সংবাদ শিরোনাম:
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়কের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর সাবেক সহ সভাপতি মশিউর রহমান শরিফ নরসিংদী মডেল থানার নতুন ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী টাঙ্গাইল পৌর ভবন এখন করোনার হট স্পট সাহেদের ৫০ দিনের রিমান্ড আবেদন শাহিন স্কুলের কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে পালালেন দলীয় নেতা কর্মীরা মিথ্যার জাহাজ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন কেন্দ্রীয় তাঁতী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ক্লিন টাঙ্গাইলের উদ্যোগে চতুর্থবারের মত প্রতিবন্ধীদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাঁতী লীগের মন্তাজউদ্দীন ভূঁইয়ার কর্মসূচি ব্যারিষ্টার ছেলের পিতা টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল
প্রধান মন্ত্রীর ভারত সফর: কি পেল বাংলাদেশ!

প্রধান মন্ত্রীর ভারত সফর: কি পেল বাংলাদেশ!

শেখ হাসিনার ভারত সফর: কি পেল বাংলাদেশ?
শেখ হাসিনার ভারত সফর: কি পেল বাংলাদেশ?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সফরকালীন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত বৈঠকে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন ও ছয়টি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি প্রকল্প’র উদ্ধোধন ঘোষনা করা হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানি প্রকল্প।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানির সিদ্ধান্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। এর ফলে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণ সহজ হবে বলে আশা করছি। সবসময় আমরা একে অপরের পাশে অতীতেও ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট কাজেই আমরা আমাদের সাধ্যমত সব ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করবো এবং তাদের থেকেও সাহায্য সহযোগিতার আশা করি।

২য় মেঘা প্রজেক্ট হলো বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইপিএসডি)। এই সম্পর্কে জানা যায় দুই দেশের সমন্বয়ে এমন একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় দেশের কর্মজীবীদের পেশাগত উন্নয়ন সম্ভব হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত ও বাংলাদেশের শ্রম বাজার অত্যন্ত সহজলভ্য। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উন্নত দেশ সমূহ নিয়মিতেই ফায়দা লুটছে। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের বলে দক্ষ কর্মী বাহিনী তৈরি হবে যা দ্বারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকায় বিবেকানন্দ ভবন হচ্ছে তৃতীয় প্রজেক্ট। ভারত তাদের ধর্মীয়ি প্রভাব বিস্তারের জন্য এমন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন সকলের ধারণা।

উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের ব্যবহার, ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতের বার্ষিক ব্যবহার, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট ব্যবহার, ভারতের হায়দারাবাদ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা, সাংস্কৃতিক বিনিময় চুক্তির নবায়ন ও উভয় দেশের যুবসমাজের মাঝে সহযোগিতার বিষয় এই ছয়টি বিষয়ে সমাঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত সরকারের আর্থিক অনুদানে বাংলাদেশে নির্মিত রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ ভবন ছাত্রাবাসের শুভ উদ্বোধনে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। এখান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য বিদ্যার্থী বিদ্যা অর্জণ করছে। যুব সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সে এ স্থাপিত বিভিন্ন উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ওই অঞ্চলের ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে নানা ধরনের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।

এসমস্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেকারত্ম নিরসনেও একধাপ এগিয়ে যাবে। সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালের তিস্তা পানি বন্টন চুক্তির বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির পেছনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন।

বাংলাদেশের ৩য় বারের মতো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদে নির্বাচিত হবার পর এটাই প্রথম ভারত সফর। এই সফরে বাংলাদেশ কি পেল? ভারত কি পেল ? বাংলাদেশ কি দিল কিংবা ভারত কি দিল? সেই বিষয়ে চলছে মতবিনিময় আর কঠিন হিসেব নিকেষ।

দেখা যায় বাংলাদেশকে ভারত তিস্তার পানি না দিলেও নতুন যে বিষয়টা হল, তিস্তা ছাড়াও আরও ছয়টি অভিন্ন নদীর যেমন: মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার এর পানি কীভাবে ভাগাভাগি করা যায়, সেই বিষয়ে অনতিবিলম্বে তার একটি খসড়া কাঠামো প্রস্তুত করতে উভয় দেশের নেতা যৌথ নদী কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে তেমন কোন আলোচনা-ও দুই দিনের আলোচনায় চোখে পরে নি। রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার না করে বলা হয়েছে রাখাইনে বাস্তুচ্যুত লোকজন।

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী বিগত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের পাঠানো ত্রান সামগ্রি ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানান। রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে সেখানে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারতের সহযোগিতা চান।

এনআরসি বিষয়ে কোন প্রকার আলোচনা হয়নি। বলা হয়েছে এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে আন্তর্জাতিক আলোচনার কিছু নেই। বাংলাদেশের এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840