সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
ধর্ষণ কি কমছে না বাড়ছে!

ধর্ষণ কি কমছে না বাড়ছে!

doinik71

একসময়ের আলোচিত ঘটনা ভিকারুন্নেসা স্কুলের জনপ্রিয় শিক্ষক পরিমল জয়ধর। ধর্ষক শিক্ষক পরিমল জয়ধর। এখনো অভিভাবকরা আৎকে উঠে পরিমলের কথা মনে হলে। ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসির হুকুম মাথায় নিয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন সেই আলোচিত শিক্ষক।পুরো বাংলাদেশ যার ফাঁসির দাবীতে ফুঁসে উঠেছিলো। আদালত গণ-মানুষের কথায় বাধ্য হয়ে ফাঁসির আদেশও দিয়েছেন কিন্তু দুর্ভাগ্য রায় কার্যকর হয় নি।

একজন সাংবাদিক বলেন “ভিকারুন্নেসা স্কুলের সেই সময়ের ঘটনাটির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে আমার দেখার সুযোগ হয়। যে ছাত্রীর অভিভাবক পরিমলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের এই অভিযোগ এনেছিল, তারা নিজেরাও জানতেন পরিমল এই দেশের বলবৎ আইন অনুযায়ী ধর্ষকের পর্যায়ে পরে না। মূলত: পরিমল এবং ছাত্রীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের মাঝেই মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরেন। বাবা মা দিশেহারা। দিশেহারা বাবা মা তখন উপায়ন্তর না পেয়ে মেয়ের কুকীর্তি সমাজের চোখে আড়াল করতে পরিমলকে বসান ধর্ষকের আসনে। তারপর পরিমলের আর-ও গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে। তার অসংখ্য শিকারের তথ্য সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। পরিমল চলে গেলো জেল হাজতে তারপর এবোরশন করতে মেয়েটি সিঙ্গাপুরে উড়ে গিয়ে এবোরশন করে ফেললো।

ঐ মেয়েটা এখন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন। সেদিনের দশম শ্রেণী পড়ুয়া পরিমলের কিশোরী প্রেমিকা এখন পরিণত, সে পড়ালেখা শেষ করবে শীঘ্রই। আর পরিমল ফাঁসির সেলের চৌদ্দ শিক গুণছে।

এবার ক্রিকেটের রুবেলের কথা একটু স্মরণ করুন। চিত্রনায়িকা হ্যাপীর ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হবার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কারাগারে পাঠানো হয় ন্যাশনাল এই পেসারকে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ টীম স্কোয়াড তখন চূড়ান্ত। রুবেল জায়গা পেল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত তালিকায়। তখন জাতীয় দলে রুবেলের পেস বোলিংয়ের প্রয়োজন খুব বেশী। মাশরাফি-মুশফিকদের বিশ্বকাপ যাত্রায় দেশ ছাড়ার দু- দিন বাকি মাত্র। সকাল ১০টা থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে ভীড় জমতে শুরু করলো বিসিবি কর্মকর্তাদের। সকাল থেকে সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমর বেলিম অস্থির হয়ে এদিক সেদিক ফোন করছেন। জামিনের কাগজ তখনও কারাগারে এসে পৌঁছেনি।

কিছুক্ষণের মধ্যে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনও এলেন। প্রচন্ড রোদে আর টেনশনে সবার ঘাম ঝরছে দরদর করে। যেকোন মূল্যে ধর্ষক রুবেলকে বিশ্বকাপে খেলাতেই হবে। তার কিছুক্ষণ পর বাগেরহাট থেকে এসে পৌঁছলেন রুবেলের বাবা মা। সাংবাদিকরা ঘিরে ফেললেন দুজনকেই। কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম, ছেলের খবর কখন পেয়েছেন? ময়লায় হলদেটে সাদা পাঞ্জাবী গায়ে রুবেলের সরল বাবা শুধু একটাই জবাব দিচ্ছিলেন, ‘আমার ছাওয়াল নিদ্দোষ বাজান।’ অবশেষে রুবেল সেদিনই মুক্ত হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে টীমের সাথে যোগ দিলো। বিচার-আচার সে পর্যন্তই শেষ। বিসিবি কর্তাদের চাপে মামলা তুলে নিলেন হ্যাপী। আর বহালতবিয়তে লাল সবুজের জার্সি গায়ে জাতীয় দলের হয়ে এখনও বল ছুড়ছেন রুবেল।

