সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
দুরের মাঠের পাড় (ভৌতিক গল্প)

দুরের মাঠের পাড় (ভৌতিক গল্প)

দুরের মাঠের পাড় (ভৌতিক গল্প)
দুরের মাঠের পাড় (ভৌতিক গল্প)

আথতার বানু শেফালি

একবার স্কুলের গ্রীস্মের ছুটিতে বাড়ীতে এলাম আমরা। আগে টাংগাইল শহর থেকে গ্রামে যেতে অনেক সময় লাগতো, বাড়ী পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত নেমে এলো। এই কয়মাসে আমার অনোপস্থিতি গাঁয়ের কতোটুকু পরিবর্তন হলো কিছুই দেখা হলো না আমার। খেলার সাথীদের কোন খবর নেওয়া হলো না, ফুল গাছগুলো কত বড় হলো, গাইয়ের বাছুরটা দেখতে কেমন হয়েছে, রামছাগলের বাচ্চাগুলি কত বড় হয়েছে, মোটকথা সবার হাঁড়ির খবর নেওয়ার আগেই রাত নেমে এলো।

রাতে দাদার ঘরে দাদা দাদির সাথে ঘুমাই। দাদার ঘরে পাশাপাশি বড় দুইটা চৌকি পাতা, বিরাট বিছানা। আমি একটু বড় হওয়ার পর বাড়ী গেলে দাদা দাদীর বিছানায় দাদীর পাশে ঘুমাই। গ্রামের লোকজন সন্ধ্যার একটু পরেই খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়ে, গ্রামে কিছুদিন থাকলে আমারও এই সন্ধ্যা বেলা ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস হয়ে যায়। আবার কিছু দিন টাঙ্গাইলে মানে শহরে থাকলে স্কুলের পড়াশোনার জন্য দেরী করে ঘুমানোর অভ্যাস হয়ে যায়। তখনো দেশে রেডিওর প্রচলন হয় নাই।

বাড়ীর সবাই ঘুমিয়ে, আমার ঘুম আসছে না, কারণ এতো তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস নাই, অপেক্ষায় আছি কখন সকাল হবে। জানালা দিয়ে জোছনা এসে বিছানা থই থই করছে। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে বাঁশ বাগানের মাথার উপর আকাশে বিরাট চাঁদ। আমি উঠে জানালার কাছে দাঁড়ালাম,চাদের আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে চারদিক , হঠাৎ আমার চোখ পড়লো নাসির কাকার উঠানের বড়ই গাছটার ছায়ায় কেউ একজন হাঁটছে।

লক্ষ করে দেখি নাসির কাকার বড় মেয়ে সবেদাবু, পরনে মনে হয় একটা লাল শাড়ী জোছনায় রংটা কালচে লাগছে, বাতাসে তার চুল উড়ছে, শাড়ীর আঁচল উড়ছে। কেউ জেগে না যায় আমি আস্তে করে ডাকলাম- সবেদাবু! ও সবেদাবু! মুহুর্তে সবেদাবু আমার দিকে তাকলো, আমি জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলাম। মনে হলো সবেদাবু যেন উড়ে চলে এলো আমার কছে। আমি বললাম
– কবে এলে তুমি?
-এতো রাতে বাইরে হাঁটছো কেন?
সবেদাবু বললো- দেখেছিস না কেমন জোছনা,
দিনের মতো, এমন জোছনা রাতে কেউ ঘুমায়? আমি ঘুমাতে পারিনা, এতোক্ষণ তো তোদের উঠানেই ছিলাম, তোর শিউলি গাছ ভর্তি ফুল ফুটেছে, তাই এতোক্ষণ দেখলাম, আর কি সুবাস রে! অনেক দিন বাড়িতে ছিলাম না কিছুই দেখা হয় নাই কাল, আমার লাগানো গাছগুলি কতো বড় হয়েছে, আমার শিউলি ফুল দেখার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠলো।
বললাম – সবেদাবু তুমি আমাদের উঠানে আসো আমি দেখবো।
সবেদাবু বললো – বাইরে আয়।

