সংবাদ শিরোনাম:
দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকার সেরা অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন ‘ভোট জালিয়াতি’ তদন্তের নির্দেশ চট্টগ্রামে গলায় ছুরি ধরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, ধর্ষকদের বাঁচাতে কাউন্সিলরপ্রার্থী বেলালের দৌড়ঝাঁপ নারী নির্যাতন মামলায় বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাহিত সভাপতি মাহবুব হোসেন কারাগারে দুই নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা কনস্টেবলকে মারধর, শ্রমিকলীগ নেতার স্ত্রী কারাগারে অবক্ষয় থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে চলচ্চিত্রের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে- তথ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2020 কর কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২০ ৯ দিনে করোনা জয়ী তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
ফেইসবুক কন্যা (গল্প)

ফেইসবুক কন্যা (গল্প)

ফেইসবুক কন্যা গল্প নুর আহমদ সিদ্দিকী
ফেইসবুক কন্যা গল্প নুর আহমদ সিদ্দিকী

নুর আহমদ সিদ্দিকী
একঃ কখন যে রাত পেরিয়ে ফজর হয় তা ঠের পায়না সাদিয়া রহমান পুষ্পা।নেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা। এক সময়ের তুখোড় মেধাবী, নম্র ও লাজুক প্রকৃতির মেয়েটি আজ খিটখিটে মেজাজে সবার সাথে বাক্য বিনিময় করে।
বই পত্র, খাতা কলম যার নিত্যদিনের সারথী সে মেয়েটি আজ স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকে। জে এস সি,এস এস সি ও এইচ এস সিতে যে মেয়েটি গোল্ডেন এ + পেয়ে প্রতিষ্টান ও সমাজে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে নাম কুড়াতে সক্ষম হয়েছে সে মেয়েটিই অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
পরিবারের একমাত্র ও বড় মেয়ের এমন অবস্থা পর্যাবেক্ষণ করে বাবা অধ্যক্ষ রেজাউল করিম আবরার খুব চিন্তিত। ইদানিং ঘুমের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস মিস করছে সে।দুপুর বা কখনো কখনো বিকালেও ঘুম থেকে উঠছেনা । ওই সময় পর্যন্ত তার ফোনও বন্ধ থাকছে। বাসার লোকজন তাকে ঘুম থেকে তুলতেও পারেনা। দরজায় নক করলেও ভিতর থেকে সে চিৎকার করে বলতে থাকে, এখন যেন তাকে কেউ ডিস্টার্ব না করে। অধ্যক্ষ রেজাউল করিম আবরার তার মেয়ের এই বদলে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম জানতে পারে তার স্ত্রীর কাছে।
সে সময়ে তিনি বিষয়টা আমলে নেননি। কিন্তু একটা সময় এসে তিনি নিজেই বুঝতে পারেন বিষয়টি। যখন তার মেয়েকে বেশ কিছুদিন দুপুরে বা বিকালের আগে ফোন করেও পাচ্ছিলেন না। পরে বিকালে ফোন করে জানায় সে ঘুমাচ্ছিল।তাই ফোন বন্ধ রেখেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়েও সে যায়নি।তার ঘুম ভাঙ্গেনি বলে।
দুইঃ একদিন হঠাৎ তার কিছু বন্ধু বাসায় আসে।তখন সকাল এগরোটা। সে সময়েও পুষ্পা ঘুম থেকে জেগে উঠেনি। বন্ধুরা আসছে জেনেও উঠতে চাইছেনা।অজুফা তার কাছের বন্ধু। সে পুষ্পার মাকে জানায় তার পাল্টে যাওয়ার নেপথ্য কথা।
এরপর তার মা ও বাবা জানতে পারে সারা রাত সামাজিক যোগাযোগ করে সারা দিন ঘুমায়। এই রুটিন চলছে মাস ছয় এক ধরে।নিয়মিত ক্লাসেও যাচ্ছেনা।এমন কি ক্লাস পরীক্ষাও বাদ পড়ছে। লেখাপড়ায় পিছিয়ে যাচ্ছে। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছেনা। মেজাজ খিটখিটে হয়েছে। সে তার বন্ধুদের সঙ্গেও নাকি খারাপ মেজাজ দেখায়।
অধ্যক্ষ রেজাউল করিম এ নিয়ে মেয়ে সাথে কথা বলে।মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকা মেয়েটি তার বাবাকে বলছে, আমি বুঝতে পারছি বিষয়টি নেশার মতো হয়ে গেছে।আমি ছাড়তে পারছিনা।আমার এখন পড়ার কথা ছিল চতুর্থ বর্ষে।
