সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
নিপা মোনালিসার সেরা তিনটি কবিতা

নিপা মোনালিসার সেরা তিনটি কবিতা

নিপা মোনালিসার সেরা তিনটি কবিতা
নিপা মোনালিসার সেরা তিনটি কবিতা

জাগো, চেতনার জনকরা
মোসাঃ আজিজা খাতুন (নিপা মোনালিসা)

———————————————————

চেতনার জনক, কোথায়!কোথায় তোমরা?
এসো,আমি বিজয় নিয়ে লিখতে পারছি না,
ধরো, কলম,ধরাও কলম আমায়।
আমি কেন পারছি না,ওই!
ওই,হায়েনারদের বিভীষীকাময় নারকীয় তাণ্ডবের হতাজঙ্গ রচিতে।
পারছি না কেন,অশ্রুঝরা মা-বোনের অশ্রুর সাক্ষী হতে।
স্ত্রীর রক্তোজ্জল চোখ,
বাবার ছলছল চাহনি, সন্তানের হাহাকার,
ঘরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার আর্তনাদ
গ্রামময় ঝলসানো পোড়া বাড়ি,
পারছি না কেন?কেন এতসব লিখতে!
আমি লিখিনি , আমি জানি নি,
আমি বুঝিনি, সে অগ্নিগিরির লাভার অগ্ন্যুৎপাত কতটুকু উৎতপ্ত।

আমার বুকে এত সাহস নেই—–
নেই সে একাত্তরের রাইফেল।
নেই নে দুঃসাহসিক হাত,
যে হাতে মার্চের কালো রাতকে করেছিল ;
পুষ্পে সজ্জিত জোসনাস্নাত স্বর্গপুর।
জনক, তোমরা বলো বলে দাও–
ডাক তাদের এ কলুষিত নগরে।
বায়ান্নোর বরকতেরা, একাত্তরের দামালরা,
কোথায়! এসো এ ভুবনে।

পলাশির পরাজয় ভুলে,
ক্ষুদিরাম, মহাত্মার হাত ধরে-
বঙ্গ বন্ধুর দুর্বার আহ্বানে
জাগো, হে জাগো বঙ্গবাসী।
স্বাধীনতার স্বাদ পেতে,
মুক্তবিহঙ্গ হয়ে উড়তে,
এসো সবুজ প্রান্তরের দুর্গম পথ পার করে,
ঘুমিয়ে থাকা
আমার চেতনার জনকরা,
সাড়া দাও, আহ্বান করো, বাঁচাও!
এ মৃত্যপুরি ধ্বংসাবশেষ এ স্বাধীন আলয়কে।

দেশ বিজয়ে মা?
মোসাঃ আজিজা খাতুন (নিপা মোনালিসা)

——————————————————

কে তুমি? মুক্ত, শান্তি, না জয়!
এসেছো! এসেছো কি নিয়ে পতাকার বিজয়?
সূর্য যাবে বুঝি ডুবে, অন্ধকার হচ্ছে পুবে,
ফুল হাতে নিবে, অরুণ-বরুণ সেজে তবে-
আসবে তারা লাল সবুজের দেশে।

মা আমার স্বপ্ন বুনে প্রহর গুণে
আসবে ছেলে রেডিও তে যাচ্ছে শুনে।
মাথায় উপরে উড়ছে পড়ছে আজ
বাজপাখির মত উড়োজাহাজ।
ধন্য ছেলের রাইফেল আজ
ফটফট করছে আওয়াজ।
এই বুঝি আসছে দৌড়ে: বীর বেশে।

ছুটোছুটি লোক-লোকান্তর,
কাঁপছে হায়েনার অন্তর।
ওসমানির কাছে করে আত্মসমর্পণ,
আলো জ্বললো ঝলঝল দর্পন।
মা স্বপ্ন বুনেবুনে যাচ্ছে ভেসে।

জমিলার বুক খালি হানাদার বুলেটে,
ওরা বীরাঙ্গনা করে রহিমার সব নিলো লুটে।
রুমির শার্টের রক্ত ওড়লো ওদের তাবুতে,
মতিউর,রুহুলরা ঝাপ দিলো জীবন দিতে।
সব ব্যথা ভুলে আত্মগ্লানি মুছে,
দুঃখ- বেদনা মাঝে বিজয়ের কাছে,
আজ পতাকা হাতে মা আছে বসে।

আজ যে ক্যালেন্ডারে ষোলো ডিসেম্বর,
ফুলে ফুলে সেজে বাংলার প্রান্তর,
দামাল ছেলে ভরবে মায়ের অন্তর,
বিজয়ের গর্বে গরবিনী বঙ্গ অন্তর।
দেশের বিজয়ে মা যাচ্ছে হেসে।

ছেড়ে দিলাম তোমায়
মোসাঃ আজিজা খাতুন ( নিপা মোনালিসা)

——————————————————-

তুমি যাবে! কই? একবার ও তো বললে না।
যাবে যেতে বাধা দিতাম না।
বাধা দেওয়া পিঞ্জিরা আমার নাই।
তবে ছিলো কিছু প্রশ্ন?
দিতাম কিছু রত্ন।

না নিলে… প্রশ্নটা তো শুনতে!
তোমায় নিয়ে বিরহী কবির গীত রচিব না।
কেঁদে তোমার চলার পথ পিচ্ছিল করবো না।
ফিরবে কি! না ফিরবে না?
এমন প্রশ্নে তোমার হতদরিদ্র হৃদয়কে-
চূর্ণ -বিচূর্ণও করতাম না।
মস্তিষ্কের রন্ধে তোমার বুদ্ধির বিবেক…
সে বিবেক রেখো সযতনে আগলে।
প্রশ্নবিদ্ধ আঙ্গুলকে নড়তে দিও না।

আমি তোমার যাবার সারথী হতাম না,
ঝোলার কাধভারী বস্ত্র হয়েও কাউকে আহ্বান করব না।
তবে—!
যাবার সময় ইচ্ছের হাট থেকে একমুঠো ইচ্ছে দিতাম।
দিতাম পদ্মবসনের শীতের শিশির ভেজা সরস জ্বল,
আর হস্ত পুরে দিতাম
একরত্মি আলতো দুটো ঠোটের উষ্ণ পরশ।

মনের বাগানজুড়ে রাশি রাশি
ফুলের বাহারি সুবাস।
দিতাম জোনাকপুরের স্বর্গ সাজিয়ে রঙিন বিছানা।
হংসবালিকার পালকে পুরে দিতাম
এক ফালি চাঁদের হাসি।
দিতাম পদ্মার বুক থেকে ঘাশফুলে ভরে
শান্ত এক শীতল বাতাস।
বটবৃক্ষের কাছে কিছু ছায়া ঋণ নিয়ে
দিতাম তোমায় হাতের তালপাখায়।

তুমি যাবে বললে-
কাঁদতো না আঁখি।
কাঁদতো মন, যার উপর …
আমার তোমার নাই দখল।
কাঁদলে মন তবু দিতো বিদায়।
বলতো ভালো থেকো সর্বদা।
এখন…
গেলে না বলে, চলে …
বিদায় না বলে কেন,কেন! যেনো–
অভিশাপ আসে ক্ষণেক ক্ষণেকর্।

কবি পরিচিতি:

মোসাঃ আজিজা খাতুন ডাক ও ছান্দসিক নামঃ নিপা মোনালিসা পিতাঃ মোঃ আজাদ আলী পেশাঃ শিক্ষকতা গ্রামঃ ডাংগের হাট পোঃ দারুশা পবা, রাজশাহী।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840