আমি আস্তে দরজা খুলে বাইরে এলাম। দেখি সবেদাবু দাদার ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমিও উঠানে এসে দাঁড়ালাম। শিউলি গাছের দিকে তাকিয়ে আমি অভিভূত, বেশ বড়সড় ঝাকড়া গাছ, গাছের সবুজ পাতা দেখা যাচ্ছে না, সাদা থোকা থোকা এতো ফুল ফুটেছে, গন্ধে ম ম করছে বাড়ীর আঙিনা।

চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি, থই থই করছে জোছনা।
সবেদাবু বললো – যাবি কোথায়ও?
আমি জোছনায় মোহগ্রস্হ, বললাম যাবো, কিন্ত কোথায়?
সবেদাবু বললো- চল মোড়ার পাড়ে যাই, দেখবি খোলা জায়গায় কতো জোছনা চারদিকে।
সবেদাবু আর আমি পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছি আমাদের মোহন ভোগ আমগাছের নীচ দিয়ে মোড়ার পাড়ের দিকে। মোহন ভোগ গাছের নীচু মোটা ডালটায় একটা দড়ি দিয়ে দোলনা বেঁধে দিয়েছেন দাদা আমাদের জন্য, আমরা সারাদিন কেউ না কেউ তাতে দোল খাই। হঠাৎ দোলনার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দোলনার মোটা দড়িটা আমাকে আচমকা পেঁচিয়ে ধরলো। আমি ভয় পেয়ে সবেদাবু ডাকতেই সরে গেলো দঁড়িটা।

ভয় পেয়েছিস কেন? আমি আছি না? বললো সবেদাবু।
তাইতো সবেদাবু সাথে থাকলে কোন ভয় নাই, সবেদাবুর বিয়ের আগে সবেদাবুই ছিলো আমাদের নেত্রী। কতো ভর দুপুরে আমরা আমাদের পূবদিকে জংলা ভিটায় বসে আমাদের বিরাট তেতুল গাছের চিরল ছায়ায় বসে কতো তেঁতুল ভর্তা খেয়েছি দল বেঁধে, সবাই আমাদের ভূতের ভয় দেখিয়েছে, আমরা ভয় পাই নাই। সবেদাবু সাথে থাকলে কোন ভয় নাই। আমরা হাঁটছি মোড়ার পাড়ের দিকে, ডান পাশে আমাদের বাড়ীর পুরানো পারিবারিক পুকুর, আর ডানপাশে পারিবারিক খবরখানা।

পুকুরের চারদিকে অনেক বড় বড় গাছ, বেত গাছের ঝাড় বিরাট একটা ডুমুরের গাছ একপাশে, সেই ডুমুর গাছে সারাবছর তিনচারটা মৌচাক থাকে। ডুমুর পেকে পড়ে পড়ে ডুমুর গাছের নীচে পুকুরের একপাড় উঁচু হয়ে আছে। আরো অনেক বড় বড় গাছ আছে পুকুরের চার পাশে। দিনের বেলায়ও অন্ধকার দেখায় পুকুরের চার পাশ, কুচকুচে কাকচক্ষু জলের পুকুর তাতে ফুটে থাকে বড় বড় রক্তশাপলা। মাঝে মাঝে পুরানো মাছ ঘাই দেয়। আমরা দিনেও পুকুরের কাছে যেতে ভয় পাই। হাঁটছি এমন সময় আমাদের সামনে দিয়ে একটা কালো বিড়াল দৌড় দিল, কবর খানার দিকে। পানির মাঝে বড় একটা জিনিস কিছু ছুঁড়ে মারার আওয়াজ হলো।

