতর ব্যারিকেড দিয়ে তাকে সহ তার বোন ভাগনিকেও মারধোর করে। হৈহল্লো চিৎকার শুনে নিজেকে নিজের ভেতর ধরে রাখতে পারছিলাম না।

আমার দোকানে দৌড়ে এসে থানায় ফোন করি। পরিচিতএস আই বললেন আমি এখন সুনামগঞ্জে। থানায় জানিয়ে দিচ্ছি। পুলিশ যেতে যেতে ত অনেক লেইট হয়ে যাবে।তাছাড়া রাস্তায় হাঁটুপানি। বরং আপনি লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে ঢুকেন।

আমি বললাম কেউই যেতে সাহস পাচ্ছে না। এস আই বললেন আপনি আপনার কানে ফোন লাগিয়ে যান।কল কাটবেন না। আমি লাইনে আছি যান। টাকা গেলে আমার যাবে তা নিয়ে আপনি ভাববেন না। এদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। কিছুটা সাহস পেলাম। আমার এক বড় ভাই সহ আমরা চারজন উদ্ধার করতে গেলাম।

স্কুলের সভাপতি সহ ভূমি খেকোরা ততক্ষণে লোকটিকে ঘরের ভেতর মরণাপন্ন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। বোনকে বলে গেলো কেউ যদি তাকে হাসপাতালে কিংবা থানায় নিয়ে যায় তাকেও মারবে। এসব না শুনে আমরা একটা গাড়ি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে তার চিকিৎসা চলে, থানার পুলিশ হাসপাতালে এলে আমরা ঘটনার বর্ণনা করি।

পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্যে সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।পরে শোনা যায় বাড়িতে তার ঘরের দরজায় তালার উপরে ওরা আরেক তালা দিয়ে রেখেছে। পুলিশ এসে সেই তালার ছবি তোলে নিয়ে যায়।

সরকারী প্রাইমারী স্কুল। সেই স্কুলের সভাপতি থাকাকালীন সেই স্কুলের ভূমি উদ্ধারে উপজেলা ভূমি অফিসারের কাছে ভূমি উদ্ধারে ভূমিদাতা দরখাস্ত দিতে হয়। ভূমি অফিসারের বরাবরে দরখাস্ত করলে তফসীলদার, প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষকের সামনে প্রধান কার্যালয়ে ফ্লোরে ফেলে যদি দরখাস্তকারীকে সভাপতিসহ বেদর মারপিট করে। সেই স্কুল আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয় কি?

যে স্কুলে ভূমি দাতার প্রাণের নিরাপত্তা নেই, সেই স্কুল কি আর সরকারের? এরা কি সরকারের থেকেও এতো ক্ষমতাশালী?

মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী, তিলক সরকারী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান কার্যালয়ের ভেতর আমাদের সম্মুখে ফেলে স্কুলের ভূমি উদ্ধারে যে দরখাস্তকারীকে স্কুলের সভাপতি সহ সবাই তাকে মেরে আধমরা করে’ ছবিতে দেখলাম ওরা আবার আপনার কাছে গিয়ে উল্টো কী জানি বলছে।এই দুইজন এমন ঘটনা করেছেন।

একজন প্রকাশ্য ফিতনাবাজ প্রায় পনের বছর আগে গ্রাম থেকে বিতাড়িত! উনি বর্তমানে আমাদের গ্রামের কেউ না। আরেকজন মসজিদ, গ্রাম উন্নয়নের, স্কুলের টাকা আত্মসাতকারী। গ্রাম উন্নয়ণের প্রায় তিনলাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

উদ্ধারের জন্যে গ্রামবাসী আপনার সাহায্য নিতে বেশ কয়েকবার পরিকল্পনা নিতে চাইলে,সময় সুযোগের অভাবে আর যাওয়া হয়নি। আমাদের পাড়ায় ওরাই আবার ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদের পাশাপাশি আরেকটি মসজিদ নির্মাণে পাড়ার মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন নষ্ট করে বিবাদ বিশৃঙ্খলা লাগিয়ে রেখেছে।

সে দিনের এ বিষয়ে আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম, বিবেক আমাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংশন করছে, তাই আপনার বরাবরে না লিখে আমি যেনো পারছিলাম না।স্কুলের ভেতর স্কুলের প্রধান কার্যালয়ের ভেতর আমাদের সামনে একজন ভূমিদাতাকে যেভাবে মারপিট করেছে এতে করে ওরা জঘন্যতম অপরাধ করেছে এদের বিরুদ্ধে সরকারীভাবে কঠোর আইনে সভাপতি পদ বরখাস্ত সহ কঠিন আইনে শাস্তি দেওয়া উচিৎ। না হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এমন জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হবে লোক। ছাত্র ছাত্রীরাও মারামারি শিখে সমাজে এ প্রজন্ম হয়ে উঠবেদাঙ্গাবাজ কিংবা সন্ত্রাসী।

বিশ্বাস করুন, এ গ্রাম সমাজে আমাদের মতো বিবেকবান মানুষের আর অন্যায় ব্যভিচার অনিয়ম দুর্নীতি-বাজ বিশৃঙ্খলাবাদীদের বিরুদ্ধে লেখার মতো ভাষা নেই, নিরাপত্তাও নেই। এ সমাজে মানবতার এতো অবক্ষয়, এ অসুস্থ সমাজের দিকে আমরা আর চোখ মেলে তাকাতে পারছি না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত যেখানে এদের কারণে সংক্রমিত। সেখানে আমাদের মতো মানবতাবাদী কতো আর কলম হাতে এদের দমন করার চেষ্টা করবে। আপনারা এলাকা এবং জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব করছেন ঠিক, কিন্তু আমাদের মতো মানবিক জনসাধারণ সেখানে একটুও শান্তি কিংবা নিরাপদে নেই।

মহোদয়, তিলক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি উদ্ধারে (মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী) আপনার সক্রিয় ভূমিকা রাখার বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। স্মরণ করছে আজ বহুমানুষ।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840