সংবাদ শিরোনাম:
দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন দুই মেধাবী শিক্ষার্থী

দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন দুই মেধাবী শিক্ষার্থী

বাস একসিডেন্ট টাঙ্গাইলে
বাস একসিডেন্ট টাঙ্গাইলে

বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা বেড়াতে এসে লাশ হয়ে ঘরে ফিরেছেন দুই ডিপ্লোমা ইন্টার্নি মেডিক্যাল শিক্ষার্থী।

টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু। বিশ্বের এগারোতম দীর্ঘ সেতুটির পূর্বপাড়ে টাঙ্গাইলে রয়েছে যমুনা রিসোর্ট এবং ইকো পার্ক। যমুনার পূর্বপাড়ে ঘাটে অসংথ্য সাড়ি সাড়ি নৌকা বাঁধা থাকে। ভ্রমণ পিপাসুরা এই নৌকা ভাড়া করে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় নদির বুকে। নদির মাঝে জেগে উঠা চরাতেও অনেকে নৌকি ভিড়িয়ে পিকনিকের আয়োজন করে।

নদির তীরবর্তী গ্রামের দুষ্টু ছেলের দল বল নিয়ে ছুটে যায় এই চরগুলোতে। বালিময় মাঠে তারা সারাদিন ফুটবলের নেশায় মেতে উঠে।

যমুনা সেতুর অপূর্ব নির্মানশৈলী যেন চোখ জুড়ায় দর্শকদের। যমুনার পশ্চিম পাড়েও মানুষ জন ঘুরে বেড়ায় তবে সেটা খুবই কম পরিমাণে। ট্যুরিস্ট জোন হিসেবে টাঙ্গাইলের সাইটটাই জনপ্রিয়।


গতকাল শেখহাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইলের ডিপ্লোমা ইন্টার্নির দুই শিক্ষার্থী
বেড়াতে আসেন। তারা বঙ্গবন্ধু সেতু ও আশপাশ এলাকার সৌন্দর্য অবলোকন করেন।

রবিবার বিকালে তারা টাঙ্গাইলে ফেরার পথে, যমুনা রিসোর্ট থেকে বের হয়েই রাস্তায় বাসের লাইনে আসতেই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম দিক থেকে আসা একটি বাস তীব্র গতীতে ওই দুই শিক্ষার্থীর গায়ের উপর উঠিয়ে দেন। তারা বাসের চাকায় পীষ্ঠ হোন। ঘটনাস্থলেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ম্যাটস টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন হামীম ও সাদিয়া ইসলাম নদী।নিহত হামীম নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরের মনোহরপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং নিহত নদী গাজীপুরের কাপাসিয়ার তরগাঁও গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। উভয়েই টাঙ্গাইল শহরে থেকেই পড়ালেখা করত।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব গোলচত্ত্বরে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাভেলসের একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়। এঘটনায় ঘাতক বাসটিকে আটক করেছে বঙ্গবন্ধু সেতূপূর্ব থানা পুলিশ। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বাসের যাত্রী হামিদুর বলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা গাড়িটিতে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার আগেই ব্রেকের সমস্যা দেখা দিলে অজ্ঞাতস্থানের ওয়ার্কশপে তা ঠিক করে আবার ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পরে সেতু পার হওয়ার পরই হঠাৎ চালক গাড়িটি অতিরিক্ত দ্রুত গতিতে চালাতে থাকে। এসময় সেতু পূর্ব গোলচত্ত্বরে নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পরে আমাদের গাড়ির ব্রেক ফেলের সন্দেহ হলে ও তাদের চাপ প্রয়োগ করলে মহাসড়কের কালিহাতীর কামাক্ষা মোড় এলাকায় গাড়ি রেখে পালিয়ে যায় চালক ও হেলপার।

বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন সরোয়ার বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গোবিন্দগঞ্জ ট্রাভেলস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৯৯৭৫) গাড়িটি সেতুপূর্ব গোলচত্ত্বর পার হওয়ার সময় ওই দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়। এঘটনায় ঘাতক বাসটিকে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার কামাক্ষামোড় এলাকা থেকে আটক করা হয়। পুলিশ সক্রিয় থাকায় বেশীদুর চলে যেতে পারেনি। তবে বাসের ড্রাইভার ও হেল্পার বাসটি রেখে পালিয়ে যান। তাদের ধরার জন্য অভিযান অভ্যাহত রয়েছে।

এদিকে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ টাঙ্গাইলে ডিপ্লোমা ইন্টার্নির শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। বাস কোচ মালিক সমিতির গোলাম কিবরিয়া বড় মনির সেখানে উপস্থিত হোন। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের-ও নেতা।

তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন “অপরাধীর অবশ্যই বিচার হবে, দ্রুত বিচার কার্যকর করতে সবসময় তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন “
তিনি গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেন।

শিক্ষার্থী-সহপাঠীদের মধ্যে কান্নার রোল পরে যায়।Like

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840