গাছগাছড়ার ফাঁক দিয়ে দেখি পানিতে কেউ অনবরত একটার পর একটা ঢিল ছুড়ছে, নড়ছে পুকুরের পানি, চাঁদের আলোয় জ্বল জ্বল করছে পুকুরের কালো কুচকুচে পানি। সবেদাবু যেন কাকে ইশারায় পথ ছেড়ে দিতে বলছে। আমি অস্ফুটস্বরে বলি – সবেদা’বু এসব কি?
সবেদা’বু বলে চুপ! বলে আমার হাত ধরে নিয়ে সামনে আগায়। মোড়ার পাড়ের একটু আগে বা দিকের বাঁশ ঝাড়টার ভিতরে অনেক বড় একটা গাব গাছ আছে, আমাদের গায়ের কেতু খাঁকে প্রায়ই এই গাছের মাথায় কে যেন রাত বিরাতে এনে বসিয়ে রাখে। যখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না তখন আশে পাশের লোকজন এই গাছের মাথায় তাকে খুঁজে পায়, সে সময় সে কাউকে চেনে না নাক মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে ভয়ঙ্কর চেহারা ধরে সে। সেই গাব গাছের উপরের একটা ডাল সরসর করে বাঁশ গাছের ভিতর দিয়ে আমাদের মাথার কাছে চলে এলো।

আমি জোছনার আলোয় বাঁশ ও গাছের ডালের ছায়াকে নড়তে দেখছি, কানে বাজছে কারো খনখনে গলার হাসির আওয়াজ। হঠাৎ কে যেন আমার মাথায় খামছা মেরে দুই একগাছি চুল তুলে নিলো। আমি উঃ বলে বসে পড়লাম। সবেদাবু এ্যাই এ্যাই বলে চেঁচিয়ে উঠতেই ডালটা উপরে উঠা শুরু করলো। ভয়ে আমার বুক কাঁপছে।

সবেদাবু আমাকে নিয়ে সামনে আগায়, আমরা মোড়ার পাড়ে চলে আসি। চারিদিকে কি জোছনা! কচি কালচে শিশু পাট ও ধানের চারা গুলি বাতাসে দোল খাচ্ছে। দুরে দেখা যাচ্ছে ঘুমন্ত নিস্তব্ধ কুমুড়িয়া ও বরটিয়া গ্রাম। মোড়ার পাড় এসে আমার ভয় ভেংগে যায়। এইখানে সারাদিন আমাদের বাড়ীর ধান বাতাসে উড়ান হয়। বাড়ীতে থাকলে প্রায়ই থাকি আমি এখানে।

সবেদা’বু বলে দেখ দেখ কালি ঠাকুরকে। জন্মের পর থেকে দেখে এসেছি আমাদের হিন্দু পাড়ার কালি ঘরটার মুখ আমাদের মোড়ার পাড়ের দিকে। তার ভিতরে বিরাট একটা কালি মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে, একটা পুরুষ মূর্তির বুকে একপা তুলে, হাতে ও গলায় রক্তাক্ত নরমুণ্ড নিয়ে। তার বের করে রাখা রক্ত মাখা বিরাট জিহ্বাটা অনেক দুর থেকে দেখা যায়। আমরা পাড়ার খেলার সাথীরা প্রায়ই দল বেঁধে এই ঠাকুর দেখতে আসি। আমরা একটু দুরে তেঁতুল গাছের নীচে একজন আরেক জনের গলা ধরে কোমর ধরে দাঁড়িয়ে কালি ঠাকুর দেখি আর নানান ভয়ের কথা বলি।

একসময় কেউ একজন বলে ঐ দেখ জিহ্বাটা নড়ে উঠলো, কেউ বলে হাত ইঁশারায় ডাকলো, কেউ বলে চোখ মারলো বলে আমারা সবাই ভয় পেয়ে বাড়ীর দিকে দৌড় দেই, আমরা আসলে ভয় পেতেই সেখানে যাই। এটাও আমাদের গ্রাম্য জীবনের একটা বিনোদন।

