সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
পীর সাহেব চরমোনাই রহ: ছিলেন আপোষহীন রাহাবার

পীর সাহেব চরমোনাই রহ: ছিলেন আপোষহীন রাহাবার

পীর সাহেব চরমোনাই
পীর সাহেব চরমোনাই

ভারত উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার প্রসার লাভ করেছে পীর আউলিয়াদের মাধ্যমে। তারই ধারাবাহিকতায় চরমোনাই তরিকার মাধ্যমেও ইসলামের প্রচার প্রসার হয়েছে শত বছর ধরে। চরমোনাই তরিকার প্রবক্তা হলেন ভারতের অন্যতম বুজুর্গ ও সমাজ সংস্কারক কতুবুল আলম আল্লামা রশিদ আহমদ গঙ্গুহী রহ:।

বাংলাদেশের কুমিল্লার উজানীর হযরত ক্বারী ইব্রাহিম রহ ছিলেন হযরত রশিদ আহমদ গঙ্গুহী রহ এর খলিফা।তিনি তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশর শ্রেষ্ট ক্বারী ও যুগের সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি খেলাফত প্রদান করেন বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তাঁর ছাত্র মাওলানা সৈয়দ ইসহাক রহ: যিনি মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম এর পিতা। পিতার মৃত্যুর পর তিনি পীর সাহেব চরমোনাই নামে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেন। মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম একজন দেশপ্রেমিক ও আধ্যাতিক নেতা ছিলেন। বিংশ শতাব্দীতে তিনি ছিলেন অন্যতম সমাজ সংস্কারক। রাজনীতি, সমাজ সেবাসহ বিভিন্নভাবে তিনি ইসলাম, দেশ, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেন।

একঃ সমাজ সংস্কারক হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ

মানুষ যখন মহান আল্লাহ তায়ালাকে ভুলে গিয়ে পাপাচার, অনাচার আর অন্ধকারে নিমজ্জিত হত তখন আল্লাহ তাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্যে পূর্ব যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করতেন। কেউ নবী রাসূলদের কথা মত চলত, কেউ বা করত বিরোধিতা। যারা নবী – রাসূলদের কথা মেনে চলেছে তারা হয়েছেন সম্মানিত আর যারা বিরোধিতা করেছে তাদের হয়েছে ধ্বংস। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নবী রাসূলের আগমন চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। নবী- রাসূল আসার সম্ভবনা না থাকলেও নবী – রাসূলের কাজ গুলো করার দায়িত্ব মুহাম্মদ (সা) এর উম্মতের উপর অর্পিত। যারা ইসলামের উপর জ্ঞান রাখে তাদের আলেম বলে।আর নবী ( সা) হক্কানি আলেমদের তাঁর অনুসারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তেমনি একজন নবীর প্রকৃত অনুসারী ছিলেন মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রহ:।

যিনি ইসলামের সুমহান আদর্শকে পাপাচারে নিমজ্জিত সমাজের মানুষের কাছে সুন্দর ও সুনিপুণভাবে উপস্থান করেছেন। যার কথায় পাপিষ্ঠ তথা অন্ধকার জগতের মানুষ পেয়েছে আলোর সন্ধান। বাংলাদেশে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত তিনি ফেরি করেছেন ইসলামের সুমহান আদর্শ।যারা আল্লাহকে ভুলে ভ্রষ্টপথে চলছিল তাদের হাত পা ধরে ফিরিয়ে এনেছেন দ্বীনেে পথে। সমাজের সকল কুসংস্কার দূর করে সঠিক ইসলাম পৌছে দিয়েছে সমাজ থেকে সমাজে। পীর মুরিদের নামে ইসলাম পরিপন্থী সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার ছিলেন তিনি। কবর পূঁজা আর মাজার বানিয়ে অতিরঞ্জিত কর্মকান্ড সম্পর্কে সমাজের মানুষদের করেছেন সচেতন আর পৌছে দিয়েছেন ইসলামের সুমহান আদর্শ। যার বয়ান শুনে হাজারো ডাকাত, ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসি সোনার মানুষে পরিণত হয়েছে। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীকরণে পীর সাহেব চরমোনাই রহ: এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

