সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ধর্মীয় রাজনীতি বনাম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি

ধর্মীয় রাজনীতি বনাম ধর্ম নিয়ে রাজনীতি

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

ধর্মীয় রাজনীতি সবার পছন্দ না হলেও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে সবাই পছন্দ করে।ধর্মীয় রাজনীতি বলতে আমি ইসলামী রাজনীতিকে বুঝাতে চেয়েছি।

আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতীয় পার্টিসহ বস্তুবাদী দল গুলো ইসলামী রাজনীতি বা ধর্মীয় রাজনীতি পছন্দ করেনা। তবে তারা ধর্মকে ব্যবহার করেই রাজনীতি করে।নির্বাচনের পূর্বে তারা ধর্মপ্রেমি হয়ে যায়। পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি মাথায় দিয়ে নির্বাচনের প্রচারণা চালায় আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

নির্বাচনের পূর্বে আজান হলেই সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে মসজিদে ঢুকে। সাজে ধর্মীয় নেতার অাদলে।কিন্তু নির্বাচনে জিতে গেলে দাড়ি,টুপি ওয়ালাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন তিনি ঢাকা সিটি নির্বাচনে গত সেশনের মেয়র। তাঁর নাম আতিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানও ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশন এর প্রার্থী হয়েছেন। দুটি ছবির একটি দূর্গাপুজা অনুষ্ঠানে কাঁধে ঢোল নিয়ে নাচানাচি মুহুর্ত অন্যটি গতকাল নির্বাচনের প্রচারণার। আওয়ামী লীগ ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলে। তারা বলে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সাম্প্রদায়িকতা কিন্তু আওয়ামী লীগই ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে বার বার।

নির্বাচনের আগে বলে কোরআন সুন্নাহ বিরুধী আইন করা হবেনা কিন্তু ক্ষমতায় গেলে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। নাস্তিক আর বামপন্থী সুশীল সমাজ কর্তৃক বার বার ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছে। নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী ও বামপন্থীরা ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে আর তাতে প্রমোট করেছে আওয়ামী লীগ বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। এদেশে ইসলামী দল শক্তিশালী হোক তা কেউ চাইনি।

যখনই ইসলামী দল শক্তিশালী হতে দেখেছে তখনই আওয়ামী লীগ বিএনপি তাতে লোভ দেখিয়ে ঐক্যে পাটল ধরিয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোট একটি শক্তিশালী প্লাটফরম তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তাতে পাটল ধরিয়েছিল। লোভ দেখিয়ে ঐক্যজোটকে বিএনপির জোটভুক্ত করে নেয়। আর ঐক্যজোটের অদূরদূর্শিতার সুযোগে বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসলে ইসলামের ন্যুনতম ফায়দা হয়নি।

দুই একটা এমপি মন্ত্রীর জন্য ইসলামের বৃহৎ স্বার্থকে ভুলে গিয়ে যারা বিএনপি কে সমর্থন দিয়েছিল তাদের জন্য আফসোস করা ছাড়া কিছুই করতে পারছিনা। ইসলামী দল সমূহের মধ্যে ঐক্যের সম্ভাবনা দেখলে তাতে ছুরি বসিয়েছে বিএনপি আওয়ামী লীগ। হেফাজতে ইসলামকে কাজে লাগিয়ে যারা বিএনপিকে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিল তারাই হেফাজতে ইসলামের শক্তিকে খর্ব করেছে।

২০১৩ সালে নাস্তিক বিরুধী আন্দোলন কে কাজে লাগিয়ে হেফাজতে ইসলামের ঘাড়ে পা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখেছিল বিএনপি জামায়াত। বিএনপি জামায়াতের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে বিএনপি জোটে থাকা ইসলামী দলের কিছু বিপদগামী ও ক্ষমতালিপ্সু মোল্লা রাজনীতিক।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় জামায়াত শিবির আল্লামা শফিকে আমিরুল মোমিনীন ঘোষণা দিতেও দ্বিধাবোধ করেনি। হেফাজতকে ব্যবহার করে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় যেতে না পেরে তারা আল্লামা শফিকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে। বিশেষ করে,সরকার কর্তৃক কওমী মাদরাসা সনদ প্রদান করা হলে তখন তারা পাগলা কুকুরের মত আল্লামা শফি সাহেবকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করতে থাকে।

আল্লামা শফি সাহেবের ছবি কে এডিট করে কতটা ব্যঙ্গ করেছে তা বলার ভাষা থাকেনা। জামায়াতের নেতা তারেক মনোয়ার আল্লামা শফিকে বেঈমান ও গাদ্দার বলে সম্মোধন করেছে যা ভিডিওসহ প্রমাণ রয়েছে। জামায়াত ইসলামের নামে রাজনীতি করেছে কিন্তু ইসলামী হকুমত কায়েমের জন্যে নয়। ১৯৯১ সালে সতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়ী ১৮টি আসনে। কিন্তু রাতের আঁধারে বিএনপির সাথে আতাক করে ইসলাম প্রেমি তৌহিদী জনতার ভোটগুলো বিএনপির বক্সে ঢেলে দেয়।

বিএনপির সাথে তাদের সংসার বেশি দিন টিকেনি। ১৯৯৬ সালে তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোট করে। তিন বছর না যেতে আওয়ামী লীগের সাথে দূরত্ব বাড়ে।আওয়ামী লীগের সাথেও সংসার টিকেনি। পরে ২০০১ সালে আবারো পুরানো সংসার বিএনপির জোটে ফিরে যায়। জামায়াতের সংসার এখন পরকীয়ার মত।সুতরাং একথা প্রমাণিত যে আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়াত জাতীয় পার্টি ধর্মব্যবসায়ী। তারা নির্বাচনে জিততে ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

রাজনীতি সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী জামায়াত।দ্বিতীয় আওয়ামী লীগ এবং তৃতীয়ত বিএনপি। ধর্মীয় রাজনীতি সবাই পছন্দ না করলেও ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি সবাই করে। সহজ ভাষায় তাদের ধর্মব্যবসায়ী বলে।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

শিক্ষক, কবি ও লেখক।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840