সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার

নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার

নৌ ধর্মঘট
নৌ ধর্মঘট

১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে নৌযান শ্রমিকরা। গত রাতে (শনিবার) শ্রম অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আগামী মার্চের মধ্যে ১১ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক নেতারা। নৌ-যান শ্রমিক নেতা ও শ্রম অধিদপ্তরের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয়। এতে করে সারাদেশে একযোগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে নৌ-চলাচল। নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনাসহ সারাদেশের বড় বড় নৌযানগুলো বন্ধ ছিল। অবশ্য চরমোনাই পীরের ওরস মাহফিল উপলক্ষ্যে ধর্মঘট ওই এলাকায় শিথিল ছিল।

শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার মাস্টার। আগের আরেকটি মানববন্ধন থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন নৌযান শ্রমিকরা। তাদের দাবী মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা কর্মঅব্যাহতির ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে:

১। নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারীদের খোরাকি ভাতা ফ্রি করতে হবে ও ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করতে হবে।

২। মাস্টার ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় ও ডিপিডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সব প্রকার অনিয়ম বন্ধ করতে হবে এবং কোর্স চলাকালে শ্রমিকদের ছুটি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৩। নৌ শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসালয় করতে হবে।

৪। নৌপথে মোবাইল কোর্টের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

৫। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নৌ শ্রমিকের মৃত্যু হলে ১২ লাখ টাকা মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৬। ভারতগামী শ্রমিকদের লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পাশ সার্ভিস ভিসা ও জাহাজের ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় তাদের (শ্রমিকদের) সুবিধা মতো স্থানে বাজার ও অন্যান্য কাজের জন্য আলাদা নৌকার ব্যবস্থা করতে হবে।

গত ২০ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশনের ১৪ দফা ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মালিকপক্ষের প্রতি আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন নৌযান শ্রমিকরা। এতে করে নৌ-চলাচল অচল করে দেয়ার কথা তারা বললেও পরবর্তীতে তারা অপেক্ষা করে এক সপ্তাহ পর তারা নৌ-চলাছল বন্ধ করে দেয়। এতে করে বিপাকে পরে মালিক পক্ষ।

এরপর গতরাতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তারা তাদের চলমান আন্দোলন থেকে সরে আসে। মালিক পক্ষ তাদের যুক্তিসংগত দাবী দাওয়া মেনে নিয়েছেন বলে আশ্বস্ত করেন। খুব শীঘ্রই তাদের দাবী বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন “ নৌ-যান চলাচল এখন থেকে স্বাভাবিক। আমাদের দাবী মালিকরা মেনে নিয়েছেন। তারা কত দ্রুত বাস্তবায়ন করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তাদের কথায় আমরা আস্থা রেখেছি। আশা করছি খুব দ্রুত আমাদের সব দাবী তারা বাস্তবায়ন করবেন।

আমরা কোন কাজে বিঘ্ন ঘটাতে চাই না। আমরা চরমোনাই পীরের মাহফিলের বিষয়টি মাথায় রেখে ওই রোডে নৌ-চলাচল শিথিল করে দিয়েছিলাম। আমরা জনগণের ভোগান্তির কারন নই। হতেও চাই না। আমরা জনগনের বন্ধু। তাদের পাশে থাকতে চাই। আমরাই জনগণ।

মালিকপক্ষ থেকে একজন বলেন “তাদের দাবীগুলো অযৌক্তিক নয়। আমাদের-ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা তারপর-ও তাদের দাবী মেনে নিয়েছি। চেষ্টা করবো যতো দ্রুত সম্ভব তাদের দাবী সমূহ বাস্তবায়ন করতে। তারা কাউকে ভোগান্তিতে না ফেলে কাজে ফিরে যাক আমরা সেই অনুরোধ করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাদের দাবী বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ্। আর তারাও আমাদের সাথে সহমত হয়েছে। তারাও ভোগান্তিতে ফেলতে চান না। “

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840