সবেদা’বু বলে–দেখ কতো জোছনা, জোছনায় দেখ কালি মূর্তি ও বেড়িয়ে এসেছে। আমি ভয়ে কালি ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখি সত্যি সত্যি কালিমুর্তি ঘর ছেড়ে বাইরে দাঁড়িয়ে, গলায় তার নরমুণ্ডের মালা, এক হাতে ধরা নরমুণ্ড, আরেক হাতে খড়গ। জোছনায় তার লাল জিহ্বা লক লক করছে, চোখ জলছে, হাতের খড়ক চিকচিক করছে চাঁদের আলোয়। সে তো একপা একপা করে আমাদের দিকেই আসছে।

আমি কাঁপছি ভয়ে, সবেদাবু হঠাৎ আমার ডান হাতটা ধরলো, আর আমি মাটির একটু উপরে উঠে মাঠের পাড়ের দিকে উড়তে শুরু করলাম। আমাদের খাল পাড় হয়ে নয়া পাড়ার খাল পাড় হয়ে আরো একটু এগিয়ে গেলে ছোট একটা বাঁশ ঝাড় পড়ে হাতের বাম দিকে, বাঁশ ঝাড়ের নীচে একটা কালো কুকুর তার চোখ দুটি জ্বলছে আগুনের মতো। কুকুরটা একটু গোল হয়ে ঘুরছে আর কুঁই কুঁই আওয়াজ করছে। ডান দিকের ঢালের নীচদিকে একটা বিষকাটালির ঝোপ দুলছে বাতাসে।
আমার মাঠের পাড়ে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই এই বিষকাটালির ঝোপে ঝাঁপিয়ে পড়ে গড়াগড়ি করে বিষকাটালির মিষ্টি গন্ধ গায়ে মাখি।

সবেদা’বু একমুহূর্তে একটা বিষকাটালির ডাল ভেঙে এনে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো – নে রাখ বিষকাটালীর গন্ধ না তোর খুব পছন্দ?
তারপর আমার ডান হাতটা ধরে আবার প্রায় উড়ে চললো মাঠের পাড়ের দিকে। সাথে আকাশের চাঁদ ও ছুটে চলছে আমাদের সাথে। কু্ঁই কুঁই আওয়াজ শুনে পিছনে ফিরে দেখি সেই কুকুরটাও আসছে আমাদের পিছনে পিছনে। উড়তে উড়তে হয়রান হয়ে মাঠের সামান্য ঢালের কাছে এসে আমরা ধপ করে উপর হয়ে শুয়ে পড়ি। সবেদা’বু বলে এখানে কেন এসেছি জানিস?
আমি বলি- জোছনা দেখতে।
সবেদা’বু কি রকম অদ্ভুত একটা হাসি দিয়ে বলে —-জোছনা বুঝি বাড়ীতে থাকলে দেখা যায় না?
আমি এসেছি ঐ আমাগাছে যে লোকটা ফাঁসি নিয়ে মরেছিলো তাকে দেখতে। আমি শ্বশুর বাড়ী থাকাতে তখন দেখতে পাই নাইতো তাই ভাবলাম দেখে আসি। আমার মনে পড়ে যায় একটা লোক গতো বছর মাঠের পাড়ের আম গাছটার সবচেয়ে নীচু ডালটায় ফাঁসি নিয়েছিলো। আমিও দেখতে এসেছিলাম।

কেন লোকটা ফাঁসি নিয়ে ছিলো জানি না। লোকটার পরনের লুঙ্গি আর শত ছিন্ন গেঞ্জিটা দেখে আমি দাদাকে বলছিলাম, দাদা লোকটা অনেক গরীব এই জন্য ফাঁসি নিয়েছে। লোকটা নাকি ভোরে পাটক্ষেত নিড়াতে এসেছিলো। কারন সে যেখানে ফাঁসি নিয়েছিলো তার একটু দুরেই একটা নিড়ানি পড়ে ছিলো। ঐ দেখ লোকটা ঝুলছে এখনো, সবেদা’বু বলে। আমি তাকিয়ে দেখি সত্যি লোকটা ফাঁসিতে ঝুলে আছে গাছের সেই নীচু ডালটায় সেই খানেই ।

