সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

থানার ভেতরেই আসামীকে গণধর্ষণ

দৈনিক ৭১

এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

একজন নারীর প্রতি ওসির লোলুপ দৃষ্টি পরতেই তাকে সন্দেহজনক ভাবে মোবাইল চুরির অপরাধে ফাঁসিয়ে থানায় রেখে ধর্ষন করা। পরেরদিন মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরন। আদালত হাসপাতালে সময়মতো না পাঠিয়ে দেরি করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-ও আরেক অযুহাতে কালক্ষেপন করেন। ফলে পরীক্ষার রিপোর্ট সঠিক আসবে কি না তা নিয়েও সন্দিহান।

এমনটাই ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে খুলনার পাকশি রেলওয়ে পুলিশের উপর। জনগণের সেবক যদি রক্ষক হয় তবে জনগন যাবে কোথায়?

খুলনার জিআরপি (রেলওয়ে) থানায় এক তরুণীকে (২১) গণধর্ষণের অভিযোগ করেছে তরুণী নিজেই। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওই নারী নিজেই আদালতে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।

গতো ২রা আগষ্ট রেল পুলিশ ওই মহিলার পায়ের কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করে এবং তারা বলে এটি একটি চোরাই মোবাইল। তারা মহিলার নিজের মোবাইলটিও জব্দ করে।

তাকে ফুলতলা স্টেশনে নামানো হয় এবং পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। পরবর্তীতে ওসি ওসমান গনি পাঠান তাকে প্রথম দফায় তার রুমেই ধর্ষণ করেন। এর পর পর্যাক্রমে সারারাত তাকে পালাক্রমে অন্য চার পুলিশ সদস্য ধর্ষণ করে।

ওসির কাছে মেয়েটি কেঁদে কেঁদে বলে “আমার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে। এরকম করবেন না। আমাকে ছেড়ে দিন।”

ওসি বলেন “তোর যে যৌবন। এতেই হয়ে যাবে।”

তিনি প্রথমে ধর্ষণ করে থানা থেকে চলে যান।

তাকে ৩রা আগষ্ট কোর্টে চালান করা হয়। কোর্টে মেয়েটি অভিযোগ করলে তাকে চার তারিখে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মহিলা ডাক্তার অনুপস্থিতির অযুহাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেনি। ওই দিন ওসি সাহেবকে হাসপাতালে দেখা যায়। অনেকের ধারণা তিনি ডাক্তারদের ম্যানেজ করেছেন। যে কারনে তারা মেডিকেল পরীক্ষায় গড়িমসি করে।

অবশেষে পাঁচ আগষ্ট ধর্ষিতার মেডিকেল চেকাপ করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অঞ্জন চক্রবর্তী জানান “তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিশ্চিত হতে চায় তারা। তবে একটু বিলম্ব হওয়াতে সমস্যা হয়েছে। কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আঘাতের টিহ্ন না থাকলে ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

মেয়েটির পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয় মেয়েটিকে আটকে রেখে তারা এক লক্ষ টাকা দাবী করেছিল। কিন্তু পুলিশ তাকে মাদকও চোরাচালান মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। সাথে তারা পাঁচ বোতল ফেনসিডিল পাওয়ার কথা দাবী করে।

মেয়েটির বড় বোন বলেন তারা রাতে বললো মোবাইল চোর আর সকালে বলছে মাদক ছিল সাথে।

ওসি বলেন “মাদক মামলা থেকে বাঁচতেই তারা এমন অভিয়োগ করেছেন। যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত “

তবে একাধিক সূত্রে জানা যায় ওসি ওই মেয়েটির পরিবারের সাথে বিষয়টি নিয়ে নরম স্বরে কথা বলেছেন এবং মিটিয় ফেলার চেষ্টা করছেন।

মেয়েটির শশুরবাড়ি যশোর থেকে সে খুলনায় বাবার বাড়ি যাচ্ছিল। তার মা অসুস্থ্য। অপরদিকে তাকে রাস্তায় তাকে সন্দেহজনক ভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় পুলিশের উপ পরিদর্শক জানায় “ইতিমধ্যে তারা পুলিশ সুপারকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।”

গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি।

মেয়েটির একটি সন্তানের বয়স সাত ও অপর সন্তানের বয়স ৩ বছর। কালক্ষেপনের কারনে পরীক্ষা ফলাফল সঠিক আসবে কি না এও নিয়ে দেখা দিয়েছে দ্বন্ধ।

পুলিশ বলছে “থানায় তিন নারী সদস্য তার নিরাপত্তায় ছিল তাই এমন ঘটনা ঘটার কোনো সুযোগ নেই।”

ওসির সাথে যোগাযোগ করলে তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে থানায় কোন নারী পুলিশ এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হোননি। মিডিয়া এই নিয়ে সরগরম। এখন প্রশ্ন আসল অপরাধী কে?

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840