তিনঃ মেয়ের ফেইসবুক নেশার কথা ভাবতেই বাবার দু’চোখ ভিজে আসে। মনের অজান্তেই দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জলরাশি। এই যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া গাড়ির ন্যায় নিয়ন্ত্রণহীন অশ্রু বিসর্জন। যে মেয়েটি নিয়ে হাজারো স্বপ্ন বুনেছেন তিনি তার এমন অস্বাভাবিক আচরণে হৃদয় তার ক্ষত বিক্ষত।
আদরের দুলালির এমন আচরণে সিন্ধান্তহীনতায় কালক্ষেপন করছে বাবা। বাবা রেজাউল করিম আবরার তার মেয়ের এ অবস্থার কথা বলেন একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে। চিকিৎসক বলেছেন,তার মেয়ে ফেইসবুক রোগে আক্রান্ত।যা নেশার চেয়েও ভয়ঙ্কর।
যুক্তরাষ্ট্রেরর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক জামার্নির একটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন শিক্ষার্থীর ফেইসবুক ব্যবহারের ওপর গবেষণা করেছেন। তারা সবাই ফেইসবুকে প্রচুর সময় কাটান।
গবেষকদের সিন্ধান্ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিমাত্রায় বিচরণ মাদকাসক্তির মতোই খারাপ। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিমাত্রায় আসক্ত তারা ঝুঁকিপূর্ণ সিন্ধান্ত নেয় বেশি। এসব প্রবণতা শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশি যা পুষ্পাকেও ছাড়েনি।
চারঃ ফজর নামাজ শেষে কোরাআন তেলাওয়াতে মগ্ন জনাব রেজাউল করিম আবরার।মেয়ের জন্য দোয়া করে কায়মানো বাক্যে। এক মেয়ে দুই ছেলে নিয়ে সুখেই কাটছিল দিনকাল। কিন্তু বর্তমানে মেয়ের এমন আচরণ তাকে ব্যথিত করেছে। এক সময় নামাজ রোজা করলেও এখন সেসবের দ্বারে কাছেও নেই পুষ্পা।
সুখের সংসারে এমন অশান্তি আজ তাকে নির্জনে কাঁদায়। একমাত্র মেয়ে বলে আদর করেছে বটে শাসন করেনি। অন্তহীন ভাবনায় হারিয়ে যায় অচিনপুরের কোন এক অজানা রাজ্যে। মেয়ের নাওয়া খাওয়া আর পড়ার নিয়মনীতি কোনটাই ঠিক নেই। এসব চিন্তা নিয়ে কলেজে যায় অধ্যক্ষ রেজাউল করিম আবরার কিন্তু ক্রমেই অস্থিরতা বাড়ছে তার।
বিকাল ২ টায় বাড়ি থেকে ফোন আসে। রিসিভ করতেই কান্নাজড়িত সুরে স্ত্রী বলছে, ওগো তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসো। পুষ্পা অনেকগুলো ঘুমের ঔষুধ একত্রে সেবন করেছে। বাবা দ্রুত এ্যামবুলেন্স নিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা চলছে কিন্তু চোখ খুলছেনা পুষ্পা।
ডাক্তার বলছে আগামিকাল সকাল এগারোটার দিকে পুষ্পা জেগে উঠতে পারে।মেয়ের কেবিনেই থেকে যায় তারা। রাত তখন ২ টা। হঠাৎ জনাব রেজাউল আবরার চিৎকার দেয়। ঘুম ভেঙ্গে যায় স্ত্রীর।স্ত্রীকে ধরে অবুঝ বালকের ন্যায় হাউমাউ করে কাঁদেন তিনি। অনেকক্ষণ পর বলে, স্বপ্নে দেখলাম পুষ্পা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। মেয়েকে স্পর্শ করলে বুঝতে পারে রক্তপ্রবাহ নিয়ম অনুযায়ী চলছে।
আর ঘুমাতে পারেনি বাবা মা। সকাল নয়টায় ডাক্তার এসে দেখে যায় তাকে। বলল আর এক ঘন্টার মধ্যে জেগে না উঠলে বাঁচানো সম্ভব হবেনা। ডাক্তারের কথা শুনে বাবা মা ও আত্মীয়স্বজন সবাই কাঁদছে। তখন দশটা বিশ মিনিট বাজে।
ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে দেখে পুষ্পা আর দুনিয়াতে নেই। অতিরিক্ত ঘুমের ঔষুধ সেবনে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ডাক্তারের কথা শুনে মা বাবা বেহুশ হয়ে পড়ে।
ফেইসবুকে অতিমাত্রায় আসক্ত সেই ফেইসবুক কন্যা সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
রচনকালঃ ১৭/০৭/১৯, রাত: ১০টা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840