সংবাদ শিরোনাম:
পেঁয়াজের দামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

পেঁয়াজের দামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

দেশে এখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সরকারের উদ্যোগ, বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। প্রতিদিনই দামের ক্ষেত্রে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে পেঁয়াজ। শুধু দেশেই নয়, এই মুহূর্তে বিশ্বে পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। সারাদেশেও একই অবস্থা। যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের মানুষ ক্ষুব্ধ, হতাশ। পেঁয়াজের দামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

একজন গৃহিনী বলেন দুই সপ্তাহ আগে হাফ কেজি পেঁয়াজ ৯০ টাকা দিয়ে কেনা গেলেও এখন আর সেই সুযোগ নেই। এক সপ্তাহ আগে সেই পেঁয়াজ শেষ হয়েছে। সেই থেকেই পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করছি।

আজ সকালের খবর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ মানভেদে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারীবাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ খুবই কম। চাহিদামতো পণ্য পান না। এছাড়া পেঁয়াজের মানও ভালো না। তারা যেমন দামে কিনেন, তেমন দামেই বেঁচেন।

এই মুহূর্তে বিশ্বের মধ্যে পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস ট্রিজর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের গড় পাইকারি মূল্য ৬৮ সেন্ট যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ টাকা। অথচ বাংলাদেশে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা। এছাড়া পাশের দেশ ভারতে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬২ সেন্ট, চীনে ২৮ সেন্ট, পাকিস্তানে ৩৯ সেন্ট, ও মিশরে ১৭ সেন্ট কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

আজ কারওয়ান বাজারে পাইকারীতে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে। সে হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দাঁড়াচ্ছে ২৪০ টাকা। খুচরাবাজারে এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও আরও বেশি।

সরকারের অভিযোগ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের সংকটকে পুঁজি করে ইচ্ছামতো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সংকটকে পুঁজি করার কিছু নেই। দেশে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের সরবরাহ না থাকায় দাম বাড়ছে। সরবরাহ বাড়লেই দাম কমবে।

একজন পেয়াজ ব্যবসায়ী বলেন “বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসছে খুবই কম। মিয়ানমারেও এখন পেঁয়াজ নেই। সেখান থেকে যে পেঁয়াজ আসছে তা বেশিরভাগই পচা। আবার দামও বেশি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু রাজধানীতেই প্রতিদিন পেঁয়াজের চাহিদা ৬ হাজার টনের বেশি। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ দিয়ে কীভাবে চাহিদা মিটবে? এজন্যই দাম বাড়ছে। তবে চাষীদের পেঁয়াজ উঠে আসলে দাম নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলেও দাম এতটা বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। কারণ, বর্তমানে চাহিদার যে বেশি পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একশ্রেণীর ব্যবসায়ী কারসাজি করে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। কারণ, মিশর, মিয়ানমার, তুরস্ক ও চীন থেকে যে দামে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে তাতে দেশের বাজারে কোনোভাবেই পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি আমদানিতেও সুখবর পাচ্ছেন না দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা অনেক ব্যবসায়ী এখন অলস বসে আছি। প্রতিদিনই ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানিতে কোনো সুখবর পাচ্ছে না।

টাঙ্গাইলের একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার সদর বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা।

পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চুরি করে ত্রিপল সেঞ্চুরির দিকে। বিশ্বের সকল দেশের চেয়ে বাংলাদেশের পেঁয়াজের দাম সবচেয়ে বেশি। ফেসবুকে চলছে পেঁয়াজ নিয়ে সবসময় ট্রল। বিভিন্ন কার্টুন আর নিন্দামূলক মন্তব্য সারাদেশের মানুষের মুখে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840