সংবাদ শিরোনাম:
নাঈমের যোগ্যতার প্রমান দিলেও বিস্ময়কর লজ্জ্বার রেকর্ড টাইগারদের

নাঈমের যোগ্যতার প্রমান দিলেও বিস্ময়কর লজ্জ্বার রেকর্ড টাইগারদের

বাংলাদেশ ভারত সিরিজ
বাংলাদেশ ভারত সিরিজ

১২, ১১০, ১২৬ ও ১৪৪ রানের প্রতিটি ঘরে ২ টি করে মোট ৮ ওইকেটের পতন। যেখানে চারজন খেলোয়ার একটি বলও মোকাবেলা করতে ব্যর্থ। অথচ একাই লড়লেন নাঈম। মাত্র দুজন পৌছেছিলেন দুই অঙ্কের ফিগারে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত : ২০ ওভারে ১৭৪/৫ ( রোহিত ২, ধাওয়ান ১৯, রাহুল ৫২, শ্রেয়াস ৬২, পান্ত ৬, মনিশ ২২*, দুবে ৯*; আল আমিন ৪-০-২২-১, শফিউল ৪-১-৩২-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৪২-০, আমিনুল ৩-০-২৯-০, সৌম্য ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-২০-০)।

বাংলাদেশ : ১৯.৫ ওভারে ১৪৪ (লিটন ৯, নাঈম ৮১, সৌম্য ০, মিঠুন ২৭, মুশফিক ০, মাহমুদউল্লাহ ৮, আফিফ ০, আমিনুল ৯, শফিউল ৪, মুস্তাফিজ ১, আল আমিন ০*; খলিল ৪-০-২৭-০, সুন্দর ৪-০-৩৪-০, চাহার ৩.২-০-৭-৬, চাহাল ৪-০-৪৩-১, দুবে ৪-০-৩০-৩)।

শেষ ম্যাচে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েও হোঁচট খেল টাইগাররা। মোহাম্মদ নাইম শেখের ব্যাটিং তাণ্ডবের পরও সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩০ রানে হেরে যেতেই হল টাইগার যুবাদের।

রবিবার ভারতের নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে স্বাগতিকরা প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে স্বাগতিক ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন স্রেয়াশ আয়ার। এছাড়া ৫২ রান করেন লোকেশ রাহুল। ইনিংসের টার্নিং মোমেন্ট ছিল স্রেয়াসের আফিফের পরপর তিন বলে তিনটি ছক্কা। আমিনুল ক্যাচ মিস করার পর-ও তাকে পরের ওভারেই বল করতে দিলে দেখা যায় অঝোরে তার ঘাম ঝড়ছে। মানসিক চাপটা আর নিতে পারেনি সে। ক্যাচ মিস করার পর ওভারটাতেই দিয়েছে বেশি রান।

১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বরাবরের মত লিটনের ওইকেট উপহার দিতে হয় শুরুতেই। সৌমই বা বাদ যাবেন কেন! সেও তার সতীর্থের সাথে পরের বলেই ফিরে যান। ১ রান দিয়ে ২ টি ওইকেট তুলে নেন বোলার।

নবীন মাঝি নাঈম শেখ দলের হাল ধরেন। ৯৮ রানের চমৎকার পার্টনার শীপ গড়ে তোলেন নাঈম-মিথুন। দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন। সেই আশার তরী হঠাৎ ডুবিয়ে দেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুশফিকুর রহিম। এরপর আফিফের গোল্ডেন ডাক ব্যর্থ করে দেয় নাঈমের ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংসটিকে।

আগের দুই ম্যাচে ভালো খেলা সৌম্য এ ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মারেন। শুরুর ১২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা নাঈম শেখ এবং মোহাম্মদ মিঠুন সামাল দেন সুন্দর ভাবে। দুজনে যোগ করেন ৯৮ রান। মিঠুন ২৮ বলে ২৭ রান করে যখন ফিরে যান দলের রান তখন ১৩ ওভারে ১১০। ইএসপিএনের দেওয়া ম্যাচ প্রেডিকশন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তখন ৭৮%।

নাঈম হাসান ৪৮ বলে ১৬৮.৭৮ স্ট্রাইক রেটে ১০ চার ও দুই ছক্কায় ৮১ রান করে ফেরেন। দল ১২৬ রানে হারায় ৫ উইকেট। তখনো আশা ছিল দলের। কিন্তু ক্রিজে থাকা মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে মাঠে নামা দলের শেষ ভরসা তরুণ আফিফ হোসেন গোল্ডেন ডাক মারতেই সব আশা শেষ হয়ে যায় দলের। কোন এক অজানা কারনে গতকাল বাংলাদেশ দলের খেলোয়ারেরা যেন পণ করেছিল পর পর দুটি করে ওইকেট দিয়েই আসবেন।

আফিফ আউট হওয়ার পর একেবারেই ফিঁকে হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন। মাহমুদুল্লাহ-আমিনুলরা একেবারেই আগাতে পারেনি। ৪ বল হাতে থাকতে ১৪৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

ভারতে প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখা দলটা হারে ৩০ রানে। ভারতের হয়ে দিপক চাহার ৩.২ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচা করে নেন ৬ উইকেট। টি-২০ ফরম্যাটের সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। তার প্রতিটি বলই যেন ছিল একটি রেকর্ডে র হাতছানি। নিজের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে উইকেট নেওয়া চাহার নিজের চতুর্থ এবং বাংলাদেশ ইনিংসের শেষ ওভারে পরপর দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন। ৭ রানে ৬ ওইকেট সাথে হ্যাট্টিক। এমন রেকর্ড স্বপ্নের মত। চাহাল-ও স্পর্শ করেছেন অনবদ্য একটি রেকর্ডের। সবচেয়ে কম ম্যাচে ৫০ ওইকেট তার দখলে।

বাংলাদেশের ওইকেট পতনের ছন্দটা খুবই লজ্জ্বাস্কর। ১২ রানে লিটন ও সৌম্য। অর্থাৎ সৌম সরকার প্রথম বলেই আউট। আবার ১১০ রানে ৩য় ওইকেটের পতন হলে। পরের বলেই মুশফিকুর বোল্ড। ১১০ রানে আবার দুটি ওইকেট। এরপর ১২৬ রানে মোহাম্মদ নাঈম আউট হলে পরের বলেই বোল্ড আফিফ ফলে ১২৬ রানে আর-ও ২ ওইকেট। টোটাল স্কোর ১৪৪ রানে যথাক্রমে মোস্তাফিজ ও আমিনুল এর ওইকেট পতনের ফলে ১২, ১১০, ১২৬ ও ১৪৪ রানের ঘরে ৮ ওইকেটের পতন। যেখানে চারজন খেলোয়ার একটি বলও মোকাবেলা করতে ব্যর্থ।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840