সংবাদ শিরোনাম:
টাঙ্গাইলে একইসাথে দুই করোনা যোদ্ধার জন্মদিন উদযাপন এমপি মমতা হেনা লাভলীর টাঙ্গাইলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, টাঙ্গাইল জেলা শাখার নতুন কমিটি এমপি হিরোর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টার অভিযোগ টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ কর্তৃক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন মানিক শিকদারের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে জাতীয় শোক দিবস পালন টাঙ্গাইলের পৌর মেয়র জামিলুর রহমানে মিরনের ব্যবস্থাপনায় টাঙ্গাইলে শোক দিবস পালন প্রবাসে থেকেও থেমে নেই টাঙ্গাইলের মুজাহিদুল ইসলাম শিপন মেয়র লোকমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এমপি সাহেবের প্রোগ্রামে সক্রিয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নিজেই প্রধান অতিথী, সভাপতিত্ব করবেন কে?
পেঁয়াজের দামের লাগাম রূখবে কে?

পেঁয়াজের দামের লাগাম রূখবে কে?

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

বাংলাদেশ পাঠাইলো ভারতে ইলিশ আর ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল। ভারত কি বাংলাদেশের শত্রু? কেন করলো তারা এমন? প্রশ্ন অনেকের মাঝেই। আসলে ঘটনার পেছনে ঘটনা কি?

২০-২৮ রুপীর পেয়াজ এই মুহুর্তে ভারতেই বিক্রী হচ্ছে ৮০রুপীতে। ভারতে পেঁয়াজের এতোই আকাল যে তারা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ভেতর হয়ে পেঁয়াজ আনাচ্ছে।

পাকিস্তান যাদের জাত শত্রু তাদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে ভারতের তাদের প্রয়োজনীয় পেঁয়াজের যোগান দিতে। গত মন্দায় ভারতে পেঁয়াজের আবাদ এতোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে তিন গুণ।

মিশর থেকেও পেঁয়াজ আনাচ্ছে ভারত। সম্ভাব্য পেয়াজ আমদানির সব দেশগুলোর সাথেই ভারত পেঁয়াজ আমদানির প্রস্তাবনা দিয়েছে।

অপরদিকে ভারতের পেয়াজ রপ্তানীর দেশ ছিল মূলত তিনটি। বাংলাদেশ, দুবাই ও শ্রীলংকা। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই না, তিনটি দেশেই ভারত রপ্তানি বন্ধ করা দিয়েছে।

পৃথিবীর কোন দেশেই এমন নজীর নেই নিজেরা না খেয়ে, নিজেদের ঘাটতি পূরণ না করে অন্যদেশে তাদের ঐ দ্রব্য বা সেবা রপ্তানি করে। রপ্তানি করা হয় চাহিদার অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত উৎপাদন।

ভারত থেকে পেয়াজ না আসাতে বাংলাদেশের নাভিশ্বাস উঠে যেন উঠে গেছে। পেঁয়াজে দাম একশত বিশ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।

অবশ্য বানিজ্য মন্ত্রী বলেছিল “ভারতের কারনে আমাদের পেয়াজের বাজারে কোন প্রভাব পরবে না। মায়ানমার থেকে ইতিমধ্যে দুইটি পেঁয়াজ ভর্তি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়াও অন্যান্য দেশ থেকে পেয়াজ আমদানির ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।”

কিন্তু বাজারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আদৌতেও এমন কিছু পরিলক্ষিত হচ্ছে না। গত পনের দিনের ব্যবধানে পেয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় পৌছেছে।


পেঁয়াজ তো বাংলাদেশের মাটিতেই উৎপাদন সম্ভব এবং বিপুল পরিমাণেই হত। কিন্তু দিন দিন কৃষককে অসহযোগিতা করার দরুন কৃষক ন্যায্যা মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে পেঁয়াজের আবাদ বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।

আলু আবাদ কারীরা এখন আর আলু আবাদ করে না। ধান আবাদ অনেক এলাকাতেই এখন বন্ধের দিকে। পেঁয়াজের বাজারের মত এমন দুর্গতি বাংলাদেশের জন্য অশনিসঙ্কেত।

বাংলাদেশের কৃষক পেঁয়াজ আবাদ করলে দাম পায় কেজিতে ৫-৭ টাকা আর সেখানে অন্যদেশ থেকে কিনতে হয় সত্তর থেকে আশি টাকায়। দেশের মানুষ আছে ইলিশ গেলো পেঁয়াজ পেলো না এই চিন্তায়। সরকার ভাবমূর্তি রক্ষায় বলতেছে আমদানি করা হচ্ছে কিন্তু কৃষি ধ্বংস করে দেশটাই ধ্বংস হচ্ছে।

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দেশ থেকে জাহাজ ভর্তি পেঁয়াজ এলেও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সরকার ট্রাকের মাধ্যমে বিবিন্ন পয়েন্ট থেকে ৪৫ টাকা ধরে পেয়াজ বিক্রি শুরু করেন।

তাতেও জনগনের স্বাভাবিক চাহিদা মেটানো সম্ভব না হওয়ায় সরকার আর-ও সমালোচিত হয়ে পড়েন।

দুদিন যাবত সরকারের বিশ্বস্ত ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে বিভিন্ন বাজারে বা আড়তে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাজার হাজার টন পেয়াজ ব্যবসায়ীরা মজুদ করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে সুবিধা আদায় করছেন।

বিশ জন তুখোড় ম্যাজিষ্ট্রেটের পরিচালনায় এই বিষয়টা সরকার প্রতিহত করতে চাইছেন। দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে তাতে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব এমনকি দাম-ও থাকার কথা ক্রেতার নাগালে।


নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত থেকে বেশ বড় পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানী করে থাকে বাংলাদেশ। যদিও দেশীয় উৎপাদন প্রতি বছর কমে যাচ্ছিল। ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৩০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করেছিল তারপর তাদের ঘাটতি সামাল দিতে না পেরে রবিবার দেশটি পেয়াজ রপ্তানি করবে না বলে জানিয়ে দেয়। পেঁয়াজের দাম ভারতে বেড়ে এখন ৮৫ রূপীতে পৌঁছেছে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বরাত দিয়ে একজন বলেন, ১৩ তারিখের পর থেকেই তারা বানিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকাতে তারা ৩৫টি ট্রাকে নির্দিষ্ট দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুতই পেঁয়াজের দরপতন হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840