সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
প্রধান শিক্ষিকা কর্তৃক অর্থ আত্মস্বাত অত:পর বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ভূয়া সংবাদ প্রকাশ

প্রধান শিক্ষিকা কর্তৃক অর্থ আত্মস্বাত অত:পর বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে ভূয়া সংবাদ প্রকাশ

প্রধান শিক্ষিকা কর্তৃক অর্থ আত্মস্বাত
প্রধান শিক্ষিকা কর্তৃক অর্থ আত্মস্বাত

টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেছেন সুনীতি চিলড্রেনস হোমস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাচ্চাদের আনন্দের সাথে পাঠদানের জন্য কিডস জোন-ও করেছে।শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণদানের মাধ্যমে সবাইকে মাতৃসুলভ আচরণে উদ্ধুদ্ধ করেছেণ। তিনি গত বছরের মাঝামাঝিতে মারা যান।

সুনীতি চিলড্রেনস হোমস টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাবালিয়াতে স্থাপিত হয়। হাসপাতাল রোডে চলমান প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম বছর প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ব্যতিক্রম ঘরানার এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে পেরে অভিভাবকদের মনে একধরণের তৃপ্ততা দেখা যায়। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সুনীতি চিলড্রেনস হোমস এর সার্ভিসে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবাই সন্তুষ্ট ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বজলুর রশীদ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে সাবালিয়াতে বসবাস কারী মোছা: রোকছানা আক্তার (৩৫), স্বামী: মো: আনোয়ার হোসেন কে নিয়োগ প্রধান করেন। রোকছানা আক্তারের বিয়ে হয় ঢাকাতে কিন্তু উনি সহ উনার তিন বোন বাবার বাড়ি সাবালিয়াতেই অবস্থান করেন। কেউ স্বামির পরিবারের সাথে মিলে মিশে সেখানে সংসার করতে পারেন নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বজলুর রশীদ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব রোকছানা আক্তারের নিকট হস্তান্তর করেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্ব ছাড়াও বেতন উঠানো ও স্টুডেন্ট ভর্তির যাবতীয় দায়িত্ব তিনিই পালন করেন। প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন রোকছানা আক্তার নিজ দায়িত্বেই করতেন।

সুনীতি চিলড্রেনস হোমস পরিচালনার জন্য টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়। সরকার নির্ধারিত বইগুলো পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ড্রয়িং, স্পোকেন ও সহ:শিক্ষা মূলক বিষয়গুলোতে আগ্রহ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

ডা. বজলুর রশীদ বারবার প্রতিষ্ঠানের হিসেব চাওয়াতে রোকছানা আক্তার গড়িমসি শুরু করেন। এভাবে বেশ কিছু দিন কেটে যায়। হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে ডা. বজলুর রশীদ মারা যান। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এসে পরে তার স্ত্রী জাহানার রশীদ ও ছেলে জাহিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাঁধে।

শোকস্তব্ধ পরিবারটি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের হিসেব বোঝে নিতে চাইলে রোকছানা আক্তারের অসহজাত আচরণে ক্রমান্বয়েই প্রধান শিক্ষিকা এবং প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের সদস্যদের সাথে দূরত্ব সৃ্ষ্টি হতে থাকে। কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিতে অপারগ ছিলেন রোকছানা আক্তার।

বেশি চাপ দেওয়াতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করেই রোকছানা আক্তার প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দেন। তার বাবা ফরেস্টার হাফিজুর রহমানের নাম বললে এলাকার সকলেই চিনেন। জাহানারা রশীদ তার বাড়ি খোঁজ করেন এবং সেখানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করার কারন জানতে চাইলে কথার মাঝে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়।

ইতিমধ্যে সুনীতি চিলড্রেনস হোমসের শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে সমঝোতা করে রোকছানা আক্তার অন্য প্রতিষ্ঠানে নিজে নিয়োগ নেয়ার পাশাপাশি বাচ্চাদের ভর্তিও করেছেন।

জাহানারা রশীদ প্রতিষ্ঠানের হিসাব বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করলে তিনি বলেন পরের দিন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দিয়ে আসবেন। যার ফলশ্রুতিতে পরেরদিন তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জাহানারা রশীদকে পিটিয়ে আহত করেন এবং প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় খাতাপত্র জোর করে নিয়ে চলে যান। তার সাথে সহযোগিতা করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো: রনি মিয়া (২২), পিতা: বেলাল মিয়া।

এমন একটি ঘটনায় হতভম্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদের পরিবার। তারা কোন উপায়ান্তর না পেয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রতিষ্ঠানের মুড়ি বই থেকে তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করে দেখা যায় গত ১ বছরের প্রায় দুই লাখ টাকা আত্মস্বাত করেছেন রোকছানা আক্তার।

অভিযোগ দায়ের করার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে রোকছানা আক্তার বিএনপি-জামায়াতপন্থি তার নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি বলেন জাতিসংঘের ইউএনডিপির একটি প্রজেক্ট এর স্কুল এবং সেখানে তার বেতন হওয়ার কথা ছিল ৩০ হাজার টাকা কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে কোন কাগজপত্রে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি রোকছানা আক্তার এরকম কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি, যা থেকে সামান্যতম-ও প্রতীয়মান হয় কর্তৃপক্ষ এমন ভুল তথ্য দিয়েছেন। প্রকাশিত সংবাদপত্রে টাঙ্গাইল জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলুর রশীদকে যথেষ্ট হেয় প্রতিপন্ন ও অসম্মান করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বহুল পরিচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রশীদকে জনৈক বলে সম্বোধন করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. বজলুর রশীদ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোলার ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তার সততায়, একাগ্রতায় মুগ্ধ খন্দকার আসাদুজ্জামান। এমন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি করে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার একমাত্র ছেলে।

তিনি বলেন “সরকারের খবর নিয়ে দেখা উচিত এমন একটি পত্রিকার সম্পাদকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তাদের পারিবারিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। তারা জামায়াতপন্থী বলেই একজন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে এমন মিথ্যা ও জাল সংবাদ প্রকাশের ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। অবাক হয়েছি আমার মায়ের নিকট ফোন করে সাংবাদিক পরিচয়ে তারা চাঁদাও দাবী করেছেন।”

জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন “আমরা এরকম কোন প্রজেক্টের অধীনে আমাদের স্কুল করিনি। আমরা কিন্ডার গার্টেন হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। যদি রোকছানা ম্যাডাম কারো নিকট এরকম কোন প্রজেক্ট এর কথা বলে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার তার।”

শিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন “টাঙ্গাইল শহরে আর-ও অনেক কিন্ডারগার্টেন পরিচালিত হচ্ছে। আমিও তাদের বাইরে নই। তাদের বেতন কাঠামোর থেকে আমার ভিন্ন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সকলের সীমিত সামর্থ্য থেকে শিক্ষকদের সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়। এটা সাধারণত কখনোই ২-৩ হাজার টাকার বেশি হয়না।”

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840