এবার আসি সম্প্রতি বনানীর ধর্ষণ ঘটনার হিরো সাফাত – নাঈমদের ঘটনায়। রিমাইন্ডার দেবার কিছু নেই। সাম্প্রতিক ঘটনা তাই সবার কাছেই খোলাসা ব্যাপার। বরাবরের মতোই সবাই ধর্ষকদের বিচারের দাবীতে মুখর। ঘুরেফিরে একই দাবী বাতাসে ভাসছে।

সমস্যা ঠিক এখানেই! কোন ঘটনার মূলে না গিয়ে আমাদের ভাবনার অপরাধীর আসনে আমরা কেবল জাস্ট কয়েকটা চরিত্রকে বসিয়ে দেই। এই কায়দায় আদৌ সমাজ সংস্কার সম্ভব কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। কেবল ধর্ষকদের পিছে ছুটলে তো আর ধর্ষকাম নিরাময় সম্ভব না।

ভিকারুন্নেসার দশম শ্রেণীর কিশোরী প্রেমিকা, চিত্রনায়িকা হ্যাপী কিংবা গভীর রাতে হোটেলে বার্থডে পার্টিতে লজ্জা বেচে খাওয়া এসব মেয়েরাই ধর্ষকদের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। হিসেবে গড়মিল শুরু হলে কিংবা বনিবনা না হলেই শুরু হয় ধর্ষণ আর্তনাদ।

৭১ টিভির টক শোতে অংশ নিয়ে ধর্ষিতা মেয়েটি যখন গভীর রাতে পার্টিতে যাওয়া ঠিক হয়নি বলে অনুতপ্ত হয়ে দোষ স্বীকার করছিলো ঠিক তখন উপস্থাপিকা মিথিলা তাকে থামিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করলেন এতো রাতে পার্টিতে যাওয়া দোষের কিছুনা বরং ধর্ষিত হওয়াটা দুঃখজনক। অর্থাৎ মদ গিললে অসুবিধে নেই কিন্তু মাতলামি করলেই সমস্যা! এরা বিড়ালের সামনে মাছ ছুড়ে দিয়ে বিড়ালকেই আবার রাক্ষুসে বনে পাঠায়।

আদালতও পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝে দেখেশুনে খেলে যায়। যাকে ফাঁসি দিলে পাবলিক খুশী তাকে ঝুলিয়ে দেয়। যাকে খেলার মাঠে প্রয়োজন তাকে মাঠে ছেড়ে দেয়। উপরের আলোচিত ঘটনাগুলো সেজন্যই আলোচনায় রাখলাম। নষ্ট সমাজই পরিমল, রুবেল, সাফাত কিংবা নাঈমদের পুষে রাখা পশুত্ব গুলোর চিত্রায়ন করছে।

শাস্তি কেবল ধর্ষকদের-ই নয় সেই সাথে রঙ্গরসে বলি হওয়া তথাকথিত ধর্ষিতা আর প্রশ্রয়দাত্রী নিশো (একাত্তর টিভির উপস্থাপিকা)-মিথিলাদেরও হওয়া প্রয়োজন। আর অপরাধীদেরকে আদালত যদি কেবল পাবলিক সেন্টিমেন্ট, ন্যাশনাল প্লেয়ার কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তি দেখেই বিচার করে তাহলে পরিমলের মতো কুলাঙ্গার শিক্ষকও বেকসুর খালাস পাবার দাবী রাখে ।

তনু হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল সারাদেশ, আমি নিজেও স্কুলে ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে মানব বঁন্ধন করেছি।কি লাভ হয়েছে এতে!!!

বারবার আমরা নিজেদের রাস্তায় ধার করাই, ফেসবুকে বড় বড় বুলি আওড়াই কিন্তু কমছে কি এই ধর্ষণ? মোটেই না। বরং বেড়ে যাচ্ছে আনুপাতিক হারে এর পিছনের কারন বিচার না হওয়া এতে মনের পশুত্ব আর-ও বেড়ে যাচ্ছে। এখনই সময় পদক্ষেপ নেবার। ২,৩,৪,৫,৭ বছরের অবুঝ শিশুও যে এই দেশে রক্ষা পাচ্ছে না। এই মানুষগুলোকে রক্ষার দায়িত্ব কার? দায়িত্বশীলরা কি সচেতন হবেন না? কবে নড়বে আপনাদের টনক?

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840