ফেসবুকে উত্যক্ত: ফেসবুকেই প্রতিবাদ

ফেসবুকে উত্যক্ত: ফেসবুকেই প্রতিবাদ

ইভটিজিং
ইভটিজিং

জেগে উঠুক বাংলার সকল নারী

কোথায় নারীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে না! নির্যাতিত হচ্ছে না! এতো এতো দিবস। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আইন তারপরো তারা কিছু বিকারগ্রস্থ্য মানুষের দ্বারা প্রতিনিয়ত নানাভাবে উত্যক্ত হচ্ছেন।

ফেসবুকে ইনবক্সে কিংবা ম্যাসেঞ্জারে শুধু মেসেজ নয়, বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভিডিও , ছবি পাঠানো যেন এদের নিয়মিত কাজকর্ম হয়ে গেছে। নারীরাও অভিনব উপায়ে প্রতিবাদে ফেটে পরছে। ফেসবুক স্ক্রিনশট এর মাধ্যমে শেয়ার, পোষ্ট করে প্রতিবাদ করছে সেক্সুয়াল হ্যারাজম্যান্ট এর শিকার হওয়া এসমস্ত সচেতন নারীরা।

সুফিয়া খাতুন নামের একজন নারী আজ দুপুর বারোটার দিকে রাগান্বিত হয়ে পোষ্ট করেন “মানুষ কতটা নীচ, কতটা জগন্য হলে কারো আইডিতে ঢুকে বারবার বিরক্ত করতে পারে, খারাপ কোন ছবি পোস্ট করতে পারে, তা আমার জানা নেই। অথচ “সুপেন বিশ্বাস ” নামে এই জগন্য লোকটা নাকি আবার সাহিত্যের সাথে জড়িত। আরে এই বেজন্মার বাচ্চা তো সাহিত্যের কলঙ্ক। সত্যি কলঙ্কিত মুখ কি এমন হয় নাকি? বল পশুর বাচ্চা পশু, কার প্ররোচনায় তুই আমার আইডিতে ঢুকেছিলি? কারো আইডিতে ঢুকে মেসেঞ্জারে কিছু ছবি আর বাজে কথা বললেই তুই মহান কিছু হয়ে যাবি এটা ভাবলি কি করে ? তুই তো জগন্যতম শুকরের চেয়েও খারাপ হলি। এই কি ছিল তোর পরিবারের শিক্ষা ? কত টাকা নিয়ে কার গোলামী করলি শালা কুত্তার বাচ্চা?”

আমাদের অফিসেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান করেন।

সুফিয়া আক্তার জানান গতোকাল রাত বারোটার দিকে সুপেন বিশ্বাস নামের এই ব্যক্তিটি উনাকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বারবার কল, বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও পাঠান। তার আগে কোনদিন কথা হয়নি। তিনি তাকে চিনেন না। এসব করার কি কারন হতে পারে?

দৈনিক৭১ সুপেন বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করলেও তিনি কোন কথা বলেন নি।

সুফিয়া আক্তার বলেন “যারা মানুষকে ফেসবুকে উত্যক্ত করে , এরা বাস্তবেও কাউকে উত্যক্ত করতে পারে। এই ধরনের ব্যক্তির শাস্তি হওয়া দরকার।”

তিনি আরও বলেন “আশা করি সমাজের এমন চিত্র গুলো তুলে ধরে আমাদের মা, বোনদের নোংরা মনোবৃত্তি ব্যক্তির হাত থেকে তাদের কিছুটা সম্মান বাঁচাতে সহায়তা করবেন।”

সুপেন বিশ্বাসের আইডিতে ঢুকে দেখা যায় তিনি তার ঠিকানা উল্লেখ করেছেন যশোর। চৌগাছা মরতুজ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তার আইডিতে ঢুকে দেখা যায় অনেক সুন্দর সুন্দর কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে তার আইডি সাজানো।

এছাড়াও জুলিয়া ইসলাম জবা নামের একজন লিখেছেন “দেখুন, আমি কতবড় অভদ্র। এই ভদ্রলোক বাংলাদেশ কবি সংসদের আহ্বায়ক। মেয়েরা মেসেঞ্জারে থাকলেই কল দেবে, অনুমতির নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না তার “
তওহীদুল ইসলাম কনক নামের ওই ব্যক্তির ফেসবুকে ঢুকে দেখা যায় তিনি বিশাল বড় মাপের কবি ও সংগঠক। বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক পরিমন্ডলে তার বিস্তৃতি।

আর-ও অনেকেই উনার সম্পর্কে অভিযোগ করেন। উনিও একই কায়দায় নারীদের ফেসবুকে উত্যক্ত করেন। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ কবি সংসদ নামের অনলাইন সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। জুলিয়া ইসলাম জবা ছাড়াও আর-ও বেশ কয়েকজন নারী তাওহীদুল ইসলাম কনকের বিরুদ্ধে প্রমান স্বরুপ স্ক্রিনশট দৈনিক৭১ এর কাছে প্রেরণ করেন।

সকল নারীদের উচিত এই বিষয়ে আরও বেশি সচেতন হওয়া। উত্যক্তকারীদের পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে এভাবে স্ক্রিনশটের সাহায্যে প্রকাশ করা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.




© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।
নির্মান ও ডিজাইন: সুশান্ত কুমার মোবাইল: 01748962840