দুইঃ রাজনীতিবিদ হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ

মানুষের বিশ্বাস যারা পীর সাহেব তারা শুধু পীরর মুরিদ আর তাদের দরবার নিয়ে ব্যস্ত থাকবে কিন্তু পীর সাহেব চরমোনাই রহ: ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী পীর। যেন খানাকায় পীর ময়দানে বীর। তিনি রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ১৯৭৬ সাল থেকে যখন হযরত মুহাম্মুদুল্লাহ হাফিজ্জি হুজুর রহ: যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছিলেন। তিনি হাফিজ্জি হুজুর রহ: এর ছাত্র ছিলেন। সেই সুবাধে তিনি নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছিলেস। সক্রিয় ছিলেন খেলাফত আন্দোলনেও।

পীর সাহেব চরমোনাই রহ: এর পিতা হযরত মাওলানা সৈয়দ ইসহাক রহ: ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। পীর সাহেব চরমোনাই রহ: হাফিজ্জি হুজুর রহ: এর প্রতিষ্টিত খেলাফত আন্দোলন শুরু থেকে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৮৭ সালে দেশের বিজ্ঞ আলেমদের পরামর্শক্রমে “ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন” নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠিত দলের আমির ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে ছাত্র সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কথা চিন্তা করে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নামে একটি ছাত্র সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন।

রাজনীতির পিচ্ছিল ময়দানে তিনি ছিলেন আপোষহীন ও নির্মোহ রাজনীতিবিদ।ক্ষমতার মোহে জোট মহাজোটের সকল লোভনীয় অফার প্রত্যাখান করেছেন।

তিন: পীর সাহেব চরমোনাই রহ এর রাজনৈতিক দর্শনঃ

পীর সাহেব চরমোনাই রহ রাজনীতিকে নিছক ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে না নিয়ে ইবাদত হিসেবে নিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, নামাজ যেমন ইবাদত হিসেবে আদায় করি ঠিক তেমনি রাজনীতিও ইবাদত হিসেবে করব। তাই তো ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির জোটে গেলেও তিনি বিএনপির জোটে না গিয়ে সরে দাঁড়ান। জোটের শর্ত না মেনে ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির চারদলীয় জোটে যোগদান এবং ক্ষমতার অংশীদার সব ছিল জোটের শর্ত বিরোধী।

পীর সাহেব চরমোনাই ও তাঁর দল ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ( ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাধ্যবাধকতায় নাম পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ করা হয়েছে)। ইসলামের স্বার্থ ছাড়া তিনি কোন জোটে যায়নি নিজ দলের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ বিএনপি যারাই ইসলামের স্বার্থে কাজ করবে তিনি তাদের গোলাম হিসেব থাকবে। তিনি সেই শর্তে আট দফা ঘোষণা করেছিলে। সেই আট দফা যারা মানবে তাদের সাথে তিনি জোট করবেন। কেউ না মানায় তিনি জোটে না গিয়ে একলা চলো নীতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সতন্ত্র ধারা সৃষ্টি করেছে।

আজও দলটি সত্যের পথে অটল ও অবিচল। বিএনপির জোটে যোগ না দেওয়াতে পীর সাহেব চরমোনাই রহ: কে আওয়ামী লীগের দালাল বলে অপবাদ দিয়েছিল অনেকেই কিন্তু তিনি সেই সব অপবাদ কে কানে নেননি, হননি বিচলিতও।

রাজনৈতিক ময়দানে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় নেতা। আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রসংশা করেছেন। তিনি যখন ভাষণ দিতেন তখন মনে হত তিনি পরকালের চিন্তাই করেনা। ভাষণের শব্দচয়ন আর বক্তব্যে অকাট্য যুক্তি মানুষের হৃদয়কে সহজে জয় করে নিত।

শ্লোগান দিয়েছিলেন শুধু নেতা নয় নীতির পরিবর্তন চাই।তিনি উপলব্ধি করেছিলেন বস্তুবাদী তথা পূঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা মানুষকে মুক্তি দিতে পারেনা।তিনি বলেছিলেন, ধর্মহীন রাজনীতি শোষণের হাতিয়ার। আমরণ তিনি ইসলাম, দেশ, মানবতা ও স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করে গেছেন। সদালাপী, মিষ্টভাষী, নির্মোহ মানসিকতা ও অহমিকাহীন ছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই রহ:।

আজ পীর সাহেব চরমোনাইর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজকের এই দিনে ২০০৬ সালে ২৫ নভেম্বর এই মহান সাধক, সমাজ সংস্কারক, রাজনৈতিক ও আধ্যাতিক রাহাবার লাখ ভক্ত ও অনুসারীদের এতিম করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।

লেখকঃ নুর আহমদ সিদ্দিকী — কলামিষ্ট ও সাহিত্যিক

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840