আমার মুখে কোন কথা নেই আমি দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলি। সবেদাবু বলে কোন গন্ধ পাচ্ছিস না? লোকটা নিশ্চয়ই এতোদিনে পঁচে খাওয়ার উপযুক্ত হয়েছে তাইনা?আমি কি করবো ভেবে না পেয়ে পাশে তাকিয়ে দেখি সবেদাবু আমার পাশে নাই, আমি অসহায়ের মতো আম গাছের দিকে তাকিয়ে দেখি সবেদাবুর সাথে সেই কালো কুকুর ও বিড়ালটাও আছে, সেই কালি মুর্তিও আছে ফাঁসিতে ঝোলা লোকটির পায়ে তারা সবাই কামড়াকামড়ি করছে। আমি তাকতেই সবেদা’বু লোকটার গায়ে খামছা দিয়ে এক খাবলা গোশত তুলে নিয়ে হাত আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো খাবি? জোছনার আলোয় সবেদা’বুর হাত আস্তে আস্তে লম্বা হতে হতে আমার কাছে চলে এলো, নাকে উৎকট গন্ধ নিয়ে বিকট আওয়াজ করে আমি জ্ঞান হারালাম।

পারদিন সকালে যখন জ্ঞান ফিরলো তখন আমি দেখি আমি দাদার ঘরের বারান্দায় চৌকির উপর শোয়া, আমার মাথার ডানপাশে ব্যথা, আমার মনে আছে আমি চিৎকার করে পড়ার সময় চৌকির পায়ে মাথায় ব্যথা পেয়েছিলাম, আমার চুল ভেজা। আমি চোখ মেলে চারিদিকে তাকিয়ে সবাইকে দেখে বললাম, সবেদাবু কই? কে যেন বললো সবেদাতো শ্বশুড় বাড়ীতে? ওকে ভুতে ধরেছে, ভুত কখনো ওকে আছে উঠায়, কখনো পানিতে চুবায়। কেন ওকে খুঁজিস কেন তুই?
আমি লাফ দিয়ে উঠে বসি বলি – কি বলো তোমরা?
কাল সারারাত আমি সবেদাবুর সাথে ছিলাম।
বাড়ীর পাশের এক চাচী বলে কি বলে এই গেদি, কয়দিন আগে ওকে আনতে গেছিলো ওর ভাই কিন্তু ও শ্বশুর বাড়ী ছেড়ে কোথায় ও যাবে না, দিনরাত থাকে গাছের মাথায় আর জংলায়। আমি পড়ে বুঝতে পারি আমার কোথায়ও ভুল হচ্ছে, সবাইকে রাতের কথা খুলে বলি, আব্বা বলেন তুমি এসব স্বপ্নে দেখেছো।

যাই হোক আম্মা আমাকে পূব পাড়ার মাকে দিয়ে ঝাড়ফু্ঁক করান, পানি পড়া খাওয়ান। আব্বা বিকালে বলেন, চলো আমরা সবাই মাঠের পাড়ে ঘুরে আসি। মাঠের পাড় ছিলো ছোট বেলায় আমাদের দারুন একটা বিনোদনের জায়গা। আমি রাতের কথা ভুলে যাই, বাড়ীর সব ছোটরা হৈচৈ করে রওয়ানা হই মাঠের পাড়ের দিকে। মাঠের পাড়ে এসে আমার চোখ পড়ে যায় যেখানে সবেদাবুর হাত ধরে উড়ে এসে পড়েছিলাম সেই জায়গাটায়, সেখানে কাল সবেদাবুর দেওয়া আমার হাতে ধরা বিযকাটালীর ডালটা শুকিয়ে পড়ে আছে।
আমি ডালটা তুলে আব্বার হাতে দিয়ে বলি, আব্বা এইতো সেই বিষকাটালীর ডাল, আব্বা ডালটা আমার হাত থেকে নিয়ে একটুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে দেখেন, তারপর পাশের একটা ছোট ঝোঁপে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এরপর আমাদের মাঠের পাড়ে বেড়ানোটা আর জমে না।আমরা সবাই সন্ধ্যার আগেই বাড়ী ফিরে আসি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840