সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা

নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা

ইশা ছাত্র আন্দোলন
ইশা ছাত্র আন্দোলন

১) ইশা ছাত্র আন্দোলনের সূচনাঃ-

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের প্রতিষ্টাকাল ১৯৯১ সালের ২৩ আগষ্ট, রোজ জুমাবার ঢাকায়।প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ( বর্তমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আমির মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রহ:। ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসি, রাজনৈতিক দুরবৃত্তায়ন প্রতিরোধ, সুস্থ, নৈতিক রাজনীতির চর্চা ও ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ইশা ছাত্র আন্দোলনের পথ চলা। দীর্ঘ ২৮ বছর এই ছাত্র সংগঠনের কোন অনৈতিক বা সন্ত্রাসি কর্মকান্ড নেই।

২) দেশপ্রেমের শিক্ষাঃ


ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি নেতা, কর্মী সদস্য দেশপ্রেমকে ঈমানের অঙ্গ মনে করেই দেশকে ভালবাসে। দেশকে ভালবাসার শিক্ষা আর দিক্ষা দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের দেওয়া হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন- দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। সুতরাং ঈমানের তাগিদেই দেশকে ভালবাসে তারা। দেশে, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে রাজনীতি করে। শুধু তাই না, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রত্যেক নেতা কর্মী। এই শিক্ষা কেন্দ্র থেকে দেওয়া হয়। তাদের মাতৃসংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির, নায়েবে ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সব সময় দেশপ্রেমের দিক্ষা দেয়। মাঠে ময়দানে, রাজপথে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের চেষ্টা করেন। দেশ রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত তারা। তারই প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৯ সালে। ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে বাধ দিয়ে বাংলাদেশ কে মরূভুমিতে পরিণত করার হীনষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল তখন গর্জে উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষে ভারতের টিপাইমুখ অভিমুখে লংমার্চ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সেই ঐতিতাসিক লংমার্চে নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই। সেই লংমার্চের কারণে ভারত সরকার টিপাইমুখে বাধ দিতে পারেনি।

৩) মানবতাবোধঃ-

ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটা নেতা কর্মীর মাঝে মানবতা রয়েছে। এই মানবতার শিক্ষা দেওয়া হয় সংগঠন থেকে। আত্মমানবতার সেবায় সবার আগে ছুটে যান ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা। শুধু নিজ দেশে নয় বিশ্বের যে কোন প্রান্তে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হলে প্রতিবাদে রাজপথে নেমে পড়ে ইশা ছাত্র আন্দোলনে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরে মুসলিমদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিক্ষোভ মিছিল। শুধু মুসলমান নয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কেউ নির্যাতিত হলেও ইশা ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ করে। শীতকালে অসহায় মানুষের কাছে শীতের পোশাক পৌছে দেওয়া, কোরবানির সময় গরিব ও অসহায়দের মাঝে গোশত বিতরণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানি বন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ নানা মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে ইশা ছাত্র আন্দোলন। সুবিধা বঞ্চিত অসহায় পথ শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং ঈদুল ফিতরের সময় সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের ঈদের পোশাক প্রদান করে থাকে ইশা ছাত্র আন্দোলন। যেখানেই মানবতা লুণ্ঠিত সেখানেই প্রতিবাদ করে ইশা ছাত্র আন্দোলন।

৪)ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনঃ

ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রত্যেক নেতা কর্মী তাদের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠনে গুরুত্বারোপ করে। তারা মনে করে নিজে পরিবর্তন না হলে সমাজ পরিবর্তন করা আদৌ সম্ভব নয়। তাদের একটি শ্লোগান হলো- সাহাবাদের অনুসরণ – ইশা ছাত্র আন্দোলন। সাহাবায়ে কেরাম অনুসরণ করতেন মহানবী (সা:) কে আর সাহাবায়ে কেরাম কে অনুসরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তারা সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি মেনেই রাজনীতি করে। তাদের ভাষ্যমতে ব্যক্তি পরিবর্তন না হলে সমাজ পরিবর্তন হবেনা, সমাজ পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্রের পরিবর্তন আদৌ সম্ভব নয়। সেই শ্লোগান কে সামনে রেখে প্রত্যেক নেতা কর্মী সুন্নাতি পোশাক পরিধান করে এবং দাঁড়ি টুপি রাখে। যদিও দলীয় বাধ্যবাধকতা নেই দাঁড়ি টুপি ও সুন্নাতি পোশাকের কিন্তু নেতাদের দেখাদেখির ফলে একজন ভার্সিটির ছাত্রকেও দেখা যায় সুন্নতি পোশাক পরিধান ও দাঁড়ি টুপি রাখতে । দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইশা ছাত্র আন্দোলন নেতা কর্মীদের একই বেশে দেখা যায়।

৫) সহনশীলতা:

ইশা ছাত্র আন্দোলনের প্রত্যেক নেতা কর্মী সহনশীল। অন্যের প্রতি সহনশীল আচরণ তাদের অন্যতম গুন। রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির চর্চার এ যুগেও সহনশীল, নৈতিক ও আদর্শিক রাজনীতির চর্চা করে যাচ্ছে ইশা ছাত্র আন্দোলন। ভিন্ন ও প্রতিপক্ষদের প্রতি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহনশীল আচরণে বিশ্বাসী ইশা ছাত্র আন্দোলন। মিথ্যা বা যে কোন উপায়ে প্রতিপক্ষ কে ঘায়েল করার সংস্কৃতিতে তারা বিশ্বাসী নয়। তারা সর্বাবস্থায় রাজনৈতিক সহাবস্থান কামনা করে।

৬) উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসি কর্মকান্ডের বিরোধিতাঃ

ইশা ছাত্র আন্দোলন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসি ককর্মকান্ডে বিশ্বাসি নয়। সাম্প্রতিক ছাত্রলীগের সকল অন্যায় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন ও কড়া সমালোচনা করেন ইশা ছাত্র আন্দোলন। তারা নিজেরা যেমন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে বিশ্বাসি নয় ঠিক তেমনি অন্য কেউ সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে করলে তাদেরও ছাড় দেয়না। স্বার্ধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা পত্রে উল্লেখিত, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় নীতির পরিবর্তন চাই শ্লোগানে রাজনীতি করে যাচ্ছে সুতরাং একথা স্পষ্ট যে নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে ইশা ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840