সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
পুলিশের ব্যাখ্যায় ভোলার প্রকৃত ঘটনা

পুলিশের ব্যাখ্যায় ভোলার প্রকৃত ঘটনা

ভোলা
ভোলা

রোববার রাতে ভোলার ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানা এলাকায় উপজেলা ঈদগাহ মাঠে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্যমতে নিজ ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার প্রেক্ষিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) নামে এক যুবক গত শুক্রবার বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন। ঐ সময়ই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যকে গ্রেফতার করা হয়।

জিডি করার সময় থানায় অবস্থানকালেই পুলিশের সামনেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যর নম্বরে একটি কল আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি সবার দৃষ্টি গোছর হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে সে ওসিকে অভিযোগ করে। ওসি বিষয়টি ভোলা জেলার পুলিশ সুপারকে জানাতেও দেরী করেননি। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতের মধ্যেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইলে কলকারী শরীফ এবং ইমন নামে দুই মুসলিম যুবককে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে ভোলা পুলিশ।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে ওই রাতেই বোরহানউদ্দিন থানায় আনা হয়। তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ফেসবুকে মেসেজের জেরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান উত্তেজিত হতে থাকেন। ফেসবুকে ধর্মীয় মন্তব্যের অভিযোগে মন্তব্যকারীর ফাঁসি দাবি করেন সারা দেশে প্রতিবাদের জ্বড় বইতে থাকে। অত্র এলাকার সচেতন আলেম সমাজ ঈদগাহ মাঠ ময়দানে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন। যেখানে সমাজের সর্বস্তরের ইসলামি মতাদর্শের লোকজন একত্র হবার কথা ছিল।

জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে ইউএনও, থানার ওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আলেম সমাজের প্রতিনিধিগণের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে শনিবার সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

আলেম সমাজের তীব্র প্রতিবাদি অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যকে আটক দেখানো হয়। সরকারের প্রতি আস্থা রেখে এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা পেয়ে প্রতিনিধিত্বকারী আলেম সমাজ তাদের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেন এবং আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা সত্ত্বেও পুলিশ উক্ত ইদগাহ মাঠ এলাকায় সার্বক্ষনিক সতর্ক থাকে। পরদিন সকাল থেকেই কিছু লোক ঈদগাহ মাঠ ময়দানে সমবেত হতে থাকে। ময়দানের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানোর জন্য ১৭টি মাইক-ও আনে কোন একটি মহল।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমবেত লোকজনকে মাইক সরিয়ে নিতে বললে উপস্থিত আলেমগণ নিশ্চিত করেন, ধর্মপ্রিয় লোকজন কোনোরকম বিশৃঙ্খলা করবে না। তারা শুধু প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা দিতে বরিশাল থেকে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি স্যার-ও ভোলায় আসেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ইউএনওকে নিয়ে ভোলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা ও সঠিক তথ্যনির্ভর বক্তব্য রাখেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে তাদের পুনরায় একাধিকবার আশ্বস্ত করা হলে সমবেত লোকজন ঈদগাহ্ মাঠ ত্যাগ করেন।

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ অন্য কর্মকর্তাগণ মাদ্রাসার দ্বিতলার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে অন্য একটি গ্রুপ ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকেন। তাদের উস্কানি মূলক বক্তব্যর জেরে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন। একদল লোক বিনা উস্কানিতে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ করে, মাঠ থেকে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারতে থাকে।

আক্রমণকারীদের থামাতে একদল আলেম সমাজ খুব চেষ্টা করেন। তারা তাদের কাছ থেকে লাঠি কেড়ে নেয়ার চেষ্টাও করেন। উত্তেজিত কিছু লোকজন আক্রমনের ধার ক্রমশ বাড়াতে থাকে। একপর্যায়ে তার গুলি ছুঁড়ে।

হামলাকারীদের গুলিতে পুলিশের একজন সদস্য মারাত্মকভাবে জখম হন। মারাত্মক আহত হন পুলিশের আরেক সদস্য। বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিও নিজেও আহত হন। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পুলিশ ও সরকারি সদস্যদের অবস্থানরত রুমে তারা হামলা চালায়। দরজা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে।

ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আর কোনো উপায় না পেয়ে তারা নির্দেশ দেয় আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি জানমাল রক্ষার্থে ও উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করতে প্রথমে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা শুরু হয়।অবস্থা আর-ও বেগতিক হলে শটগান চালায় পুলিশ। পরিস্থিতির ভয়াবহ হয়ে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ সময় এখানে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে নিরব ছিল, চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে।

অস্রধারী আক্রমণকারীদের গুলিতে মারাত্মক আহত পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আলেমদের সহযোগিতায় সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডাক্তার ও পুলিশ সূত্রে দাবী করা হয়েছে নিহত চারজনের মধ্যে অন্তত দুই জনের মাথা ভোতা অস্ত্র দ্বারা থ্যাঁতলানো হয়েছে।

সুষ্ঠু তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে বরিশাল রেঞ্জ এর ডিআইজিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ হতে একজন করে মোট চারজন কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। যদিও তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল হবে বলে মিডিয়ায় গুঞ্জন উঠেছে।

পুলিশ সদর দফতর সংবাদ ব্রিফিংএ জানায়, পুলিশ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুরু থেকে তৎপর থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেসী মহল ধর্মকে পুঁজি করে একটি সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। যদিও আলেম সমাজ এরূপ ঘটনা যাতে না ঘটে সেই ব্যাপারে সক্রিয় ছিল। তারা বাঁধা দিয়েছিল। ভোলার ঘটনাস্থলসহ সারা দেশে পুলিশ অনেকবেশি সতর্ক রয়েছে।

গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চেষ্টা করছে কোন একটি মহল। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840