সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ধর্ষক ছেলেকে পালাতে সহযোগিতা করায় শেরপুরে বাবা-মা গ্রেফতার

ধর্ষক ছেলেকে পালাতে সহযোগিতা করায় শেরপুরে বাবা-মা গ্রেফতার

শেরপুরের নালিতা বাড়িতে তৃতীয় শ্রেনির শিশু ধর্ষণ
শেরপুরের নালিতা বাড়িতে তৃতীয় শ্রেনির শিশু ধর্ষণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার বয়স ৮ বছর। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ও এলাকার মানুষের তোপ থেকে বাঁচাতে ধর্ষককে পালাতে সহায়তা করে তার পরিবার। পরবর্তীতে পুলিশ আসামীকে ধরিয়ে দিতে পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে। অসহযোগিতার কারনে পরিবারের সবাইকে ধর্ষককে পালাতে সহযোগিতা করায় গ্রেফতার করেছে পু’লিশ।

ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবারের সাথে কথা বলে জানাযায়, উপজেলার আন্দারুপাড়া গ্রামের এই ছোট মেয়ে আন্দারুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার একই গ্রামের মেয়েটির মামার বাড়িতে বেড়াতে যায়। দিনটি ছিল শুক্রবার। সন্ধ্যা ৬টার দিকে মামার বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি ফেরার সময় ছাত্রীর পথরোধ করে ১৯ বছর বয়ষ্ক ধর্ষক আজিজুল হক।

১৯ বছরের আজিজুলের সাথে ৮ বছরের মেয়েটি শক্তিতে পেরে উঠে না কোনকিছুতেই। জোরপূর্বক রাস্তা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যায়। রাস্তার পাশেই ধানক্ষেত ছিল সেখানে নিয়ে যায়। আইলে ফেলে ধর্ষণ করে ধর্ষক আজিজুল।

ঘটনার পর শিশু মেয়েটির শরীর থেকে প্রবল রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ধর্ষক আজিজুল তার উদ্দেশ্য হাসিল করে মেয়েটিকে রেখে চলে যায়। মেয়েটি তীব্র ব্যথা সইতে পারছিল না। ঠিকভাবে হাঁটতেও তার কষ্ট হচ্ছিল। অনেক কষ্টে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরেন ওই মেয়েটি।

বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ব্যথা সহ্য করতে পারছিল না মেয়েটি। অপরদিকে রক্ত তো ঝড়ছেই। বাবা মায়ের কাছে সে রাস্তার ঘটনা খুলে বলে।

নিকটাত্মীয় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সাথে সাথে রাতেই চিকিৎসার জন্য শিশু মেয়েটিকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে যান বাবা-মা। এলাকায় লোকজন ফুঁসে উঠে। আজিজুলের বাবা, মা, মামা, চাচা এরা অবস্থা বেগতিক দেখে আজিজুলকে আইনের হাতে সোপর্দ না করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

শনিবার সকালে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আজিজুল কে না পেয়ে তার বাবা, মা, চাচা ও মামাকে গ্রেফতার করে। গ্রে’ফতারকৃত আজিজুলের বাবা আলম মিয়া (৪০) বলেন তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না। তার ছেলেকে তিনি পালাতে সহযোতিা করেন নি। মা আছমা বেগম (৩০) কান্নাকাটি করছেন সবসময়।, চাচা নুরুল হক (৪০) বলেন যার অপরাধ তার শাস্তি পাওয়া উচিত। একজন অপরাধীর জন্য তার আত্মীয়দের এভাবে হয়রানি করা ঠিক না। আমরা ভাইয়েরা আলাদা সংসার করি। আমরা পৃথক। ভাতিজার সাথে কোন সম্পর্ক নাই। সে অপরাধ করেছে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এটা কেমন আইন?

মামা দুলাল মিয়া (৪০) বলেন আমার বোনের এতো কান্নাকাটির পর-ও আমি তাকে শান্তনা দিতেও যাইনি। পুরিশ আমার বাড়িতে আজিজুলকে ধরতে অভিযান চালায়। সে আমার বাড়িতে আসেনি। তাকে না পেয়ে আমাকে গ্রেফতার করে। আমার পরিবার এই নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছে। অপরাধী কোথায় আছে তার খবর না নিয়ে পুলিশ ধরে আনছে আত্মীয়দের।

শনিবার সন্ধ্যার দিকে টঙ্গী থেকে ধর্ষক আজিজুল হককে (১৯) গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ পুলিশ।

আগেরদিন রাতেই মেয়েটির বাবা ধর্ষন মামলা দায়ের করেছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শেই তিনি সাৎক্ষণিক মামলাটি করেন বলে জানা যায়।

ধর্ষক আজিজুলকে পালাতে সহযোহিতা করায় তার পরিবারের পাঁচজনকে মামলার আসামি করে পুলিশ। শনিবার সকালেই অভিযান চালিয়ে আজিজুল হকের বাবা-মা, মামা ও চাচাকে নালিতাবাড়ির পুলিশরা গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। তারা কোন প্রকার সহযোগিতা না করলেও বিকেলেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে টঙ্গী থেকে ধর্ষক আজিজুলকে গ্রেফতার করে।

নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল বলেন, “মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাকে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কোন প্রকার অহযোগিতার সুযোগ নেই। বাচ্চা মেয়েটি ও তার পরিবারকে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। গ্রেফতারকৃতদের কোন ছাড় নয় ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার আইনানুগ প্রকৃয়ায় সিদ্ধান্ত নিবে।”

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840