সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ধর্ষকদের ফেসবুকে উল্লাস

ধর্ষকদের ফেসবুকে উল্লাস

ধর্ষণ করে ফেসবুক লাইভ
ধর্ষণ করে ফেসবুক লাইভ

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ করে ফেসবুকে উল্লাস করা সেই ৪ ধর্ষক শরীফ হোসেন, সুজন, শরীফ মোল্লা ও হাসান এলাকায় পরিচিত বখাটে ‘বখাটে’ হিসেবে। পোশাক ও চাল-চলনে ফিটফাট হলেও তারা খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের ফেইসবুক লাইভ দেখে মনে হয়েছে তারা অনেক বড় যুদ্ধ জয় করে ফিরেছেন।
শরীফ হোসেনের বাবা জসিম উদ্দিন ও সুজনের বাবা লিটন মিয়া সবজি বিক্রেতা। শরীফ মোল্লার বাবা সাবাজ মোল্লা দিনমজুর। হাসানের বাবা বেঁচে নেই। এলাকায় তাকে জানে টোকাই ও বখাটে হিসেবে। রবিবার শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকায় গেলে এসব তথ্য জানান স্থানীয় লোকজন। অবাক করা বিষয় এরাই এমন একটি বর্বরোচিত কাণ্ডটি ঘটিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরাফত আলী জানান, একমাত্র সুজনই লেখাপড়া করতো। সে স্থানীয় একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র হলেও সারাদিন আড্ডা দিত। পাশাপাশি বাড়ির সুবাধে ৪ জনই সারাদিন মোবাইল হাতে একসাথে আড্ডা দিত আর মেয়েদের পিছু ঘুরঘুর করতো। এদের কাজই ছিল উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করা।
অপর বাসিন্দা জাহিদুল মিয়া বলেন, ওই ৪ বখাটেকে প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যেত। ভয়ে এদের কেউ কিছু বলত না।গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই ওই ছাত্রী লোক-লজ্জায় স্কুলে যাচ্ছে না। এখনো সে আতংকগ্রস্ত। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও ৪ ধর্ষক দামি পোশাক পড়তো। ব্যবহার করতো স্মার্টফোন। তাদের দামী পোষাক ও স্মার্টফোনে উৎস এবং মদদদাতাদেরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
র‌্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ওরা খুবই ভয়ংকর বখাটে। গণধর্ষণের আগে মাদক সেবন করেছিল ওই ৪ ধর্ষক। ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ করলে ক্ষতি হবে বলে ছাত্রীর পরিবারকে হুমকিও দিয়েছিল। ছাত্রী ও তার পরিবারকে আতংকিত না হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অবাক করা ব্যাপার তারা কোন অদৃশ্য শক্তির ইন্ধনে মনে করেছে তাদের কিছুই হবে না। তাই তারা উল্লাস করেছেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী জানান, গ্রেপ্তার ৪ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ নির্দেশ দেন। রিমান্ড শুনানি তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তাদের বয়স কম কিন্তু অপরাধ অনেক বেশি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকার একটি বাসায় বান্ধবীর সহায়তায় ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে আনে ৪ বন্ধু শরীফ হোসেন, সুজন, শরীফ মোল্লা ও হাসান।
জন্মদিনের কেক কেটে আনন্দ উল্লাসের এক পর্যায়ে তারা এনার্জি ড্রিংসের সাথে ঘুমের ওষুথ মিশিয়ে পান করিয়ে ছাত্রীকে অচেতন করে। পরে একটি ঝোঁপে নিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।
তারা মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করে। ধর্ষণের পর ৪ বন্ধু একটি সেলুনে বসে ফেসবুকে লাইভে গিয়ে উল্লাস করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরদিন মামলা করেন। শুক্রবার রাতে র‌্যাব- ৪ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে।
তাদের উল্লাসের কাণ্ড দেখে জাতি বিস্মিত। এদের এমন হীন কর্মকান্ডে দেশে আর-ও অপরাধ বেড়ে যাবে এতে সন্দেহ নেই।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840